নতুন খবর
বাংলা ক্যালেন্ডার আপনার রাশিফল সোনার দাম রুপোর দাম পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম রান্নার গ্যাস আবহাওয়া খবর মন্ত্র ও ভক্তি
শিব

শিব চালিসা - Shiva Chalisa in Bengali Lyrics, Meaning & PDF

দেবাধিদেব মহাদেব পরমেশ্বর শিবের অপার করুণা ও মহিমায় নিবেদিত ৪০টি সিদ্ধ শ্লোকের এক কালজয়ী মহা স্তোত্র। শুদ্ধ মনে ও ভক্তিভরে এই চালিসা পাঠ করলে জীবনের ভয়, ব্যাধি, অভাব ও অকাল মৃত্যুর সংকট কাটে।

মহাদেবের পরম মাহাত্ম্য ও এই মহা স্তোত্রের পটভূমি

সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী দেবাধিদেব পরমেশ্বর শিব হলেন পরম কল্যাণ ও চেতনার প্রতীক। তিনি ‘আশুতোষ’- যিনি অল্প ভক্তি ও শ্রদ্ধাতেই ভক্তের ডাকে সাড়া দেন, আবার তিনিই ‘নীলকণ্ঠ’- যিনি সমগ্র সৃষ্টিকে রক্ষা করতে সমুদ্র মন্থনের কালকূট বিষ পান করেছিলেন। জীবনের দুঃসময় বা পরম শান্তির খোঁজে মহাদেবের শরণ নেওয়া পরম ফলদায়ক।

"ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্ । উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যোর্মুক্ষীয় মাঽমৃতাৎ ॥"

মহাকবি অযোধ্যাদাস বিরচিত এই স্তোত্রটিতে ৪০টি শ্লোকের মাধ্যমে ভোলেনাথের রূপ, গুণ ও শৌর্যের বন্দনা করা হয়েছে। নিষ্ঠার সাথে প্রতিদিন বা প্রতি সোমবারে এটি পাঠ করলে মনের ভয়, হতাশা ও নেতিবাচক চিন্তা দূর হয়।

সম্পূর্ণ চালিসা পাঠ (মূল বাংলা শ্লোকসমূহ)

স্তোত্রটির পাঠ মূলত তিনটি প্রধানভাগে বিভক্ত- প্রারম্ভিক দোহা, ৪০টি চৌপাঈ এবং সমাপনী দোহা। নিচে বিশুদ্ধ বাংলা পাঠ তুলে ধরা হলো:

