প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে প্রথমবার বঙ্গভূমিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। ১৫ বছর ধরে চলা মমতার শাসন মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে ভেঙে ফেলে দিল গেরুয়া শিবির। ২০০-র বেশি আসনে জিতে রীতিমত জয়জয়কার রাজ্য জুড়ে। এদিকে ভোটের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই একে একে তৃণমূলের পার্টি অফিস (TMC Party Office) দখলের লড়াইয়ে ক্ষিপ্ত বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। এমতাবস্থায় বর্ধমানে (Bardhaman) তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হল অসংখ্য রেশন কার্ড এবং খামবন্দী প্রচুর বায়োডাটা।
উদ্ধার প্রচুর রেশন কার্ড
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, রাতে বর্ধমানের কালীবাজার রোডে তৃণমূল নেতা উত্তম সেনগুপ্তর পার্টি অফিস ঘেরাও করেছিল বিজেপি কর্মীরা। দরজার তালা ভেঙে ঢুকে পড়েছিল তারা। আর ঢুকতেই অবাক দৃশ্য, পার্টি অফিসের আলমারি থেকে উদ্ধার শয়ে শয়ে রেশন কার্ড। প্রাথমিক অনুমান সেই জাল রেশন কার্ডগুলি নাকি স্থানীয় বাসিন্দাদের নামে তৈরি করা হয়েছে। তবে শুধু রেশন কার্ড নয়, উদ্ধার হয়েছে বহু সরকারি ফাইল। এছাড়াও অফিসের ড্রয়ার থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে খামবন্দী প্রচুর বায়োডাটা, যাঁরা চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। তুমুল ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি India Hood।
তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর
বিজেপি কর্মী সমর্থকদের অভিযোগ এই রেশন কার্ডের মাধ্যমে রেষণ চুরি করত তৃণমূলের কর্মীরা, আর সেই টাকায় নেশাদ্রব্য জিনিস কেনাকাটি করা হত। এছাড়াও তৃণমূল নেতা উত্তম সেনগুপ্তর বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন তারা। তবে তৃণমূলের তরফে এই ঘটনা প্রসঙ্গে এখনও কিছু জানানো হয়নি। এদিকে নথি উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে বর্ধমান শহরে। অন্যদিকে, বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামনে উঠে আসছে। খড়্গপুরেও একাধিক এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: পুনর্গণনাতেই বাজিমাত, বাংলায় আরও একটি আসন বাড়ল বিজেপির
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার বার্তা দিয়েছে যে, কোনও বদলা নয়, বদল চাই। কমিশনও জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা যাবে না। কিন্তু রেজাল্ট আউট হতেই জেলায় জেলায় অশান্তির খবর মিলছে। টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস পরাজিত হতেই তাঁর পার্টি অফিস দখল করে নিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূলের পতাকা খুলে লাগানো হয়েছিল বিজেপির পতাকা। অন্যদিকে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।










