India Hood Decode: মোদী থেকে রাহুল – কে নেই এপস্টিন ফাইলে? প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

Published:

Epstein Files
Follow

দিনটা ৩০শে জানুয়ারি। হঠাৎ করেই তোলপাড় হয়ে ওঠে সারা বিশ্ব। চিন্তায় মাথা ঠুকতে থাকেন বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমনকি রাষ্ট্রপতিরাও। কারণ, ইন্টারনেটে ততক্ষণে প্রকাশ হয়ে গিয়েছে বহু বিতর্কিত যৌন অপরাধী এবং নারী পাচারকারী এপস্টিনের গোপন ফাইল (Epstein Files)! যেখানে রয়েছে প্রায় ২০০০-এরও বেশি ভিডিও, ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি, আর ৩০ লক্ষ ডকুমেন্ট। যে ফাইলে উঠে এসেছিল বিল গেটস, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিন্টনের মতো ব্যাক্তিরা, এবার সেই ফাইলেই উঠে এল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা!

আর এই নিয়েই তোলপাড় হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া! দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে করা হচ্ছে একের পর এক কটূক্তি! কেউ বলছেন, মুজরা ড্যান্স করেছেন মোদী! আবার কেউ বলছেন, তিনি নারী পাচারকারীর সঙ্গে যুক্ত, এটা ভারতের লজ্জা!

শুধু তাই নয় এই ফাইলেই নাম রয়েছে অনিল আম্বানি, বিজেপি মন্ত্রী হরদীপ পুরী, এমনকি রাহুল গান্ধীরও! রয়েছে বলিউড পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের নামও।

কিন্তু, সত্যিই কি এমন কিছু হয়েছে? কী এই এপস্টিন ফাইল? কেন তোলপাড় হয়ে উঠেছে সারা বিশ্ব? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্কে ঠিক কি বলা হয়েছে এই এপস্টিন ফাইলে?

আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা জানা উচিত প্রতিটি দেশবাসীর! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। 

প্রথমেই আপনাদের জানতে হবে কে এই এপস্টিন!

সালটা ১৯৭০। কোনো কলেজ ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও, একজন অঙ্ক ও ফিজিক্স শিক্ষক হিসাবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন জেফ্রে এপস্টিন। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই একদিন শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি পা রাখেন ওয়াল স্ট্রিটে এবং যোগ দেন ‘বিয়ার স্টার্নস’ নামক বিখ্যাত বিনিয়োগকারী সংস্থায়। ওয়াল স্ট্রিট বলতে বোঝায় আমেরিকার শেয়ার মার্কেট।

এরপর ১৯৮২ সালে নিজের ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম খোলেন এপস্টিন। যেখানে তিনি শুধুমাত্র বিলিয়নিয়ারদের টাকা পরিচালনা করতেন। আর এভাবেই মূলত উচ্চবিত্তদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং গোপন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই তিনি ধীরে ধীরে এক ধনকুবেরে পরিণত হন। এই সময়ে তিনি একাধিক দেশে সম্পত্তি কেনা শুরু করেন, শুরু করেন বিভিন্ন বড় লোকেদের সাথে ওঠা-বসা করা।

এরপর সালটা ১৯৯৮প্রায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার দিয়ে, Little Saint James নামের একটি প্রাইভেট দ্বীপ কেনেন এপস্টিন। প্রায় ৭০ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই দ্বীপে বিলাসবহুল ভিলা থেকে শুরু করে হেলিপ্যাড, টেনিসকোর্ট, সুইমিং পুল – কি ছিল না? আর এই দ্বীপ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে এপস্টিন ও এপস্টিন ঘনিষ্ঠদের উন্মত্ত পার্টি আর আমোদ-প্রমোদের জায়গা।

তবে, ২০০৫ সালে জেফ্রের নাম, যশ, প্রতিপত্তি – সবকিছুই তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করে, যখন একজন নাবালিকা, এপস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন শোষণের অভিযোগ করে। তদন্ত যত এগোতে থাকে, উঠে আসতে থাকে একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য। জানা যায়, যে সমস্ত নাবালিকার বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ করা হত, তাদের মধ্যে কারোর বয়স ছিল ১৪, আবার কারোর বয়স ছিল ১৫! আরও একটি তথ্যে জানা যায়, জেফ্রে নিজে তো এই সমস্ত মেয়েদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ করতেন, পাশাপাশি নিজের ধনী বন্ধু, পার্টনারদের কাছেও এই সমস্ত মেয়েদের পাঠাতেন।

