পঞ্চমুখী হনুমান কবচ (Panchmukhi Hanuman Kavach in Bengali) হল শ্রী হনুমানের ৫টি অমোঘ রূপ (বানর, নৃসিংহ, গরুড়, বরাহ ও হয়গ্রীব)-এর মহামন্ত্র ও প্রতিরক্ষামূলক অজেয় কবচ। সর্বপ্রকার কুদৃষ্টি, তন্ত্রবাধা, শত্রুভয় ও ভয়ানক ব্যাধি থেকে রক্ষা পেতে এই কবচ পাঠ পরম সিদ্ধ।
শ্রী পঞ্চমুখী হনুমান কবচ হল বিনিয়োগ, ধ্যান, মূল স্তোত্র, ৫টি রূপের মহামন্ত্র ও সংপুটিত বীজাক্ষর সম্বলিত পরম অজেয় প্রতিরক্ষা স্তোত্র। নিচে সম্পূর্ণ পাঠ তুলে ধরা হলো:
|
ওঁ অস্য শ্রী পঞ্চমুখ হনুমন্মন্ত্রস্য ব্রহ্মা ঋষিঃ গায়ত্রী ছন্দঃ
পঞ্চমুখ বিরাট হনুমান দেবতা। হ্রীঁ বীজম্ । শ্রীঁ শক্তিঃ। ক্রোঁ কীলকম্। ক্রূঁ কবচম্ । ক্রৈঁ অস্ত্রায় ফট্। ইতি দিগ্বন্ধঃ । |
|
অথ ধ্যানং প্রবক্ষ্যামি শৃণু সর্বাঙ্গসুন্দর ।
যৎকৃতং দেবদেবেন ধ্যানং হনুমতঃ প্রিয়ম্ ॥ ১ ॥ |
|
পঞ্চবক্ত্রং মহাভাবং ত্রিপঞ্চনয়নৈর্যুতম্ ।
বাহুভির্দশভির্যুক্তং সর্বকামার্থসিদ্ধিদম্ ॥ ২ ॥ |
|
পূর্বং তু বানরং বক্ত্রং কোটিসূর্যসমপ্রভম্ ।
দংষ্ট্রাকরালবদানং ভ্রুকুটি কুটিলেক্ষণম্ ॥ ৩ ॥ |
|
অস্যৈব দক্ষিণং বক্ত্রং নারসিংহং মহাদ্ভুতম্ ।
অত্যুগ্রতেজোবপুষং ভীষণং ভয়নাশনম্ ॥ ৪ ॥ |
|
পশ্চিমং গারুডং বক্ত্রং বক্রতুণ্ডং মহাবলম্ ।
সর্বনাগপ্রশমনং বিষভূতাদিকৃন্তনম্ ॥ ৫ ॥ |
|
উত্তরং সৌকরং বক্ত্রং কৃষ্ণং দীপ্তং নভোপমম্ ।
পাতালসিংহবেতালজ্বররোগাদিকৃন্তনম্ ॥ ৬ ॥ |
|
ঊর্ধ্বং হয়াননং ঘোরং দানবান্তকরং পরম্ ।
যেন বক্ত্রেণ বিপ্রেন্দ্র তারকাখ্যং মহাসুরম্ ॥ ৭ ॥ জঘান শরণং তস্মাৎ সর্বশত্রুনিবারণম্ পরম্ । ধ্যাত্বা পঞ্চমুখং রুদ্রং হনুমন্তং দয়ানিধিম্ ॥ ৮ ॥ |
|
খড়্গং ত্রিশূলং খট্বাঙ্কং পাশমঙ্কুশপর্বতম্ ।
মুষ্টিং কৌ মোদকীং বৃক্ষং ধারয়ন্তং কমণ্ডলুম্ ॥ ৯ ॥ ভিন্দিপালং জ্ঞানমুদ্রাং দশভির্মুনিপুঙ্কবম্ । এতান্যায়ুধজালানি ধারয়ন্তং ভজাম্যহম্ ॥ ১০ ॥ |
|
প্রেতাসনোপবিষ্টং তং সর্বাভরণভূষিতম্ ।
দিব্যমাল্যাম্বরধরং দিব্যগন্ধানুলেপনম্ । সর্বাশ্চর্যময়ং দেবং হনুমদ্বিশ্বতোমুখম্ ॥ ১১ ॥ |
|
পঞ্চাস্যমচ্যুতমনেকবিচিত্রবর্ণবক্ত্রং শশাঙ্কশিখরং কপিরাজবর্যম্ ।
পীতাম্বরাদিমুকুটৈ রূপ শোভিতাঙ্গং পিঙ্গাক্ষমাদ্যমনিশং মনসা স্মরামি ॥ ১২ ॥ |
|
