সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমান যুগে দাড়িয়ে তরুণ প্রজন্ম যখন আকাশছোঁয়া বেতন আর বিলাসবহুল কেরিয়ারের স্বপ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ উল্টো পথ বেছে নিয়ে সকলকে চমকে দিলেন হরিয়ানার (Haryana) নারনৌলের বাসিন্দা পালক। বার্ষিক ২০ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি হাতছানি করে তিনি বেছে নিলেন সন্ন্যাস গ্রহণ বা আধ্যাত্মিকতার কঠিন পথ। আগামী ২৩ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জৈন ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করবেন বলেই খবর (Renunciation of Palak)।
মেধা থেকেই ত্যাগের সফর
দৈনিক জাগরণের রিপোর্ট অনুযায়ী, পালক বরাবরই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী কিড়োড়িমল কলেজ থেকে তিনি গণিত অনার্সে টপার হয়েছিলেন। সম্প্রতি একটি নামিদামি বহুজাগতিক সংস্থায় বার্ষিক ২০ লক্ষ টাকা প্যাকেজের চাকরি পেয়েছিলেন। তবে সেই সুখ তাঁকে খুব বেশি দিন আটকে রাখতে পারেনি। পালকের মতে, জীবনের চরম লক্ষ্য হল শান্তি। আর তা অর্জন করার জন্য মোক্ষ প্রাপ্তি বা সন্ন্যাস গ্রহণই দরকার। সেই কারণেই তিনি বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, যৌন শ্বেতাম্বর স্থানকবাসী সভা সূত্রে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পালক ইতোমধ্যেই গুরুণী ভাগ্যপ্রভা মহারাজের সান্নিধ্যে পৌঁছেছেন। আর আগামী রবিবার সকালে পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়স্বজনদের অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানিয়ে তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। ২৩ এপ্রিল এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই তাঁর দীক্ষা সম্পন্ন হবে। আর দীক্ষার পর আগামী এক বছর তিনি মৌন থেকে জৈন আগম বা ধর্মশাস্ত্রগুলি নিয়েই গভীরভাবে পড়াশোনা করবেন।
আরও পড়ুন: রাজধানী এক্সপ্রেসে দেওয়া ডালে কিলবিল করছে পোকা, অভিযোগ পেয়েই যা করল IRCTC
বলে দিই, জৈন সন্ন্যাসীর জীবনের নিয়মাবলী অন্যান্য ধর্মের তুলনায় অনেকটাই কঠিন। পালকের জীবন এখন থেকে যে নিয়মগুলোতে বাধা পড়বে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— দীক্ষার সময় নিজের হাতের টানে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলতে হবে, যা বছরে দু’বার নিয়ম করে করতে হবে। এমনকি সারা জীবন তিনি কেবলমাত্র খালি পায়েই পথ চলবেন। আর তিনি নিজের হাতে খাবার রান্না করতে পারবেন না। এমনকি কোনও গাছের পাতা ছেঁড়াও তাঁর জন্য নিষিদ্ধ। আর প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে চূড়ান্ত সংযম এবং নিয়মাবলী পালন করতে হবে। সবথেকে বড় ব্যাপার, তাঁর বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল তাঁদের মেয়ে আধ্যাত্মিকতার পথে চলুক। আর সেই স্বপ্নকে সফল করছেন পালক।












