বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। জানানো হয়েছিল, মূলত দুই দফায় বকেয়া DA পাবেন কর্মীরা। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত বদলে রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দুই দফায় নয় বরং একবারেই 100 শতাংশ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। অর্থ দপ্তরের তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, 31 মার্চের মধ্যেই সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। সেই মতোই, শুরু হয়ে গিয়েছে অর্থ সরবরাহের প্রক্রিয়া।
কত টাকা পাবেন আপনি?
প্রত্যেক পেনশনভোগী প্রথম কিস্তিতেই 2016 সাল থেকে 2019 সাল পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পেয়ে যাবেন। গ্রুপ D এবং পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি দিয়ে দেওয়া হবে সেই অর্থ। তবে যারা A, B এবং C গ্রুপের কর্মী রয়েছেন তাঁদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ঢুকবে PF অ্যাকাউন্টে। বলাই বাহুল্য, গত শুক্রবার থেকে রাজ্য সরকারের তরফে সমস্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী দু দিনের মধ্যেই সেই অর্থ ঢুকে যাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
অনেকেরই প্রশ্ন কীভাবে বা কোন পদ্ধতিতে দেওয়া হবে এই টাকা? বলে রাখি, মহার্ঘ ভাতা মূলত HRMS এর মাধ্যমে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ইনচার্জ ওই অ্যাকাউন্ট দেখভাল করবেন। তিনিই এরিয়ার অথবা সাপ্লিমেন্টারি বিভাগে প্রবেশ করবেন। দেখতে পারবেন টাস্কলিস্ট। সেখান থেকে বিল সামারিতে গিয়ে সাপ্লিমেন্টারি বা এরিয়ার বিল জেনারেশনে গিয়ে বিল জেনারেট করবেন। এরপরই জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে যাবে অর্থ।
এবার আসা যাক বকেয়া মহার্ঘ ভাতা হিসেবে কে কত পাবেন সেই হিসেবে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতার মোট পরিমাণ বের করতে হলে প্রথমেই প্রত্যেক মাসের জন্য সরকারি কর্মীদের বেসিক পে কত সেটা জেনে নিতে হবে। এরপর ব্যান্ড পে ও গ্রেড পে সাথে যোগ করতে হবে। যে শতাংশ আসবে সেটার সাথে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কর্মীর পাওয়া শতাংশের মধ্যে থাকা পার্থক্য বের করতে হবে। প্রত্যেক মাসের মূল বেতনের সঙ্গে ওই পার্থক্যের বা পার্সেন্টেজের গুন করে দিন। এরপর মাসের বকেয়া বের করতে হবে। সবশেষে প্রত্যেক মাসের বকেয়া যোগ করে দিলেই বেরিয়ে যাবে মোট বকেয়া মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ।
অবশ্যই পড়ুন: “ওরা আমাকে কি মারার প্ল্যান করছে!” শাহের মন্তব্যের পর আশঙ্কা মমতার
প্রসঙ্গত, যে সমস্ত সরকারি কর্মীরা পহেলা জানুয়ারি 2016 থেকে 31 ডিসেম্বর 2019 পর্যন্ত ডেপুটেশনে ছিলেন তাদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এখনই হিসেব করছে না রাজ্য সরকার। এর অন্যতম কারণ HRFS সিস্টেমে ডেপুলেশন থাকলে পে ডেটা সরাসরি পাওয়া যায় না। তবে কেউ যদি গ্রুপ D ও C তে প্রমোশন পেয়ে থাকেন এবং তার জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট বাংলার সরকার পরিচালনা করে থাকে তবে তিনি সরাসরি GPF অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন।