মর্কটেশং মহোৎসাহং সর্বশত্রুনিবারণম্ পরম্ ।
শত্রুং সংহর মাং রক্ষ শ্রীমন্নাপদমুদ্ধর ॥ ১৩ ॥ |
|
ওঁ হরিমর্কট মর্কট মন্ত্রমিদং পরিলিখ্যতি লিখ্যতি বামতলে ।
যদি নশ্যতি নশ্যতি শত্রুকুলং যদি মুঞ্চতি মুঞ্চতি বামলতা ॥ ওঁ হরিমর্কটায় স্বাহা ॥ ১৪ ॥ |
|
১. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় পূর্বকপিমুখায় সকলশত্রুসংহারকায় স্বাহা ।
২. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় দক্ষিণমুখায় করালবদনায় নরসিংহায় সকলভূতপ্রমথনায় স্বাহা । ৩. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় পশ্চিমমুখায় গরুড়াননায় সকলবিষহরায় স্বাহা । ৪. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় উত্তরমুখায় আদিবরাহায় সকলসম্পৎকরায় স্বাহা । ৫. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় ঊর্ধ্বমুখায় হয়গ্রীবায় সকলজনবশকারকায় স্বাহা ॥ |
|
॥ অথ করন্যাসঃ ॥
ওঁ অঞ্জনীসুতায় অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ । ওঁ রুদ্রমূর্তয়ে তর্জনীভ্যাং নমঃ । ওঁ বায়ুপুত্ র ায় মধ্যমাভ্যাং নমঃ । ওঁ অগ্নিগর্ভায় অনামিকাভ্যাং নমঃ । ওঁ রামদূতায় কনিষ্ঠিকাভ্যাং নমঃ । ওঁ পঞ্চমুখহনুমতে করতলকরপৃষ্ঠাভ্যাং নমঃ । ॥ অথ অঙ্গন্যাসঃ ॥ ওঁ অঞ্জনীসুতায় হৃদয়ে নমঃ । ওঁ রুদ্রমূর্তয়ে শিরসে স্বাহা । ওঁ বায়ুপুত্ র ায় শিখায়ৈ বষট্ । ওঁ অগ্নিগর্ভায় কবচায় হুম্ । ওঁ রামদূতায় নেত্রত্রয়ায় বৌষট্ । ওঁ পঞ্চমুখহনুমতে অস্ত্রায় ফট্ । পঞ্চমুখহনুমতে স্বাহা ইতি দিগ্বন্ধঃ ॥ |
|
ওঁ শ্রীরামদূতায় অঞ্জনীয়ায় বায়ুপুত্রায় মহাবল পরাক্রমায় সীতা দুঃখ নিবারণায় লঙ্কাদাহনায় মারুতি রুদ্রাত্মকায় হুং ফট্ স্বাহা ।
ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় বম্বম্বম্বম্বং বৌষট্ স্বাহা (অগ্নি স্তম্ভন) । ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় ফম্ফম্ফম্ফম্ফং ফট্ স্বাহা (রোগ নাশ) । ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় খেঙ্খেঙ্খেঙ্খেঙ্খেঁ মারণায় স্বাহা (শত্রু মারণ) । ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় লুংলুংলুংলুংলুং আকর্ষিতসকলসম্পৎকরায় স্বাহা (সম্পত্তি আকর্ষণ) । ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় ধন্ধন্ধন্ধন্ধং শত্রুস্তম্ভনায় স্বাহা (শত্রু স্তম্ভন) । ওঁ টণ্টণ্টণ্টণ্টং কূর্মমূর্তয়ে পরযন্ত্র পরতন্ত্রোচ্চাটনায় স্বাহা ॥ (পরতন্ত্র উচ্চাটন) |