সময় যত গড়াতে থাকে, জেফ্রের বিরুদ্ধে উঠতে থাকে যৌন অপরাধ, ক্ষমতার অপব্যবহার, নাবালিকা ধর্ষণ ও নিগ্রহ, সেক্স ট্রাফিকিং, প্রস্টিটিউশন, এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। জানা যায়, জেফ্রের সেই দ্বীপেই চলত নাবালিকা পাচার ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা। একরকমভাবে সেখানে গরীব নাবালিকাদের আঁটকে রাখা হত। যার ফলে এই দ্বীপকে সবাই পেডোফাইল আইল্যান্ড বলতে শুরু করে। এমনকি এই আইল্যান্ডে যাওয়ার জন্য শুধু ব্যবহার করা হত জেফ্রের প্রাইভেট জেট, যার নাম ছিল ললিতা এক্সপ্রেস। আর, এপস্টিনের সাথে জুড়তে থাকে একের পর এক নাম, যেমন – ব্রিটেনের যুবরাজ অ্যান্ড্রু, প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিন্টন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাইকেল জ্যাকশন, বিল গেটস, ইলন মাস্ক সহ আরও অনেকে।

তবে বিভিন্ন সময়ে এই কেস ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। একসময় এপস্টিন খুব কম অভিযোগ স্বীকার করে নেয়, এবং ১৩ মাসের  সাজা পায়। এরপর ২০১৮ সাল নাগাদ, ফের জেফ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আসতে শুরু করে। কমবেশি ৪০ জন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে এপস্টিনের ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় হয়। তবে ২০১৯ সালে হঠাৎ করেই জেলের মধ্যে এপস্টিনের রহস্য মৃত্যু হয়। অনেকেই এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বললেও, এই মৃত্যু নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে। জেফ্রের এই সমস্ত কর্মকাণ্ডে জেফ্রেকে সঙ্গ দিতেন তাঁর সঙ্গী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল, যিনি আন্তর্জাতিক যৌন পাচার কেলেঙ্কারির মূল চক্রী হিসাবে বর্তমানে জেলে রয়েছে।

তবে, এপস্টিন এই সমস্ত কর্মকাণ্ড যখন করতেন তিনি সব কিছুই একটি ক্যামেরায় হয় ছবি নাহলে ভিডিও আকারে স্টোর করে রাখতেন। এমনকি বিভিন্ন ঘটনা তিনি নিজেকেই ইমেল করে স্টোর করে রাখতেন, যেমন কারোর সাথে সাক্ষাৎ, কারোর সাথে ডিল, বিশেষ কোথাও যাওয়ার ব্যাপার, বিশেষ কারোর ব্যাপারে কোনও বিশেষ তথ্য – এমনই সব বিষয়। আর তার ওপর যখন তদন্ত শুরু হয়, তখন এই সমস্ত তথ্য উঠে আসে FBI-এর হাতে – আর এই ডকুমেন্টগুলোকেই বর্তমানে এপস্টিন ফাইল বলা হচ্ছে। এরপর এপস্টিন মারা গেলে, এই ফাইল প্রকাশ্যে আনার জন্য দাবি জানাতে থাকেন মার্কিন নাগরিকরা।

কিন্তু, একাধিক বার, একাধিক সরকার, একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেও এপস্টিন ফাইল নিয়ে কোনও খুলাসা হয় না। এরপর এই ফাইলকে সবার সামনে আনার উদ্দেশ্যে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় শাখায় ২০২৫ সালে এপস্টিন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট পাশ করানো হয় এবং ১৯শে নভেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প এটিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর ১৯শে ডিসেম্বর থেকে দফায় দফায় আমেরিকার বিচার বিভাগ এই সমস্ত তথ্য প্রকাশ করে চলেছে।

যদিও অনেকেই বলেন জেফ্রে এপস্টিন আদতে ছিল ইজরায়েলের একজন আন্ডারকভার এজেন্ট, যিনি এই সমস্ত যৌন অপরাধ করিয়ে বড় বড় ব্যাক্তিদের ইজরায়েলের স্বার্থে ব্ল্যাকমেল করতেন। যদি জেফ্রে এপস্টিনের কেস, তার যৌন কেচ্ছার ডায়েরি, তার ললিতা এক্সপ্রেস নামের প্রাইভেট জেট নিয়ে আপনারা একটি বিস্তারিত লেখা চান, তাহলে কমেন্ট করুন – EPSTEIN। যদি ৫০০ জন কমেন্টে EPSTEIN লেখেন, তাহলে আমরা এই বিষয়ে আলাদা একটি তথ্যমূলক লেখা আনবো আপনাদের সামনে।

এপস্টিন ফাইলে নরেন্দ্র মোদী!

