প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে বঙ্গ বিজেপি সরকার চালু করেছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana)। আর প্রথম দিনেই এই যোজনার ৩০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা পেলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট (Balurghat) তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী। গতকাল অর্থাৎ ৩ জুন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই সূচনা হয়েছে তহবিল হস্তান্তরের। ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জনের কাছে এই টাকা পৌঁছে যাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পেলেন তৃণমূলের নেত্রী
অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পূর্বতন সরকার যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছিল আজ সেই যোজনা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নামে পরিচিত হয়েছে। এবং আর্থিক ভাতাও ১৫০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০০০। এই যোজনার ফর্ম পূরণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে এলেও সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করে এসেছে। আগামী তিন মাস ধরে ফর্ম ফিলআপ এবং যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলবে। যখন কারও আবেদন আসবে, সঙ্গে সঙ্গে টাকা ঢুকে যাবে অ্যাকাউন্টে। আর এবার সেই যোজনার সুবিধা পেলেন দক্ষিণ দিনাজপুর মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী স্নেহলতা হেমব্রম।
কী বলছেন তৃণমূল সভানেত্রী?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আটটি ব্লক ও তিন পুরসভাতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১১০০ জনের হাতে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতীকী অনুমোদনপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে স্নেহলতা হেমব্রম প্রথম দিনই তিন হাজার টাকা পান। তিনি চকরাম এলাকার বাসিন্দা, তাঁর স্বামী পেশায় কৃষক। তৃণমূল সভানেত্রী জানান, “আমাদের সময়েও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হত। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও সেই টাকা নিত। আমরা সেই সময় রং না দেখেই সকলকে টাকা দিয়েছি। এটাও সরকারি টাকা। আমি পাওয়ার উপযুক্ত, তাই পেয়েছি।”
আরও পড়ুন: “আমি আর রাজনীতি করব না”, জানিয়ে দিলেন প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী
তৃণমূল সভানেত্রীর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাওয়া নিয়ে বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার জানান, “বিজেপি যে কথা দেয় সে কথা রাখে। তা আবারও প্রমাণিত হল। আমাদের সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম দিনেই টাকা পেলেন মহিলা তৃণমূল নেত্রী। সবচেয়ে মজার বিষয় হল এক মাস আগে ভোটের প্রচারের সময় ওঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিথ্যে প্রচার চালিয়েছিলেন। আজ সেই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন।” উল্লেখ্য, গত ১ জুন থেকে এই প্রকল্পের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং ৩ জুন থেকে তহবিল হস্তান্তরের কাজও শুরু করে দিয়েছে সরকার।