|
ইদং কবচং পঠিত্বা তু মহাকবচং পঠেন্নরঃ ।
একবারং জপেৎ স্তোত্রং সর্বশত্রুনিবারণম্ । দ্বিবারং তু পঠেন্নিত্যং পুত্রপৌত্রপ্রবর্ধনম্ । ত্রিবারং তু পঠেন্নিত্যং সর্বসম্পৎকরং শুভম্ । চতুর্বারং পঠেন্নিত্যং সর্বরোগনিবারণম্ । পঞ্চবারং পঠেন্নিত্যং সর্বলোকবশঙ্করম্ । ষড়্বোবারং পঠেন্নিত্যং সর্বদেববশঙ্করম্ । সপ্তবারং পঠেন্নিত্যং সর্বসৌভাগ্যদায়কম্ । অষ্টবারং পঠেন্নিত্যং ইষ্টকামার্থসিদ্ধিদম্ । নববারং পঠেন্নিত্যং রাজভোগমবাপ্নুয়াৎ । দশবারং পঠেন্নিত্যং ত্রৈলোক্যজ্ঞানবর্ধনম্ । একাদশবারং জপেন্নিত্যং সর্বসিদ্ধিমবাপ্নুয়াৎ ॥ |
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏
শ্রী পঞ্চমুখী হনুমান কবচের শ্লোক, বীজাক্ষর ও ফলশ্রুতির বাংলা অর্থ ও ব্যাখ্যা নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| বিনিয়োগ | ওঁ অস্য শ্রী পঞ্চমুখ হনুমন্মন্ত্রস্য ব্রহ্মা ঋষিঃ । গায়ত্রী ছন্দঃ । পঞ্চমুখ-বিরাট হনুমান্ দেবতা । হ্রীঁ বীজম্ । শ্রীঁ শক্তিঃ । ক্রোঁ কীলকম্ । ক্রূঁ কবচম্ । ক্রৈঁ অস্ত্রায় ফট্ । ইতি দিগ্বন্ধঃ ॥ | এই পঞ্চমুখী হনুমৎ কবচ স্তোত্রের ঋষি হলেন ব্রহ্মা, ছন্দ গায়ত্রী, দেবতা পঞ্চমুখ বিরাট হনুমান, 'হ্রীঁ' বীজ, 'শ্রীঁ' শক্তি, 'ক্রোঁ' কীলক, 'ক্রূঁ' কবচ এবং 'ক্রৈঁ অস্ত্রায় ফট্' হলো দশাংশের নিরাপত্তা বলয় (দিগ্বন্ধ)। |
| ১ | অথ ধ্যানং প্রবক্ষ্যামি শৃণু সর্বাঙ্গসুন্দর । যৎকৃতং দেবদেবেন ধ্যানং হনুমতঃ প্রিয়ম্ ॥ | শ্রী গরুড়দেব বললেন— হে সর্বাঙ্গ সুন্দর সাধক! দেবাধিদেব মহাদেব রচিত এবং হনুমানজির অত্যন্ত প্রিয় ধ্যান স্তোত্র আমি বর্ণনা করছি, মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো। |
| ২ | পঞ্চবক্ত্রং মহাভাবং ত্রিপঞ্চনয়নৈর্যুতম্ । বাহুভির্দশভির্যুক্তং সর্বকামার্থসিদ্ধিদম্ ॥ | ভগবান পঞ্চমুখী হনুমানজির ৫টি বিশাল মুখ, ১৫টি (৩x৫) দিব্য নেত্র এবং ১০টি বিশাল হাত রয়েছে। তিনি সাধকের ধর্ম, অর্থ, কাজ ও মোক্ষ—সমস্ত পুরুষার্থ সিদ্ধকারী। |