প্রারম্ভিক দোহা
জয় গণেশ গিরিজাসুবন মঙ্গল মূল সুজান ।
কহত অয়োধ্যাদাস তুম দেউ অভয় বরদান ॥
৪০টি চৌপাঈ (মূল পাঠ)
জয় গিরিজাপতি দীনদয়ালা ।
সদা করত সন্তান প্রতিপালা ॥১॥
ভাল চন্দ্রমা সোহত নীকে ।
কানন কুণ্ডল নাগ ফনী কে ॥২॥
অঙ্গ গৌর শির গঙ্গ বহায়ে ।
মুণ্ডমাল তন ক্ষার লগায়ে ॥৩॥
বস্ত্র খাল বাঘম্বর সোহে ।
ছবি কো দেখি নাগ মন মোহে ॥৪॥
ম্যায়না মাতু কী হ্বৈ দুলারী ।
বাম অঙ্গ সোহত ছবি ন্যারী ॥৫॥
কর ত্রিশূল সোহত ছবি ভারী ।
করত সদা শত্রুন ক্ষয়কারী ॥৬॥
নন্দী গণেশ সোহৈং তহং কৈসে ।
সাগর মধ্য কমল হৈং জৈসে ॥৭॥
কার্তিক শ্যাম ঔর গণরাঊ ।
য়া ছবি কৌ কহি জাত ন কাঊ ॥৮॥
দেবন জবহীং জায় পুকারা ।
তবহিং দুখ প্রভু আপ নিবারা ॥৯॥
কিয়া উপদ্রব তারক ভারী ।
দেবন সব মিলি তুমহিং জুহারী ॥১০॥
তুরত ষড়ানন আপ পঠায়ৌ ।
লব নিমেষ মহং মারি গিরায়ৌ ॥১১॥
আপ জলন্ধর অসুর সংহারা ।
সুয়শ তুম্হার বিদিত সংসারা ॥১২॥
ত্রিপুরাসুর সন যুদ্ধ মচাঈ ।
তবহিং কৃপা কর লীন বচাঈ ॥১৩॥
কিয়া তপহিং ভাগীরথ ভারী ।
পুরব প্রতিজ্ঞা তাসু পুরারী ॥১৪॥
দানিন মহং তুম সম কোউ নাহীং ।
সেবক স্তুতি করত সদাহীং ॥১৫॥
বেদ মাহি মহিমা তুম গাঈ ।
অকথ অনাদি ভেদ নহীং পাঈ ॥১৬॥
প্রকটে উদধি মন্থন মেং জ্বালা ।
জরত সুরাসুর ভএ বিহালা ॥১৭॥
কীন্হ দয়া তহং করী সহাঈ ।
নীলকন্ঠ তব নাম কহাঈ ॥১৮॥
পূজন রামচন্দ্র জব কীন্হাং ।
জীত কে লঙ্কা বিভীষণ দীন্হা ॥১৯॥
সহস কমল মেং হো রহে ধারী ।
কীন্হ পরীক্ষা তবহিং ত্রিপুরারী ॥২০॥
এক কমল প্রভু রাখেউ জোঈ ।
কমল নয়ন পূজন চহং সোঈ ॥২১॥
কঠিন ভক্তি দেখী প্রভু শঙ্কর ।
ভয়ে প্রসন্ন দিএ ইচ্ছিত বর ॥২২॥
জয় জয় জয় অনন্ত অবিনাশী ।
করত কৃপা সবকে ঘট বাসী ॥২৩॥
দুষ্ট সকল নিত মোহি সতাবৈং ।
ভ্রমত রহৌং মোহে চৈন ন আবৈং ॥২৪॥
ত্রাহি ত্রাহি মৈং নাথ পুকারো ।
য়হ অবসর মোহি আন উবারো ॥২৫॥
লে ত্রিশূল শত্রুন কো মারো ।
সঙ্কট সে মোহিং আন উবারো ॥২৬॥
মাত পিতা ভ্রাতা সব কোঈ ।
সঙ্কট মেং পূছত নহিং কোঈ ॥২৭॥
স্বামী এক হৈ আস তুম্হারী ।
আয় হরহু মম সঙ্কট ভারী ॥২৮॥
ধন নির্ধন কো দেত সদা হী ।
জো কোঈ জাঞ্চে সো ফল পাহীং ॥২৯॥
অস্তুতি কেহি বিধি করোং তুম্হারী ।
ক্ষমহু নাথ অব চূক হমারী ॥৩০॥
শঙ্কর হো সঙ্কট কে নাশন ।
মঙ্গল কারণ বিঘ্ন বিনাশন ॥৩১॥
যোগী য়তি মুনি ধ্যান লগাবৈং ।
শারদ নারদ শীশ নবাবৈং ॥৩২॥
নমো নমো জয় নমঃ শিবায় ।
সুর ব্রহ্মাদিক পার ন পায় ॥৩৩॥
জো য়হ পাঠ করে মন লাঈ ।
তা পর হোত হৈং শম্ভু সহাঈ ॥৩৪॥
রনিয়াং জো কোঈ হো অধিকারী ।
পাঠ করে সো পাবন হারী ॥৩৫॥
পুত্র হোন কী ইচ্ছা জোঈ ।
নিশ্চয় শিব প্রসাদ তেহি হোঈ ॥৩৬॥
পণ্ডিত ত্রয়োদশী কো লাবে ।
ধ্যান পূর্বক হোম করাবে ॥৩৭॥
ত্রয়োদশী ব্রত করৈ হমেশা ।
তন নহিং তাকে রহৈ কলেশা ॥৩৮॥
ধূপ দীপ নৈবেদ্য চঢ়াবে ।
শঙ্কর সম্মুখ পাঠ সুনাবে ॥৩৯॥
জন্ম জন্ম কে পাপ নসাবে ।
অন্ত ধাম শিবপুর মেং পাবে ॥৪০॥
কহৈং অয়োধ্যাদাস আস তুম্হারী ।
জানি সকল দুখ হরহু হমারী ॥
সমাপনী দোহা
নিত নেম উঠি প্রাতঃহী পাঠ করো চালীসা ।
তুম মেরী মনকামনা পূর্ণ করো জগদীশ ॥
মগসর ছঠি হেমন্ত ঋতু, সম্বত চৌসঠ জান ।
অস্তুতি চালীসা শিবহি, পূর্ণ কীন কল্যাণ ॥

