বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতীয় বাসমতি চালের (Indian Basmati Rice) চাহিদা রয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশে। সেই তালিকায় প্রথম সারিতে আসে সৌদি আরবের নাম। প্রত্যেক বছর বিপুল পরিমাণ বাসমতি চাল রপ্তানি হয় এই দেশটিতে। যার জেরে বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাসমতি চালের ক্রেতা সৌদি। কিন্তু কেন এই বন্ধু দেশটিতেই সবচেয়ে বেশি চাল পাঠায় নয়া দিল্লি? ঠিক কোন কারণে ভারতীয় বাসমতি চাল এত পছন্দ করেন সৌদি আরবের মানুষজন? আজকের প্রতিবেদন রইল সেই সব তথ্য।
কীভাবে ভারতীয় চালের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে উঠল সৌদি আরব?
2024-25 আর্থিক বছরে, ভারত বিশ্বের 154টি দেশে 60.65 লক্ষ মেট্রিক টন বাসমতি চাল রপ্তানি করেছিল। যার দাম ছিল 50,312 কোটি টাকা। এ থেকে বোঝাই যায়, বিশ্বের বাজারে ভারতীয় বাসমতি চালের চাহিদা কতটা। 2024-25 আর্থিক বছরে ভারতীয় বাসমতি চালের শীর্ষ 5 আমদানিকারক দেশ ছিল সৌদি আরব, ইরাক, ইরান ইয়েমেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। এই পাঁচ দেশে একসাথে প্রায় 37.14 লক্ষ মেট্রিক টন ভারতীয় বাসমতি চাল রপ্তানি করা হয়েছিল। যা ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় 61 শতাংশ।
এবার আসা যাক আসল প্রসঙ্গে। সৌদি আরব 2024-25 আর্থিক বছরে ভারত থেকে প্রায় 11.73 লক্ষ মেট্রিক টন বাসমতি চাল একাই কিনেছিল। যা অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় অনেকটাই বেশি। আসলে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় বাসমতি চালের জনপ্রিয়তা বেড়েছে সৌদি আরবে। ভারতীয় চালটির গুণমান এবং গন্ধ সে দেশের মানুষ বড় পছন্দ করেন। তাই চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিগত দিনগুলিতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বাসমতি চাল আমদানি করেছে সৌদি আরব। এভাবেই ভারতের সবচেয়ে বড় বাসমতি চালের ক্রেতা হয়ে উঠেছে তারা।
এই 5 কারণে ভারতীয় চালের সবচেয়ে বড় ক্রেতা সৌদি আরব
সুগন্ধ এবং বাসমতি চালের স্বাদ
ভারতীয় বাসমতি চালের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সুগন্ধ। সৌদি আরবের জনগণ এই চালটিকে স্বাদ এবং সুগন্ধের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব দেয়। প্রতিদিনের খাওয়া হোক কিংবা অনুষ্ঠান সবেতেই সৌদি আরবের পরিবার গুলিতে ব্যবহৃত হয় ভারতীয় বাসমতি চাল। বিশেষ করে বিরিয়ানি ও ফ্রাইড রাইসের মতো পদ তৈরির সময় এই চাল ব্যবহার করে থাকেন সৌদির বাসিন্দারা।
সৌদি আরবের রন্ধন প্রণালীর সাথে মিল
সৌদি আরবের বাসিন্দাদের অনেকেরই প্রতিদিনের খাবারে থাকে ভাত। আসলে চালভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের পদ রান্না হয় সে দেশের পরিবারগুলিতে। তাছাড়াও বিভিন্ন পারিবারিক ভোজ, বিবাহ, রমজান বা হোটেলের মেনুতে বাসমতি চালের নানান আইটেম থাকে। ভারতীয় বাসমতি চালটি মটন, মুরগির মাংস এমনকি মসলাদার যে কোনও খাবারের সাথে খুব ভাল যায়। এক কথায়, সে দেশের রন্ধন প্রণালীর সাথে মিল থাকার কারণেই এই চালটির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি সৌদি আরবে।
ভারতীয় গুণমানের উপর বিশ্বাস
ভারত বহু পুরনো চাল উৎপাদনকারী এবং রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বের বহু দেশ ভারত থেকে নিয়মিত চাল আমদানি করে আসছে। এই তালিকায় রয়েছে সৌদি আরবও। আসলে ভারতীয় চালের গুণমানতা এবং নয়া দিল্লির উপর বিশ্বাস থেকেই ভারতীয় বাসমতি চাল সবচেয়ে বেশি আমদানি করে সৌদি। এক কথায়, ভারতীয় চালের গুণমান নিয়ে সে দেশের বাসিন্দাদের মধ্যে কোনও সংশয় নেই।
সৌদিতে ভারতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের বাস
কমবেশি সকলেই জানেন, সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক ভারতীয়, পাকিস্তানি, বাংলাদেশী এবং দক্ষিণ এশিয়ারা অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দারা বসবাস করেন। আর তাঁদের ভারতীয় বাসমতি চাল খুব পছন্দের। এই পরিবার গুলির বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই রান্না হয় বাসমতি চাল। সে কারণেই স্বাভাবিকভাবে চাহিদা থেকেই ভারতীয় বাসমতি চাল আমদানি করতে হয় সৌদি আরবকে।
অবশ্যই পড়ুন: আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে কোন কোন চিকিৎসা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে? দেখে রাখুন
পঞ্চম বিশেষ কারণ
স্বাদ এবং সুগন্ধের পাশাপাশি ভারতীয় বাসমতি চালের নিয়মিত সরবরাহের কারণেই সে দেশে এই স্বদেশী বাসমতি চালটির রমরমা সবচেয়ে বেশি।। আজ পর্যন্ত খুব সমস্যা না হলে ভারত সৌদি আরবে চাল পাঠানো বন্ধ করেনি। বরং বিগত দিনগুলিতে সৌদি আরবে চাল রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে। এক কথায়, সৌদি আরব ভারতীয় ব্যবসায়ীদের উপর বিশ্বাস রেখেছে। তাঁদের ভরসা, যাই হয়ে যাক ভারত বাসমতি চালের সরবরাহ ঠিক রাখবে। আর এই বিশ্বাস থেকেই বিগত দিনগুলিতে ভারতীয় চালের উপর নির্ভরতা বেড়েছে সৌদির মানুষজনের।