| ৩ | পূর্বং তু বানরং বক্ত্রং কোটিসূর্যসমপ্রভম্ । দংষ্ট্রাকরালবদানং ভ্রুকুটি কুটিলেক্ষণম্ ॥ | পূর্ব মুখ (বানর রূপ): কোটি সূর্যের সমান তেজস্বী। এর তীক্ষ্ণ ভয়াল দন্ত ও বাঁকা ভ্রু শত্রুকুল বিনাশকারী। |
| ৪ | অস্যৈব দক্ষিণং বক্ত্রং নারসিংহং মহাদ্ভুতম্ । অত্যুগ্রতেজোবপুষং ভীষণং ভয়নাশনম্ ॥ | দক্ষিণ মুখ (নৃসিংহ রূপ): অত্যন্ত অলৌকিক ও উগ্র তেজযুক্ত। শত্রুদের জন্য অতীব ভীষণ কিন্তু সাধকদের সর্ব ভয়, ভূত-প্রেত ও মানসিক ব্যাধি নাশ করে। |
| ৫ | পশ্চিমং গারুডং বক্ত্রং বক্রতুণ্ডং মহাবলম্ । সর্বনাগপ্রশমনং বিষভূতাদিকৃন্তনম্ ॥ | পশ্চিম মুখ (গরুড় রূপ): বাঁকানো ঠোঁটযুক্ত অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ। এটি সকল সর্পদোষ (নাগবাধা), বিষক্রিয়া, নজরদোষ ও ভূত বাধা ধ্বংস করে। |
| ৬ | উত্তরং সৌকরং বক্ত্রং কৃষ্ণং দীপ্তং নভোপমম্ । পাতালসিংহবেতালজ্বররোগাদিকৃন্তনম্ ॥ | উত্তর মুখ (বরাহ রূপ): কৃষ্ণ মেঘের ন্যায় দীপ্তিমান। এটি পাতালের নেতিবাচক শক্তি, বেতাল, শারীরিক জ্বর, অসাধ্য রোগ ও শারীরিক কষ্ট দূর করে। |
| ৭-৮ | ঊর্ধ্বং হয়াননং ঘোরং দানবান্তকরং পরম্ । যেন বক্ত্রেণ বিপ্রেন্দ্র তারকাখ্যং মহাসুরম্ ॥ জঘান শরণং তস্মাৎ সর্বশত্রুনিবারণম্ পরম্ । ধ্যাত্বা পঞ্চমুখং রুদ্রং হনুমন্তং দয়ানিধিম্ ॥ | উর্ধ্ব মুখ (হয়গ্রীব রূপ): অশ্বের মুখযুক্ত পরম তেজস্বী রূপ, যা দানব নাশকারী। এই রূপেই তারকাসুর মহাদৈত্য বধ হয়েছিল। দয়া নিধি রুদ্র রূপ হনুমানজি সর্ব শত্রু সংহারকারী পরম রক্ষক। |
| ৯-১০ | খড়্গং ত্রিশূলং খট্বাঙ্কং পাশমঙ্কুশপর্বতম্ । মুষ্টিং কৌ মোদকীং বৃক্ষং ধারয়ন্তং কমণ্ডলুম্ ॥ ভিন্দিপালং জ্ঞানমুদ্রাং দশভির্মুনিপুঙ্কবম্ । এতান্যায়ুধজালানি ধারয়ন্তং ভজাম্যহম্ ॥ | ভগবান হনুমানজি তাঁর ১০টি হাতে তরবারি, ত্রিশূল, খট্বাঙ্গ, পাশ, অঙ্কুশ, পর্বত, মুষ্টি, কৌ মোদকী গদা, বৃক্ষ, কমণ্ডলু, ভিন্দিপাল এবং ১০ম জ্ঞানমুদ্রা ধারণ করে আছেন। |
| ১১ | প্রেতাসনোপবিষ্টং তং সর্বাভরণভূষিতম্ । দিব্যমাল্যাম্বরধরং দিব্যগন্ধানুলেপনম্ । সর্বাশ্চর্যময়ং দেবং হনুমদ্বিশ্বতোমুখম্ ॥ | শ্রী হনুমানজি প্রেতাসনে উপবিষ্ট, দিব্য অলঙ্কারে ভূষিত। তিনি দিব্য মালা, পীতাম্বর ও দিব্য সুগন্ধি লেপ ধারণ করে আছেন যা সকল বাধা দূর করে। |