॥ ॐ নমঃ শিবায় ॥ হর হর মহাদেব 🙏

অক্ষর সাইজ:

শিব স্তোত্র, চালিশা ও পাঠসমূহ

শ্লোকসমূহের সরল বাংলা অনুবাদ ও অর্থ

প্রতিটি শ্লোকের ভাবার্থ বুঝে স্মরণ করলে পাঠের প্রভাব আরও গভীর হয়। নিচে দোহা ও চৌপাঈ-এর সহজ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

১. প্রারম্ভিক দোহার সরলার্থ

জয় গণেশ গিরিজাসুবন মঙ্গল মূল সুজান ।
কহত অয়োধ্যাদাস তুম দেউ অভয় বরদান ॥
গিরিজা-নন্দন গণেশের জয় হোক, যিনি সকল শুভ কাজের মূল ও পরম জ্ঞানস্বরূপ। কবি অযোধ্যাদাস প্রার্থনা করছেন- হে প্রভু, আমাদের নির্ভীকতার অভয় বর দান করুন।

২. মূল চৌপাঈ-এর ভাবার্থ

জয় গিরিজাপতি দীনদয়ালা । সদা করত সন্তান প্রতিপালা ॥১॥হে দেবী পার্বতীর পতি, দীনদয়াল শিব! আপনার জয় হোক। আপনি সর্বদা ভক্তদের রক্ষা করেন।
ভাল চন্দ্রমা সোহত নীকে । কানন কুণ্ডল নাগ ফনী কে ॥২॥আপনার কপালে সুন্দর চাঁদ শোভা পায় এবং কানে সাপের কুণ্ডল ঝুলতে থাকে।
অঙ্গ গৌর শির গঙ্গ বহায়ে । মুণ্ডমাল তন ক্ষার লগায়ে ॥৩॥আপনার অঙ্গ গৌরবর্ণ, মস্তকে গঙ্গা প্রবহমান, গলায় খুলির মালা এবং দেহে পবিত্র ভস্ম মাখা।
বস্ত্র খাল বাঘম্বর সোহে । ছবি কো দেখি নাগ মন মোহে ॥৪॥পরিধানে বাঘের ছাল, আপনার এই অপরূপ রূপ দেখে মুনিগণও মোহিত হন।
ম্যায়না মাতু কী হ্বৈ দুলারী । বাম অঙ্গ সোহত ছবি ন্যারী ॥৫॥মাতা মৈনাবতীর কন্যা দেবী পার্বতী আপনার বাম পাশে অবস্থান করে সেই সৌন্দর্যের শোভা বাড়ান।
কর ত্রিশূল সোহত ছবি ভারী । করত সদা শত্রুন ক্ষয়কারী ॥৬॥আপনার হাতের তেজস্বী ত্রিশূল ভক্তের সমস্ত দুর্জয় শক্তি ও শত্রুকে বিনাশ করে।
নন্দী গণেশ সোহৈং তহং কৈসে । সাগর মধ্য কমল হৈং জৈসে ॥৭॥পাশে বাহন নন্দী ও গণেশকে দেখে মনে হয় বিশাল মহাসাগরের বুকে যেন পদ্ম ফুটে আছে।
কার্তিক শ্যাম ঔর গণরাঊ । য়া ছবি কৌ কহি জাত ন কাঊ ॥৮॥কার্তিক ও প্রমথগণে ঘেরা আপনার এই মহাজাগতিক রূপ বর্ণনাতীত।
দেবন জবহীং জায় পুকারা । তবহিং দুখ প্রভু আপ নিবারা ॥৯॥যখনই দেবতারা বিপদে পড়েছেন, আপনি কৃপা করে তাঁদের কষ্ট নিবারণ করেছেন।
কিয়া উপদ্রব তারক ভারী । দেবন সব মিলি তুমহিং জুহারী ॥১০॥তারকাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেবতারা যখন আপনার শরণ নেন-
তুরত ষড়ানন আপ পঠায়ৌ । লব নিমেষ মহং মারি গিরায়ৌ ॥১১॥তখন আপনি কালবিলম্ব না করে আপনার পুত্র কার্তিককে পাঠিয়ে অসুরকে বধ করান।
