দাম কমবে একাধিক পণ্যের! ভারত-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে হচ্ছে ২০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি

Published:

India New Zealand Trade

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাণিজ্য সম্প্রসারণে এবার আরও একধাপ এগোল ভারত। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে নয়াদিল্লি (India New Zealand Trade)। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে আগামী ২৪ এপ্রিল দিল্লিতে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে বলেই খবর। সংবাদ সংস্থা পিটিআই এর রিপোর্ট বলছে, এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে আগামী ১৫ বছরে ভারতে আনুমানিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, গত বছরের ২২ ডিসেম্বর এই বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হল, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো। এমনকি তা দ্বিগুণে নিয়ে গিয়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। আর দিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপমে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেই দাবি করছে পিটিআই এর রিপোর্ট।

কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে সুবিধা??

প্রথমত, ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যে এবার ইতিবাচক হাওয়া আসছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এই চুক্তির আওতায় নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতের সমস্ত পণ্যের উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, ভারতের পণ্য নিউজিল্যান্ডে রফতানি করতে কোনও রকম ট্যাক্স দিতে হবে না, যা ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল সুবিধা। দ্বিতীয়ত, বিনিময়ে ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে আসা আনুমানিক ৯৫% পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দেবে বা তুলে নিতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে কয়লা, কাঠ, ব্লুবেরির মতো পণ্য। আর নিউজিল্যান্ডের ভেড়ার মাংস এবং বনজ পণ্যগুলোও বিনা শুল্কে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে।

এমনকি ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ডেয়ারি পণ্য যেমন দুধ, দই, চিজ, মাখন এবং পেঁয়াজ, চিনি, মসলা ইত্যাদি ভোজ্য তেলের মতো সংবেদনশীল পণ্যগুলোকেও এই শুল্ক ছাড়ের বাইরে রাখা হচ্ছে। ফলত এই চুক্তির কারণে, দেশীয় দুগ্ধ শিল্পের উপরে কোনও রকম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

আরও পড়ুন: ‘বছরে ৩০০ প্লুটোনিয়াম বোমা তৈরি করবে’, ভারতের পরমাণু খাতের সাফল্যে চিন্তায় পাকিস্তান!

এদিকে পরিষেবা সার্ভিস সেক্টরে এই চুক্তিটি ভারতীয়দের জন্য যে বিশাল আশীর্বাদ হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, নিউজিল্যান্ড প্রতিবছর ৫০০০ ভারতীয় দক্ষ কর্মীকে তিন বছরের জন্য বিশেষ ভিসার সুবিধা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে আয়ুষ চিকিৎসক, যোগ শিক্ষক, ভারতীয় শেফ ও সংগীত শিক্ষকদের পাশাপাশি আইটি ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নির্মাণ শিল্পের পেশাদাররাও সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর এবার তা ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এই চুক্তির আওতায়।

google button