| ১২ | পঞ্চাস্যমচ্যুতমনেকবিচিত্রবর্ণবক্ত্রং শশাঙ্কশিখরং কপিরাজবর্যম্ । পীতাম্বরাদিমুকুটৈ রূপ শোভিতাঙ্গং পিঙ্গাক্ষমাদ্যমনিশং মনসা স্মরামি ॥ | পঞ্চ মুখ (পঞ্চাস্য), অচ্যুত, বহু আশ্চর্যজনক বর্ণযুক্ত মুখ, মস্তকে চন্দ্রধারী কপীশ্বর হনুমানজির আমরা ধ্যান করি। পীতাম্বর ও মুকুট শোভিত পিঙ্গলাক্ষ হনুমানজিকে অন্তরে স্মরণ করি। |
| ১৩ | মর্কটেশং মহোৎসাহং সর্বশত্রুনিবারণম্ পরম্ । শত্রুং সংহর মাং রক্ষ শ্রীমন্নাপদমুদ্ধর ॥ | হে কপীশ্বর! প্রচণ্ড উৎসাহী মহাবীর হনুমানজি! আপনি সর্ব শত্রু সংহারক। হে শ্রীমন্ পঞ্চমুখ-হনুমানজি! আমার শত্রুদের বিনাশ করুন, আমাকে রক্ষা করুন এবং বিপদ থেকে উদ্ধার করুন। |
| ১৪ | ওঁ হরিমর্কট মর্কট মন্ত্রমিদং পরিলিখ্যতি লিখ্যতি বামতলে । যদি নশ্যতি নশ্যতি শত্রুকুলং যদি মুঞ্চতি মুঞ্চতি বামলতা ॥ ওঁ হরিমর্কটায় স্বাহা ॥ | মহাপ্রাণ হনুমানজির বাম পায়ের তলায় 'ওঁ হরিমর্কটায় স্বাহা' মন্ত্র স্মরণে শুধু শত্রু নয়, শত্রুকুল বিনষ্ট হয়। হনুমানজি সমস্ত তামসিক বৃত্তি সমূলে বিনষ্ট করেন। |
| মন্ত্র | পঞ্চমুখ মন্ত্রা (৫টি মুখের মন্ত্র): ১. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় পূর্বকপিমুখায় সকলশত্রুসংহারকায় স্বাহা । ২. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় দক্ষিণমুখায় করালবদনায় নরসিংহায় সকলভূতপ্রমথনায় স্বাহা । ৩. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় পশ্চিমমুখায় গরুড়াননায় সকলবিষহরায় স্বাহা । ৪. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় উত্তরমুখায় আদিবরাহায় সকলসম্পৎকরায় স্বাহা । ৫. ওঁ নমো ভগবতে পঞ্চবদনায় ঊর্ধ্বমুখায় হয়গ্রীবায় সকলজনবশকারকায় স্বাহা ॥ | ৫টি দিকের মুখের অর্থ: • পূর্ব মুখ (বানর): সর্ব শত্রু সংহারকারী কাপি মুখকে প্রণাম। • দক্ষিণ মুখ (নৃসিংহ): ভয় ও ভূতোচ্ছেদকারী করালমুখ নৃসিংহকে প্রণাম। • পশ্চিম মুখ (গরুড়): বিষ ও নাগদোষ হরণকারী গরুড়াননকে প্রণাম। • উত্তর মুখ (বরাহ): সর্ব সম্পত্তি ও সমৃদ্ধিদাতা আদিবরাহকে প্রণাম। • উর্ধ্ব মুখ (হয়গ্রীব): সর্ব জন বশীকরণকারী হয়গ্রীবকে প্রণাম। |