২০২৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর থেকে ধীরে ধীরে এপস্টিন ফাইলের বিভিন্ন ডকুমেন্ট প্রকাশ হতে থাকে। গুজব উঠতে থাকে এই ফাইলে হয়তো আসতে পারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও! কিন্তু, কিছুই সামনে আসে না। কিন্তু, এরপর ২০২৬ সালের ৩০শে জানুয়ারি, যখন আমেরিকার বিচার বিভাগ প্রায় ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠার এপস্টিন ফাইলের নথি প্রকাশ করেন, তখন সেখানে উঠে আসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম।

তবে এখানে কিন্তু মোদীর কোনও ছবি কিংবা ভিডিও নেই, বরং রয়েছে কিছু ইমেল এবং ফোন মেসেজ। যেগুলি আবার সরাসরি মোদী বা ভারত সরকারের সাথে নয়, কোনও তৃতীয় ব্যাক্তির সাথে!

তবে মূলত তিন বার উঠে এসেছে মোদীর নাম –

প্রথমবার,

সময়টা ২০১৭ সালের ১৬ই মার্চ, ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম শপথ নেওয়ার দুই মাস পর। ভারতীয় ব্যবসায়ী অনিল আম্বানি, এপস্টিনকে একটি ম্যাসেজ পাঠান। তাতে তিনি বলেন যে, ‘নেতৃত্ব’ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল, যেখানে জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ ব্যাননের মতো ব্যক্তিরা রয়েছেন, তাঁদের সাথে যোগাযোগের জন্য তাঁর সাহায্য চাইছে। আম্বানি আরও জিজ্ঞাসা করেন যে, মে মাসে মোদি ও ট্রাম্পে সাথে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ নিয়ে এপস্টিনের কোনো পরামর্শ আছে কিনা। এবং এরপর মেসেজেই একটি কলের ব্যবস্থা করেন।

https://x.com/Pawankhera/status/2017907445209665847

দ্বিতীয়বার,

সালটা ২০১৭ সালের ৬ই জুলাই। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদী ইজরায়েল সফর করেন। এটা ছিল একটি ঐতিহাসিক সফর, কারণ ভারতের স্বাধীনতার পর এটা ছিল প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর। ওই সফরের পর, ওই বছরেই, ইজরায়েলের থেকে ৭১৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র কিনে, ইসরায়েলি অস্ত্রের বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত।

মোদীর এই সাক্ষাতের পর, ৯ই জুলাই এপস্টিন একটি ইমেল পাঠায় ‘জেবর ওয়াই’ নামের এক ব্যক্তিকে। ইমেলটিতে এপস্টিন লিখেছিলেন, “ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদী পরামর্শ মেনে চলেছেন এবং আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সুবিধার্থে ইজরায়েলে নাচ ও গান করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁদের দেখা হয়েছিল। এটি কাজ করেছে!”

https://x.com/Pawankhera/status/2017570502500352308

আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আম্বানির রিলায়েন্স ডিফেন্স লিমিটেডও এরপর ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা গোষ্ঠীর সাথে ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি যৌথ উদ্যোগ করে।

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই, মোদী বিরোধীরা অনেকেই এই নাচ, গানকে কটাক্ষ করে “মুজরা ড্যান্স” বলেছেন। কিন্তু, অনেকেই আবার বিষয়টিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বলে উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয়বার,

এরপর সময়টা ২০১৯ সালের ১৯শে মে। নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার দশ দিন আগের ঘটনা। আরেকটি ফোন ম্যাসেজে দেখা যায়, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের সাথে মোদির একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিচ্ছেন এপস্টিন। লিখেছেন, “মোদি বৃহস্পতিবার আমার সাথে দেখা করার জন্য কাউকে পাঠাচ্ছেন।” এখানে তিনি আম্বানির কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায়।

