সরকারের এই এক সিদ্ধান্তে আইফোন থেকে অ্যান্ড্রয়েড, দাম কমতে পারে সব স্মার্টফোনের

Published:

Smartphone

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: স্মার্টফোন (Smartphone) কেনার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আপনার জন্য রইল বড় খবর। স্মার্টফোন এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহৃত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের উপর থেকে সম্প্রতি আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। যার ফলে ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যদিও দাম খুব বেশি না কমলেও অন্তত দ্রুত হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোন কোন যন্ত্রাংশে মিলবে শুল্ক ছাড়?

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্মার্টফোন এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পনেন্ট আর যন্ত্রপাতির উপর থাকা 5 শতাংশ ও 7.5 শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর এই ছাড়ের তালিকায় রয়েছে ওয়ারলেস চার্জিং-র জন্য ব্যবহৃত ইন্ডাক্টর কয়েল মডিউল, ডিসপ্লে অ্যাসেম্বলির বিভিন্ন কম্পনেন্ট, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি সেলের উপাদান এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রপাতি। এমনকি সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সুবিধা 31 মার্চ 2029 পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।

তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে Apple থেকে শুরু করে Samsung, Xiaomi, Vivo, OPPO, Realme সহ বেশ কিছু স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থা অনেকটাই উপকৃত হবে। কারণ, এই সংস্থাগুলি স্মার্টফোন তৈরির জন্য যে সমস্ত যন্ত্রাংশ আমদানি করে তার উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে। যার ফলে ভবিষ্যতে নতুন মডেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলির উপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে, এবং এর সুরহা পাবে গ্রাহকরা।

আরও পড়ুন: ‘মৃত্যুর ভয় করিনা’, বাংলাদেশে ফেরার দিনক্ষণ জানালেন শেখ হাসিনা

যদিও দাম সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে এরকম কোনও নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের সবথেকে বড় প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ এর মূল্যবৃদ্ধির উপরে। গত কয়েক মাসের আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপ, র‍্যাম এবং স্টোরেজের দাম অনেকটাই বেড়েছে। যার ফলে অধিকাংশ স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থা বাধ্য হয়ে ফোনের দাম বাড়িয়েছে, অথবা একই দামে কম র‍্যাম এবং স্টোরেজ দেওয়া শুরু করেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আমদানি শুল্ক কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ের একটা অংশ কমবে, যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি রুখতে সহায়তা করবে। আর যেহেতু বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে মেমোরির চাহিদা গত দেড় বছরে বহুগুণ বেড়েছে। সেই কারণে এমনিতেই স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচ বেড়েছে, এবং তার প্রভাব পড়ছে বাজারদরের উপরেই।