প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আর কিছুদিন পরেই রাজ্য জুড়ে দুই দফায় শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তাই শেষ সময়ে কাজের ব্যস্ততা বেশ বেড়ে গিয়েছে নেতা মন্ত্রীদের। প্রার্থীদের সমর্থনে দলের তরফে জোর কদমে চলছে ভোট প্রচার। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে দলের দেওয়াল লিখন। বিজেপিকে (BJP) নসাৎ করতে শাসকদল (TMC) যেমন উঠে পড়ে লেগেছে, ঠিক তেমনই রাজ্যে বদল চেয়ে পাল্টা জোর দিচ্ছে বিজেপি। এমতাবস্থায় খানাকুলে (Khanakul) দেওয়াল লিখন নিয়ে শুরু হল মহা বিতর্ক।
দেওয়ালে বিজেপি প্রার্থীর নাম মুছে তৃণমূলের নাম!
বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি জেলায় দেওয়াল লিখন নিয়ে কম বেশি বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠে আসতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার দেখা গেল অন্য চিত্র, খোদ বিজেপি নেতা এবার দেওয়ালে বিজেপি প্রার্থীর নাম মুছে তৃণমূলের প্রার্থীর নাম লিখতে বসল। ঘটনাটি ঘটেছে, হাওড়া জেলার আরামবাগ মহকুমার অন্তর্গত খানাকুল বিধানসভায়। সেখানে দেখা গিয়েছে, দেওয়ালে বিজেপি প্রার্থী সুশান্ত ঘোষের নামে লেখা দেওয়াল মুছে দিচ্ছেন দলের এক সক্রিয় নেতা কুশল বটব্যাল। তুমুল শোরগোল এলাকায়।
শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়
কিছুদিন আগেই বিজেপি প্রার্থী সুশান্ত ঘোষের সমর্থনে প্রচারে দেখা গিয়েছিল বিজেপির নেতা কুশল বটব্যালকে। কিন্তু কয়েকদিন যেতেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে গেল। ভিডিওতে ওই বিজেপি নেতা কুশল বটব্যালকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “ধর্ম একটাই, রাজনীতি একটাই, তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ, জয় বাংলা।” যদিও এই ঘটনায় বিজেপি এবং তৃণমূলের তরফে এখনও কারোর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে, এলাকায় নাকি খোদ বিজেপি কর্মীরা নির্বাচনে সুশান্ত ঘোষকে মেনে নিতে পারছে না, রায় এই বিতর্ক। এখন দেখার নির্বাচনের ফলাফলে কী পরিণতি হয়।
আরও পড়ুন: ফিক্সড ডিপোজিটে ৯.২% সুদ, কোথায় করবেন বিনিয়োগ? জানুন সেরা ঠিকানা
উল্লেখ্য, SIR এর কোপে এদিকে যে সকল জেলায় ভোটারদের নাম বেশি বাতিল হয়ে গিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল হুগলি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার ৮১৩ জন। ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে অনেকেই ট্রাইবুনালে মামলা করার জন্য আরামবাগ মহকুমাশাসকের অফিসে নির্বাচনী দপ্তরের সামনে লাইন দিচ্ছেন। এদিকে সেই এলাকাগুলিতে প্রচারে যেতে ভয় পাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থীরা। কেউ মুখে স্বীকার না করলেও যে সব গ্রামে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সেগুলোকে আপাতত এড়িয়ে চলছেন তাঁরা। আর এবার এই দেওয়াল লিখন বিতর্ক ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও বড় আকার ধারণ করল।












