‘উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ের সময় কার্নিভালে মত্ত তৃণমূল!’ শিলিগুড়ি থেকে সরব নরেন্দ্র মোদী

Published:

Narendra Modi

সৌভিক মুখার্জী, শিলিগুড়ি: দোরগোড়ায় বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তবে তার আগেই যেন উত্তাপে ফুটছে উত্তরবঙ্গ। রবিবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালির জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। পাহাড়ের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন আর জাতীয় নিরাপত্তা, সবকিছুকেই হাতিয়ার করে একেবারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুললেন তিনি।

মোদীর নিশানায় দুর্গাপূজার কার্নিভাল

প্রসঙ্গত, গত অক্টোবর মাসে উত্তরবঙ্গে হড়পা বান এবং ধসে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময় কলকাতায় আয়োজিত দুর্গাপূজার কার্নিভালকে হাতিয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে হাহাকার করছে, বিপর্যয়ে জনবিধ্বস্ত জীবনজীবন, ঠিক তখন স্বজনহারাদের চোখের জল মুছতে কেউ ছিল না। তখন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা কলকাতায় উৎসবে মেতে ছিলেন। কার্নিভালে যোগদান করেছিলেন সবাই। এটাই নির্মম সরকারের আসল চেহারা। উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর কলকাতায় এই কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়, যার পরের দিন মুখ্যমন্ত্রী বিপর্যয় কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাকেই এবার রাজনৈতিক অস্ত্র করলেন মোদী।

এদিকে ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন নেকস নিয়ে এবার তৃণমূলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, যারা উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেয় বা শিলিগুড়ি করিডর কেটে ফেলার কথা তোলে, তৃণমূল তাদেরকেই আশ্রয় দিয়ে থাকে। এমনকি ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে দেশের সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূল ছিনিমিনি খেলছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না।

আরও পড়ুন: বিদেশে রয়েছে রেস্তোরাঁ, ছেলেদের জন্য কত সম্পত্তি রেখে গেলেন আশা ভোঁসলে?

এদিকে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের শাসনকাল নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদী বলেছেন যে, এই সরকার দুর্নীতির পাহাড় জমানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যারা জড়িত, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে তাদের পাই টু পাই হিসাব দেবে। এমনকি তৃণমূল তাদের কাজের কোনও হিসাব দিতে পারছে না বলে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করতে রাজনৈতিক হিংসার আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি করেন নরেন্দ্র মোদী।