সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: “আমি আর রাজনীতি করব না। মানুষের রায় মেনে নিয়েছি।” জানিয়ে দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী (Snehashis Chakraborty)। এমনিতেই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তার উপর আবার দল ভেঙে খানখান। একের পর এক নেতা, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের হিরিকের মাঝে এবার স্নেহাশীষ চক্রবর্তী নিজেই জানালেন যে, তিনি আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। যার ফলে আরও ঝটকা লাগল ঘাসফুল শিবিরে (Trinamool Congress)।
রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত স্নেহাশীষ চক্রবর্তীর
জানিয়ে দিই, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতা দখল করার পর হুগলির জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন স্নেহাশিষ চক্রবর্তী। এমনকি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ পরপর তিনবার জয়লাভ করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে পরিবহন মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন তৃণমূলের দাপুটে এই নেতা। যদিও ২০২৬ এর নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজেপি প্রার্থী প্রসেনজিৎ বাগের কাছে ৮৬২ ভোটে গো হারা হেরেছেন তিনি।
এদিকে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখল করার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি পরিবহনমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় লাভের থেকে ক্ষতি বেশি হয়েছে। এমনকি সরকারি বাসের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। তবে গতকাল হঠাৎ বিধানসভায় গিয়েছিলেন তিনি। আর সেখানে প্রশ্ন করায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি আর রাজনীতি করবেন না। মানুষের রায় মেনে নিয়েছেন। ফলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, তিনি আর তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না।
আরও পড়ুন: নতুন আবেদনকারীদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩০০০ টাকা কবে ঢুকবে? জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির মাঝেই গতকাল ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিল তিল করে গড়ে তোলা দল। দল বিরোধী কাজ করার অভিযোগে উলুবেরিয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল। তারপরই তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয় নতুন এক তৃণমূল দল, যেখানে ৫৮ জন ঘাসফুলের বিধায়কই আবার সমর্থন করেন। ঋতব্রত এবং তাঁর শিবিরের তৃণমূল বিধায়কদের বিরোধিতার জেরেই বিধানসভায় সবুজ সংকেত দেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। সেই সূত্রে তিনিই এখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর সেই খবরের মাঝেই রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর।