আপ জলন্ধর অসুর সংহারা । সুয়শ তুম্হার বিদিত সংসারা ॥১২॥আপনি দুর্ধর্ষ জলন্ধর অসুরকে বিনাশ করেছিলেন; আপনার সেই মহতী কীর্তি বিশ্বে খ্যাত।
ত্রিপুরাসুর সন যুদ্ধ মচাঈ । তবহিং কৃপা কর লীন বচাঈ ॥১৩॥ত্রিপুরাসুরদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় আপনি কৃপাদৃষ্টি বর্ষণ করে সৃষ্টিকে রক্ষা করেছিলেন।
কিয়া তপহিং ভাগীরথ ভারী । পুরব প্রতিজ্ঞা তাসু পুরারী ॥১৪॥রাজা ভাগীরথ কঠোর তপস্যা করলে আপনি গঙ্গার বেগ ধারণ করে তাঁর প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেন।
দানিন মহং তুম সম কোউ নাহীং । সেবক স্তুতি করত সদাহীং ॥১৫॥দানশীলতায় আপনার সমতুল্য কেউ নেই, তাই সেবকেরা সর্বদা আপনার বন্দনা করে।
বেদ মাহি মহিমা তুম গাঈ । অকথ অনাদি ভেদ নহীং পাঈ ॥১৬॥বেদও আপনার অপরিসীম মহিমা গান করে; কিন্তু আপনার অনাদি রূপের রহস্য পাওয়া কঠিন।
প্রকটে উদধি মন্থন মেং জ্বালা । জরত সুরাসুর ভএ বিহালা ॥১৭॥সমুদ্র মন্থনে যখন বিষাক্ত বিষাগ্নি উঠে সৃষ্টিকে জ্বালিয়ে দিচ্ছিল-
কীন্হ দয়া তহং করী সহাঈ । নীলকন্ঠ তব নাম কহাঈ ॥১৮॥তখন আপনি বিষ নিজে পান করেন; বিষের জ্বালায় কণ্ঠ নীল হওয়ায় নাম হয় ‘নীলকণ্ঠ’।
পূজন রামচন্দ্র জব কীন্হাং । জীত কে লঙ্কা বিভীষণ দীন্হা ॥১৯॥শ্রী রামচন্দ্র যখন আপনার পূজা করেছিলেন, আপনার কৃপায় তিনি লঙ্কা জয় করেন।
সহস কমল মেং হো রহে ধারী । কীন্হ পরীক্ষা তবহিং ত্রিপুরারী ॥২০॥শ্রী রামের ভক্তির পরীক্ষা নিতে আপনি এক সহস্র পদ্মের মধ্য থেকে একটি লুকিয়ে ফেলেন।
এক কমল প্রভু রাখেউ জোঈ । কমল নয়ন পূজন চহং সোঈ ॥২১॥একটি পদ্ম কম পড়ায় রামচন্দ্র নিজের পদ্মনয়ন উৎপাটিত করে পূজা সম্পন্ন করতে প্রস্তুত হন।
কঠিন ভক্তি দেখী প্রভু শঙ্কর । ভয়ে প্রসন্ন দিএ ইচ্ছিত বর ॥২২॥এই কঠিন ভক্তি দেখে ভগবান শঙ্কর অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে তাঁকে জয়ের বর দেন।
জয় জয় জয় অনন্ত অবিনাশী । করত কৃপা সবকে ঘট বাসী ॥২৩॥হে অবিনাশী পরমেশ্বর! আপনার জয় হোক; আপনি সর্বভূতের হৃদয়ে বাস করে কৃপা করেন।
দুষ্ট সকল নিত মোহি সতাবৈং । ভ্রমত রহৌং মোহে চৈন ন আবৈং ॥২৪॥দুষ্ট রিপু ও নেতিবাচক চিন্তা প্রতিদিন জ্বালাতন করে, মনে কোনো শান্তি পাই না।
ত্রাহি ত্রাহি মৈং নাথ পুকারো । য়হ অবসর মোহি আন উবারো ॥২৫॥হে নাথ! আমি আপনার কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, এই সংকটে এসে উদ্ধার করুন।