এরপর ২৩শে মে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, এপস্টিন নিউইয়র্কে আম্বানির সাথে দেখা করেন।

এরপর ২৪শে মে, এপস্টিন আর একটি ম্যাসেজ করে ব্যাননকে বলেন – “মোদীর সাথে একটি দুর্দান্ত বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেছে ওয়াশিংটনে কেউ তার সাথে কথা বলে না। তার আসল দুই শ্ত্রু হল পাকিস্তান আর চিন। তিনিও তোমার মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং এবং তোমার উচিত একবার মোদীর সাথে দেখা করার।“

https://x.com/Pawankhera/status/2017897437579399374

এরপর এপস্টিন আম্বানিকে মেসেজ পাঠান: “আমার মনে হয় মোদীর উচিত স্টিভ ব্যাননের সাথে দেখা করা, যেহেতু দুজনেরই চীনের সমস্যা রয়েছে।“ এরপর আম্বানি উত্তরে লেখেন: “অবশ্যই।”

এরপর এপস্টিন ব্যাননকে লিখে পাঠান: “মোদি রাজি হয়েছেন।”

তবে, আম্বানির কাছে ভারতীয় সরকারের হয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিলেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট প্রশ্ন। এছাড়া, স্টিভ ব্যানন এবং কোনও ভারতীয় কর্মকর্তাদের সেই সময়ে কোনো বৈঠকের কোনো সরকারি তথ্য নেই।

তবে একাধিক ইমেলে মোদীর বাহবাও ভরে ভরে রয়েছে। কোথাও মোদীর বিপুল পরিমাণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসা, কোথাও আবার মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে একাধিক ইমেল রয়েছে। যদিও সেই নিয়ে মিডিয়া কোনও কথা বলছে না।

শুরু হয় একের পর এক আক্রমণ!

যদিও ফাইলে নরেন্দ্র মোদীর নাম সামনে আসতেই ময়দানে নেমে পড়ে কংগ্রেস। বিরোধী কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, যে  যৌন অপরাধী এবং সিরিয়াল ধর্ষক এপস্টিন ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর নাম ‘জাতীয় লজ্জাজনক’ ঘটনা। এছাড়াও করা হয় একাধিক প্রশ্ন, যেমন –

মোদী, জেফ্রি এপস্টাইনের পরামর্শ কেন নিচ্ছিল?

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোন উপকারের জন্য মোদী ইসরায়েলে গান গাইছিলেন এবং নাচছিলেন?

ম্যাসেজে উল্লেখ রয়েছে – “এটা কাজ করেছে!” কোন কাজের কথা বলা হয়েছে? এছাড়াও আরও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে।

অনেকের আবার প্রশ্ন, এই ফাইলে মোদীর নাম উঠতেই তড়িঘড়ি হয়ে গেল আমেরিকা আর ভারতের ট্রেড ডিল! তবে কি আরও ফাইল প্রকাশ্যে আসতে পেরেই এই ট্রেড ডিল হয়ে গেল?

ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া!

যদিও এই অভিযোগ ও জল্পনার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০১৭ সালের ইজরায়েল সফর ছিল সম্পূর্ণ সরকারি ও কূটনৈতিক সফর। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, একজন অপরাধীর ব্যক্তিগত ইমেলের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এই ইমেলকে একজন অপরাধীর আবোলতাবোল বকবকানি বলেই উড়িয়ে দেওয়া উচিত।

এপস্টিন ফাইলে মন্ত্রী হরদীপ পুরী!

এপস্টিন ফাইলে কেবল মোদী কিংবা অনিল আম্বানির নয়, রয়েছে বর্তমান পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং রাহুল গান্ধীর নামও। তবে, এই ফাইলে হরদীপ পুরীর নাম যেভাবে এসেছে সেই গল্পটা খুবই মজাদার!

