সৌভিক মুখার্জী, মুর্শিদাবাদ: বর্ষায় নদী ভাঙন রুখতে বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। আজ মুর্শিদাবাদে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই একধাক্কায় ৩৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হল। আসলে মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বর্ষাকালে নদী ভাঙনের মুখে পড়ে। প্রতি বছরই গঙ্গা ও ভাগীরথী প্লাবিত হতে ভাঙনের কারণে কৃষিজমি থেকে বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং হাজার হাজার মানুষ বসতি হারা হয়। সেই কারণেই মানবিক উদ্যোগ রাজ্য সরকারের।
৩৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ মালদা-মুর্শিদাবাদে
এদিন মুর্শিদাবাদ সফরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই বর্ষার সময় নদী ভাঙন নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মালদা ও মুর্শিদাবাদ এই দুই জেলার ভাঙন রোধে এবার ৩৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দর প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট বলেন, এ বছর ইতিমধ্যেই বর্ষা চলে এসেছে। আগামী বছরের মধ্যেই এই দুই জেলা ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ এই দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার উপর দিয়েই গঙ্গা, ভাগীরথী সহ একাধিক নদী বয়ে গিয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে বর্ষার সময় এই এলাকা জলমগ্ন হয়ে বিপাকে পড়ে। বহু মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়। এমনকি বিঘার পর বিঘা চাষের জমি নদীগর্ভে চলে যায় বর্ষার সময়। তবে আগের সরকারের আমলে এই সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলেই অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু রাজ্যে এবার ডাবল ইঞ্জিন সরকার। মাত্র দুই মাসেই উন্নয়ন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে রাজ্যবাসী। সেই সূত্র ধরেই এবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুর্শিদাবাদ আর মালদহের ভাঙন রোধে ৩৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ তবে কেন্দ্র। বাকিটা রাজ্য দেবে। খুব শীঘ্রই এই সমস্যা সমাধান হবে।
আরও পড়ুন: লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে নাবালিকার আত্মহত্যার অভিযোগ! রণক্ষেত্র বনগাঁ, আহত পুলিশও
তবে শুধু নদী ভাঙন নয়, বরং এদিন সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি তিনি পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদে এখনও পর্যন্ত ৬৯ জন অনুপ্রবেশকারীকে ধরা হয়েছে, এবং তাদেরকে বিএসএফ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও অন্যান্য জেলায় তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। সেক্ষেত্রে বিএসএফ-র এর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে আরও নিবিড় যোগাযোগ রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।