লে ত্রিশূল শত্রুন কো মারো । সঙ্কট সে মোহিং আন উবারো ॥২৬॥ত্রিশূল ধারণ করে অশুভ শক্তি নাশ করুন এবং জীবনসংকট থেকে রক্ষা করুন।
মাত পিতা ভ্রাতা সব কোঈ । সঙ্কট মেং পূছত নহিং কোঈ ॥২৭॥বিপদের দিনে পার্থিব পরিজনেরা সবসময় স্থায়ী উদ্ধার করতে পারে না।
স্বামী এক হৈ আস তুম্হারী । আয় হরহু মম সঙ্কট ভারী ॥২৮॥হে প্রভু! একমাত্র আপনার উপরই অন্তিম আশা, আপনি এসে সংকট হরণ করুন।
ধন নির্ধন কো দেত সদা হী । জো কোঈ জাঞ্চে সো ফল পাহীং ॥২৯॥আপনি যাচককে ধন ও বিদ্যা দান করেন; যে মন থেকে প্রার্থনা করে, সে শুভ ফল পায়।
অস্তুতি কেহি বিধি করোং তুম্হারী । ক্ষমহু নাথ অব চূক হমারী ॥৩০॥আমি অগাধ জ্ঞানের অধিকারী নই, আমার অজান্তে করা সমস্ত ত্রুটি ক্ষমা করুন।
শঙ্কর হো সঙ্কট কে নাশন । মঙ্গল কারণ বিঘ্ন বিনাশন ॥৩১॥হে শঙ্কর! আপনিই সকল দুঃখ নিবারণকারী ও বিঘ্ন বিনাশক।
যোগী য়তি মুনি ধ্যান লগাবৈং । শারদ নারদ শীশ নবাবৈং ॥৩২॥যোগী ও ঋষিগণ আপনার ধ্যানে মগ্ন থাকেন; দেবর্ষি নারদ ও সরস্বতী আপনাকে নমন জানান।
নমো নমো জয় নমঃ শিবায় । সুর ব্রহ্মাদিক পার ন পায় ॥৩৩॥‘নমঃ শিবায়’ মন্ত্রের জয় হোক; দেবতাগণও আপনার পূর্ণ মহিমার সীমা খুঁজে পান না।
জো য়হ পাঠ করে মন লাঈ । তা পর হোত হৈং শম্ভু সহাঈ ॥৩৪॥যিনি একাগ্রচিত্তে এটি পাঠ করবেন, ভগবান শম্ভু সর্বদা তাঁর সহায় থাকবেন।
রনিয়াং জো কোঈ হো অধিকারী । পাঠ করে সো পাবন হারী ॥৩৫॥ঋণ বা কষ্টে থাকা ব্যক্তি নিয়মিত পাঠ করলে সংকট থেকে মুক্তি পান।
পুত্র হোন কী ইচ্ছা জোঈ । নিশ্চয় শিব প্রসাদ তেহি হোঈ ॥৩৬॥সন্তান আকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি শ্রদ্ধা ও কৃপায় সৎ-সন্তান লাভ করেন।
পণ্ডিত ত্রয়োদশী কো লাবে । ধ্যান পূর্বক হোম করাবে ॥৩৭॥যিনি প্রদোষ তিথিতে শ্রদ্ধা সহকারে হোম অনুষ্ঠান করান-
ত্রয়োদশী ব্রত করৈ হমেশা । তন নহিং তাকে রহৈ কলেশা ॥৩৮॥এবং নিয়ম মেনে চলেন, তাঁর জীবন থেকে শারীরিক ও মানসিক ক্লেশ দূর হয়।
ধূপ দীপ নৈবেদ্য চঢ়াবে । শঙ্কর সম্মুখ পাঠ সুনাবে ॥৩৯॥যে ভক্ত ধূপ-দীপ ও নৈবেদ্য অর্পণ করে মহাদেবের সামনে এটি পাঠ করেন-
জন্ম জন্ম কে পাপ নসাবে । অন্ত ধাম শিবপুর মেং পাবে ॥৪০॥তাঁর জন্মান্তরের পাপ বিনষ্ট হয় এবং অন্তিমে শিবলোক প্রাপ্তি ঘটে।
কহৈং অয়োধ্যাদাস আস তুম্হারী । জানি সকল দুখ হরহু হমারী ॥কবি অযোধ্যাদাস বলছেন- হে প্রভু! আপনিই একমাত্র ভরসা, আমাদের দুঃখ দূর করুন।