সালটা ২০১৪। ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস থেকে অবসর নিয়ে সবে সবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

আর এপস্টিনের সাথে পুরীর ইমেল আদান-প্রদান হয় ওই বছরেরই জুন মাসে। যেখানে জেফ্রে, লিঙ্কডইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান সম্পর্কে পুরীকে জানান, এবং হফম্যানের ভারত সফরের ব্যবস্থা করেন।

কিন্তু এর পরেই ইমেলের মাধ্যমেই এক মজার উত্তর দেন পুরী। তিনি এপস্টিন বা হফম্যানের থেকেও জোর দেন ভারতের উন্নতি নিয়ে। তিনি এপস্টিন এবং হফম্যানকে ভারতে বিনিয়োগের সুযোগ, এবং স্টার্টআপ ইন্ডিয়া সম্পর্কে একটি বিশাল বড় মেল লিখে পাঠান। তিনি নব-নির্বাচিত মোদি সরকারের অধীনে ভারতের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং হফম্যানকে ভারত সফরের জন্য অনুরোধ করেন।

এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসেই পুরী আবার ইমেলের মাধ্যমে এপস্টিনকে একটি বৈঠকের আয়োজন করতে বলেন, যেখানে তিনি এপস্টিনকে কিছু বই দেবেন যা “ভারত সম্পর্কে তার আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে”।

নথিতে আরও দেখা যায় যে পুরী অন্তত তিনবার এপস্টিনের ম্যানহাটনের টাউনহাউসে তার সাথে দেখা করেছিলেন: ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫; ৬ই জানুয়ারি, ২০১৬; এবং ১৯শে মে, ২০১৭।

এই নিয়ে পুরী, ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এপস্টিনের সাথে তার সাক্ষাৎ এবং আলোচনা সম্পূর্ণরূপে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই ছিল।

অর্থাৎ একদিকে যখন সবাই এপস্টিনের যৌন অপরাধের সঙ্গী হচ্ছিলেন, সেখানেই অন্যদিকে, হরদীপ পুরী ভারতের উন্নতি নিয়ে ভাবছিলেন!

এপস্টিন ফাইলে রাহুল গান্ধী!

এই ফাইলের একাধিক ইমেলে রয়েছে রাহুল গান্ধী সম্পর্কেও কথোপকথন।

যার মধ্যে একটি ইমেলে ২০১৪ সালের ১৮ই মে, গ্রেগরি ব্রাউন নামের একজন লিখছেন, – রাজীব গান্ধীর ছেলে রাহুল গান্ধী এই পরিবারের সর্বনিম্ন পর্যায়ের প্রতীক। তাঁর জীবনবৃত্তান্তে এমন কিছু নেই, যা পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়। সেখানে নিজ চেষ্টায় অর্জিত কোনও সাফল্যই নেই। তিনি একপ্রকার শূন্য চরিত্র, আর তাঁর নেতৃত্বেই নিজের দলকেও প্রায় শূন্য অবস্থায় নামিয়ে এনেছেন।

অর্থাৎ, এখানে রাহুল গান্ধীর নাম হয়তো রয়েছে, কিন্তু তাই শুধুমাত্র একজন হাসির খোরাক হিসাবে।

এবার জানবো আসল সত্যিটা কী?

তবে, এপস্টিন ফাইলে মোদী, আম্বানি, কপিল সিব্বাল, কিংবা অনুরাগ কাশ্যপের নাম থাকলেও, তাদের কোনও ছবি কিংবা ভিডিও পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, একই সময়ে, একই জায়গায়, একসঙ্গে থাকারও কোনও প্রমাণ মেলেনি।

আর প্রশ্ন উঠছে, যেখানে ট্রাম্প থেকে ক্লিন্টন – সবারই ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে, সেখানে মোদীর সাথে কোনও সাক্ষাতের গোপন ভিডিও নেই কেন?

আর এই ফাইলে মোদীর সম্পর্কে যে কথাগুলি মেল করা হয়েছে, সেগুলি এপস্টিন করেছেন অন্য একজন তৃতীয় ব্যাক্তিকে। ঠিক যেমন দুই ব্যাক্তির কথোপকথন হয়। কিন্তু, সেই কথোপকথনের কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা, কোনটা কোন অবস্থায় বলা – সেটা বলা যায় না।

এমনকি মার্কিন কর্তৃপক্ষ নিজেরাও দাবি করেছেন, যে উঠে আসা অনেক নামই এখানে দোষী নয়।

আপনাদের কি মনে হয় – এপস্টিন ফাইলে মোদীর নাম কি ব্যাক্তিগত ফায়দা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল? নাকি বিরোধীরা যেভাবে প্রচার করছেন সেটাই ঠিক? নিজের মতামত জানাতে ভুলবেন না কমেন্ট বক্সে।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now