বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভয়াবহ দুর্ঘটনা বিহারে (Bihar)। প্রতিবেশী রাজ্যের বৈশালী জেলার হাজিপুরে গঙ্গায় উল্টে যায় একটি যাত্রী বোঝাই নৌকা। যে ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত 11 জন শিশুর। জানা গিয়েছে, ওই নৌকাটিতে 20 জন যাত্রী ছিলেন। যার মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। জলযানটি উল্টে যাওয়ায় জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে নৌকায় থাকা অধিকাংশ শিশুর। যদিও সরকারিভাবে নিহতদের সংখ্যা জানানো হয়নি। সূত্রের খবর, নৌকাটি গঙ্গায় ডুবে যাওয়ায় অন্যান্য যাত্রী সহ শিশুদের বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কীভাবে ঘটলো দুর্ঘটনা?
কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের রামপুর শ্যামচাঁদ পঞ্চায়েতের ভগতন টোলায় মাতা মহারানি স্থানের কাছে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ভোজ সভায় অংশ নিতে নৌকায় চেপে যাচ্ছিল বাচ্চারা। জানা গিয়েছে, নৌকায় 15 থেকে 20 জন শিশু ছিল। নৌকাটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ধাবার কাছে পৌঁছে সেটি উল্টে যায়। জলে ডুবে যায় শিশুরা।
নৌকা উল্টে গিয়েছে দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তড়িঘড়ি ডুবতে থাকা শিশুদের জল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানেই 11 জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এমনটাই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে আরও কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীরও! পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা! এদিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই শোক প্রকাশ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী।
আরও পড়ুন: পাড়াতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টা, কে এই তন্নিষ্ঠা সাহা?
গঙ্গায় নৌকা ডুবে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “বৈশালীর রাঘোপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিরীহদের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক। এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। ঈশ্বর প্রয়াতদের আত্মাকে শান্তি দিক এবং পরিবারগুলিকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুক।” শোক প্রকাশ করার সাথে সাথে মৃতদের পরিবার পিছু 4 লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছে বিরোধীদল আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবও।