| ন্যাস | করন্যাস ও অঙ্গন্যাস: করন্যাসে আঙুল ও হস্ততলে হনুমানজির বিভিন্ন নামের শক্তি সঞ্চারিত করা হয়। অঙ্গন্যাসে হৃদয়, মস্তক, শিখা, কবচ, নেত্রত্রয় ও অস্ত্রের দ্বারা দশাংশের দিক রক্ষা করা হয়। | করন্যাস ও অঙ্গন্যাসের দ্বারা সাধক নিজের শরীরের সকল দিকে এবং মন-মস্তিষ্কে পঞ্চমুখী হনুমানজির দিব্য শক্তি প্রতিষ্ঠা করেন, ফলে কোনো কুশক্তি শরীর স্পর্শ করতে পারে না। |
| বীজাক্ষর | প্রধান কবচ মন্ত্র ও বীজাক্ষর: ওঁ শ্রীরামদূতায় অঞ্জনীয়ায় বায়ুপুত্রায় মহাবল পরাক্রমায়... ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় বম্বম্বম্বম্বং বৌষট্ স্বাহা (অগ্নি স্তম্ভন) । ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় ফম্ফম্ফম্ফম্ফং ফট্ স্বাহা (রোগ নাশ) । ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় খেঙ্খেঙ্খেঙ্খেঙ্খেঁ মারণায় স্বাহা (শত্রু মারণ) । ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় লুংলুংলুংলুংলুং আকর্ষিতসকলসম্পৎকরায় স্বাহা (সম্পত্তি আকর্ষণ) । ওঁ হরিমর্কট মর্কটায় ধন্ধন্ধন্ধন্ধং শত্রুস্তম্ভনায় স্বাহা (শত্রু স্তম্ভন) । ওঁ টণ্টণ্টণ্টণ্টং কূর্মমূর্তয়ে পরযন্ত্র পরতন্ত্রোচ্চাটনায় স্বাহা ॥ (পরতন্ত্র উচ্চাটন) | এটি প্রধান সংপুটিত বীজাক্ষর মন্ত্র। এই মন্ত্র শত্রু স্তম্ভন (শত্রু নিষ্ক্রিয় করা), পরতন্ত্র উচ্চাটন (কুফরি ও তন্ত্রবাধা ধ্বংস), রোগ নাশ ও সম্পত্তি আকর্ষণের মহৌষধ। |
| ১৫-২১ | ফলশ্রুতিঃ (পাঠ সংখ্যার ফল): ইদং কবচং পঠিত্বা তু মহাকবচং পঠেন্নরঃ । একবারং জপেৎ স্তোত্রং সর্বশত্রুনিবারণম্ ॥ | ফলশ্রুতির অর্থ (পাঠ সংখ্যার লাভ): • ১ বার পাঠ: সর্ব শত্রু মুক্তি। • ২ বার পাঠ: পুত্র-পৌত্র ও বংশ বৃদ্ধি। • ৩ বার পাঠ: সর্ব সম্পত্তি ও মঙ্গল লাভ। • ৪ বার পাঠ: সর্ব ব্যাধি ও শারীরিক কষ্ট দূর। • ৫ বার পাঠ: সর্ব লোক বশীকরণ ও আকর্ষণ। • ৬ বার পাঠ: দেব কৃপা লাভ। • ৭ বার পাঠ: সর্ব সৌভাগ্য লাভ। • ৮ বার পাঠ: সর্ব মনস্কামনা পূরণ। • ৯ বার পাঠ: রাজযোগ ও ঐশ্বর্য লাভ। • ১০ বার পাঠ: ত্রিভুবনের জ্ঞান ও পরম সিদ্ধি। • একাদশ/একবিংশতি পাঠ: নিশ্চিত সর্বসিদ্ধি লাভ। |
