সাম্প্রদায়িক উসকানি, থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগ! হিমন্তর বিরুদ্ধে নালিশ তৃণমূলের

Published:

Himanta Biswa Sarma

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election), রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন শুরু হতে আর বাকি মাত্র ৫ দিন। তাই জোর কদমে প্রচার শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। আর এই আবহে ঘটল আরেক ঘটনা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। কোচবিহারের এক জনসভায় তাঁর করা কিছু মন্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক’ এবং ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শাসক শিবির।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ

তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, গত ১৬ এপ্রিল কোচবিহারের সভায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কুরুচিকর ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছিলেন। এমন কিছু মন্তব্য করেন যা ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং ভোটের পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে সক্ষম। চিঠিতে বলা হয়েছে, তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক ইঙ্গিত ছিল। এমনকি তুলে ধরা হয়েছিল গোমাংস উক্তি।

দৃষ্টান্তমূলক কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি তৃণমূলের

নির্বাচন কমিশনের কাছে করা অভিযোগে তৃণমূলের দাবি, হিমন্ত বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পাচ্ছেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় গোমাংস নিষিদ্ধ হবে। এই মন্তব্যে আইনভঙ্গ হয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র বিরোধী। এছাড়াও চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য সমাজে ঘৃণা ছড়াতে পারে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। তাই কমিশনের কাছে তৃণমূলের আর্জি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য দৃষ্টান্তমূলক কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিজেপি-কে অবিলম্বে শো-কজ নোটিশ পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন: কিছুক্ষণেই কালবৈশাখী, তুমুল বৃষ্টি! কোন কোন জেলায় দুর্যোগ? আবহাওয়ার খবর

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই ধরনের ভাষণ রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেছে শাসকদল তৃণমূল। তাই, পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে অবিলম্বে FIR দায়ের করার ব্যবস্থা করতে হবে বলেও আরজি জানানো হয় কমিশনকে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও বিজেপি বা হেমন্ত বিশ্বশর্মার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এখন দেখার নির্বাচন কমিশন অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়।