সোনা কেনা বন্ধ করুন, ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ! কেন এমন বললেন প্রধানমন্ত্রী?

Published:

Narendra Modi

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাড়িতে থেকেই কাজ করুন। পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস ব্যবহার কমান। সোনা, রুপো কেনা বন্ধ করুন। হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আবারও দেশবাসীর প্রতি এরকম আর্জি জানালেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) পরিস্থিতির কথা বলে তিনি করোনা কালের সেই পরিস্থিতি স্মরণ করালেন। যেহেতু বিদেশ থেকে ভারতকে তেল, গ্যাস, রাসায়নিক সার সবকিছুই আমদানি করতে হয়, তাই এবার বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারেই পড়ছে টান। এই কারণেই দেশবাসীকে সজাগ থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি স্পষ্ট বলেছেন, বাড়িতে যে কোনও অনুষ্ঠান হোক না কেন, এক বছর ধরে কোনও সোনার গয়না কিনবেন না। কৃষকদের চাষের জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহারও তিনি অর্ধেকে নামিয়ে আনার আর্জি জানিয়েছেন। অযথা পেট্রোল-ডিজেল নষ্ট না করার অনুরোধ করেন তিনি। রবিবার তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদে এক সভায় বক্তৃতা দিতে গেয়ে এরকম সুর শোনা যায় মোদীর গলায়। তাঁর কথায়, ভারতকে পেট্রোল-ডিজেল বা এলপিজি, সবকিছু অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে যুদ্ধের ফলে গোটা দেশে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। যার কারণে দামও ঊর্ধ্বগতি।

পেট্রোল-ডিজেল ব্যবহার কমানোর আর্জি মোদীর

এদিন সভা থেকে মোদী বলেন, পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার অনেকটাই কমাতে হবে। শহরে যদি মেট্রো থাকে, তাহলে মেট্রো ব্যবহার করতে হবে। অযথা বাইক বা গাড়িতে যাতায়াত বন্ধ করতে হবে। কারও যদি কোনও পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠাতে হয়, তাহলে মালগাড়িতে পাঠান। পেট্রোল-ডিজেল চালিত গাড়ির থেকে রেল পরিষেবাকে বেশি প্রাধান্য দিন। এমনকি রান্নার গ্যাস ব্যবহার নিয়েও সংযত থাকার কথা বলেছেন মোদী। পাশাপাশি তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।

সোনার গয়না কেনা বন্ধের অনুরোধ

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সোনার গয়না কেনা কমানোর আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অনুরোধ করেছেন, বাড়িতে যে কোনও অনুষ্ঠান হোক না কেন, আগামী এক বছর কোনও সোনার গয়না কেনা চলবে না। তাঁর কথায়, সোনা কিনতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। এরকম সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলে লোক সোনা দান করে দিত। তবে এখন দান করার কোনও দরকার নেই। মোদী জানিয়েছেন, এক সময় ভারত থেকে বিদেশে তামা রফতানি করা হতো। তবে এখন তামাও সেই বিদেশ থেকে কিনতে হয়। যার জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। তাই সেই বিষয়ের উপর নজর রাখতে হবে।

ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার নির্দেশ

করোনা মহামারীর সময় যেমন মানুষ অফিসের বদলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করত, এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই একই আর্জি জানালেন দেশবাসীকে। তিনি বলেছেন, আমরা করানোর সময় প্ল্যাটফর্ম বেস কাজ করেছি। অনলাইনে মিটিং বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজ করেছি। এই ব্যবস্থা যদি আবারও শুরু করা যায়, তাহলে দেশের উপকার হবে। আর যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বাঁচানোর জন্য জোর দিতে হবে। গোটা বিশ্বজুড়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে। তাই পেট্রোল ডিজেল কেনা কমিয়েই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বাঁচাতে হবে।

বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

মোদী এক বছর দেশবাসীকে বিদেশ ভ্রমণে যেতে বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, কারও যদি বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে এক বছরের জন্য তা পিছিয়ে নিতে। তাঁর কথায়, এখনকার সময় মধ্যবিত্তরা বিদেশে গিয়ে বিয়ে করছে। বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছে। তবে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আমাদের একটু সংযম থাকতে হবে। আগামী এক বছর দেশের মধ্যেই যা করার করুন। বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানোর জন্য এর থেকে বড় উপায় আর নেই।

রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে হবে

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ঠিক রাখার জন্য কৃষকদের রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মোদী বলেছেন, রাসায়নিক সারের যত চাহিদা রয়েছে তার অর্ধকে নামিয়ে আনতে। কারণ, বেশিরভাগ রাসায়নিক সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারের উপরেই প্রচুর চাপ পড়ছে।

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গবাসীকে উপহার, ৯ রুটের প্রকল্পে ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রেল

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে রান্নার তেল ব্যবহার কমিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রান্নায় অন্তত ১০% তেল কম ব্যবহার করার চেষ্টা করতে। কারণ, ভোজ্য তেলও বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তা যদি ১০ শতাংশ ব্যবহার কমে, তাহলে অনেকটাই সুরহা হবে।