রামায়ণের উত্তরাকাণ্ডে বর্ণিত আছে যে, অহিরাবণ যখন রাম ও লক্ষ্মণকে পাতালপুরীতে হরণ করে নিয়ে যায়, তখন পাতালের ৫টি ভিন্ন কোণে ৫টি প্রদীপ বা দীপ জ্বালিয়ে রেখেছিল। অহিরাবণকে বধ করতে হলে সেই ৫টি প্রদীপকে একসাথে নেভানো আবশ্যক ছিল। তখন শ্রী হনুমানজি একইসাথে ৫টি মুখ (পঞ্চমুখী রূপ) ধারণ করেন:
এই ৫টি মুখের একত্র প্রভাবে শ্রী হনুমান অহিরাবণকে সংহার করেন ও প্রভু রামচন্দ্রকে মুক্ত করেন। ব্রহ্মা রচিত এই পঞ্চমুখী হনুমান কবচটি সাধকের চারপাশে এক অজেয় প্রতিরক্ষার বলয় (দিগ্বন্ধ) তৈরি করে।
পঞ্চমুখী হনুমান কবচ অত্যন্ত শক্তিশালী ও সিদ্ধ হওয়ায় এটি পাঠ করার কিছু শুভ নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক:
দেবাধিদেব মহাদেব শিবের মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, স্তোত্র, ব্রত ও আরাধনার নিয়ম।
দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার মন্ত্র, মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র ও চণ্ডী পাঠের মাহাত্ম্য।
ধন, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা, মন্ত্র ও আরতি।
সিদ্ধিদাতা ও বিঘ্নহর্তা গণপতির আরাধনা, গণেশ স্তোত্র ও সিদ্ধিমন্ত্র।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী, কৃষ্ণাষ্টকম ও মধুর স্মারকাবলী।
মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামের রামরক্ষা স্তোত্র, রামচন্দ্র আরতি ও জীবনকথা।
কালীপুজো, আদ্যাস্তোত্র, শ্যামাসঙ্গীত ও মা কালীর সিদ্ধ বীজমন্ত্রাবলী।
বিষ্ণু সহস্রনাম, সত্যনারায়ণ ব্রতকথা ও শ্রী হরির সহস্র অবতার কথা।
বিদ্যা, জ্ঞান ও চারুকলার দেবী মা সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলি ও স্তোত্র।
শনিদেবের সাড়ে সাতি প্রতিকার, শনি চালিশা ও শনি স্তোত্রাবলী।
আদিত্য হৃদয় স্তোত্র, সূর্য অর্ঘ্য দান বিধি ও গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ।
শিরডির সাই বাবার কাকড় আরতি, মন্ত্র ও শ্রদ্ধা-সবুরি বাণী।
রথযাত্রা, পুরীর জগন্নাথ ধাম, জগন্নাথাষ্টকম ও মহাপ্রসাদ মাহাত্ম্য।
রবি থেকে কেতু-৯টি গ্রহের বীজমন্ত্র, নবগ্রহ পীড়াহর স্তোত্র ও প্রতিকার।