সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি (Middle East War) আর লজিস্টিক সংক্রান্ত বিভিন্ন রকম বাধা পেরিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শুরুটা দারুণভাবে শুরু করল ভারত। হ্যাঁ, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগারওয়াল জানাচ্ছেন, নতুন ভৌগোলিক বাজার অনুসন্ধান আর পণ্যের বৈচিত্রকরণের ফলে এবার বিরাট সাফল্য পেয়েছে ভারত। রিপোর্ট অনুযায়ী এপ্রিল মাসে রফতানি (India Export Report) ছুঁয়েছে ৮০.৮ বিলিয়ন ডলারে, যা ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দিতে বিরাট ভূমিকা নিচ্ছে।
পণ্য ও পরিষেবা ক্ষেত্রে রেকর্ড বৃদ্ধি
বিগত ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের তুলনায় এবার ২০২৬ সালের এপ্রিলে ভারতের পণ্য এবং পরিষেবা উভয় ক্ষেত্রে রফতানির গ্রাফ পুরো ঊর্ধমুখী। রিপোর্ট বলছে, গত বছরের ৩৮.২৮ বিলিয়ন ডলার থেকে এবার পণ্য রফতানি বেড়ে রেকর্ড ৪৩.৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি পরিষেবা রফতানি ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭.২ বিলিয়ন ডলারে।
কিন্তু রফতানি বাজারের পাশাপাশি ভারতের সামগ্রিক আমদানির পরিমাণও অনেকটাই বেড়েছে। এপ্রিল মাসে মোট আমদানি হয়েছে প্রায় ৮৮.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছর ছিল ৮২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার ফলে বাণিজ্যে ঘাটতি সামান্য বেড়েছে, এবং তা এখন ২৮.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত বিশ্ব বাজারে নিজেদের পরিধি বাড়ানোর জন্য ১৮২১টি নতুন পণ্য দেশ কম্বিনেশন তৈরি করেছিল। সেক্ষেত্রে তাঁত শিল্প বা তৈলবীজ সবথেকে বেশি সংখ্যক নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছিল। আর জাহাজ, নৌকা ও ভাসমান পরিকাঠামো রফতানি করে আনুমানিক ১৯টি নতুন বাজার থেকে ৫৭ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। এছাড়াও পারমাণবিক চুল্লি এবং বয়লারের যন্ত্রাংশ ১৩টি নতুন দেশে রফতানি করে ১৪.৩ মিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে ভারত।
উল্লেখ করার বিষয়, বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আমদানির ক্ষেত্রে আবার ভারতের সবথেকে বড় উৎস চিন।
আরও পড়ুন: কয়েক দিনেই ঢুকছে বর্ষা, তারিখ জানাল IMD
রেকর্ড সোনা আমদানি
রিপোর্ট বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের সোনা আমদানি প্রায় একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে ৫.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা বিগত বছরের এপ্রিল মাসে ছিল ৩.১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার আমদানির পরিমাণ বাড়েনি, বরং বিশ্ববাজারে সোনার দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি সোনা কিনতে নিষেধ করেছেন।