৩. সমাপনী দোহার অর্থ

নিত নেম উঠি প্রাতঃহী পাঠ করো চালীসা ।
তুম মেরী মনকামনা পূর্ণ করো জগদীশ ॥
প্রতিদিন সকালে উঠে যিনি নিয়মপূর্বক এটি স্মরণ করবেন, প্রভু তাঁর সৎ মনস্কামনা পূর্ণ করবেন।
মগসর ছঠি হেমন্ত ঋতু, সম্বত চৌসঠ জান ।
অস্তুতি চালীসা শিবহি, পূর্ণ কীন কল্যাণ ॥
মার্গশীর্ষ মাসের ষষ্ঠী তিথিতে বিক্রম সংবৎ ১৬৬৪ সালে লোককল্যাণের উদ্দেশ্যে এটি সম্পূর্ণ হয়েছিল।

পৌরাণিক রচয়িতা ও রচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

সমাপনী শ্লোক অনুযায়ী, বৈক্রমিক সংবৎ ১৬৬৪ (ইংরেজি ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে) অগ্রহায়ণ মাসের ষষ্ঠী তিথিতে মহাকবি অযোধ্যাদাস এই পবিত্র স্তোত্রটি সমাপন করেন। সাধক কবি সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় আওধী-হিন্দি মিশেলে ৪০টি শ্লোকে মহাদেবের রূপ ও কীর্তিগাথা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, যাতে ভক্তকুল সহজে তা স্মরণ করে কৃপা লাভ করতে পারে।

আরাধনার সঠিক নিয়মাবলী ও উপযুক্ত সময়

যেকোনো পাঠের শুভ প্রভাব পেতে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলা ভালো:

১. বিশেষ তিথি ও সময়

সোমবার, মহাশিবরাত্রি, প্রদোষ (ত্রয়োদশী) বা শ্রাবণ মাসে পাঠের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রাতঃকালে ব্রাহ্মমুহূর্তে বা সন্ধ্যায় আরতির সময়ে পাঠ করা শুভ।

২. বসার দিক ও আসন

উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসা উচিত। কারণ উত্তর দিক হলো শুভ চেতনার প্রতীক ও কৈলাসের দিক। পরিষ্কার আসনেই পাঠে বসুন।

৩. নৈবেদ্য ও পূজা উপচার

পূজার আসনে ধূপ ও ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। সম্ভব হলে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা বা আকন্দ ফুল নিবেদন করে একগ্রতার সাথে পাঠ শুরু করুন।

৪. উচ্চারণে স্পষ্টতা

শব্দগুলির উচ্চারণ যেন পরিষ্কার ও ভক্তিপূর্ণ হয়। তাড়াহুড়ো না করে ধীর-স্থির চিত্তে পাঠ সম্পন্ন করা দরকার।

নিত্য পাঠের গুরুত্বপূর্ণ শুভ প্রভাব

শ্রদ্ধার সাথে পাঠ করলে সাধকের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

  1. ভয় ও নেতিবাচক শক্তি দূর: অশুভ চিন্তা ও দৃশ্য-অদৃশ্য বাধা নাশ করতে এর প্রভাব ইতিবাচক।
  2. মানসিক প্রশান্তি: মানসিক অস্থিরতা ও দুশ্চিন্তা কমায় এবং মনে স্থিরতা আনে।
  3. আর্থিক স্থিতিশীলতা: ৩৫তম শ্লোক অনুযায়ী, নিষ্ঠাবান সাধক অভাব ও দেনা থেকে মুক্ত হন।
  4. পারিবারিক কল্যাণ: পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং দাম্পত্য কটুতা দূর হয়।
  5. আরোগ্য লাভ: অসুস্থতার দিনে মহাদেবের স্মরণে মনে আত্মবল ও সুস্থতার সঞ্চার ঘটে।
  6. গ্রহদোষের প্রভাব হ্রাস: কোষ্ঠীর অশুভ গ্রহের দশায় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এটি উপযোগী প্রতিকার।
  7. কর্মক্ষেত্রে শুভ ফল: কাজে অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা বা বাধা কাটাতে সাহায্য করে।

বিনামূল্যে PDF প্রিন্ট ও ডাউনলোডের তথ্য

আপনি যদি মূল পাঠ, অর্থ ও নিয়ম সম্বলিত পরিষ্কার বাংলা ফাইল অফলাইনে পড়ার জন্য সেভ করতে চান, তবে নিচের বাটনটি ব্যবহার করুন:

📥 শিব চালিসা PDF প্রিন্ট / ডাউনলোড করুন

পাঠ সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্র. দিনে কতবার পাঠ করা ভালো?
উ. প্রতিদিন ১ বার একাগ্র মনে পাঠ করাই যথেষ্ট। বিশেষ সংকল্পে ৩, ৭ বা ১১ বার পাঠ করা যায়।
প্র. নারী ও পুরুষ উভয়েই কি এটি পাঠ করতে পারেন?
উ. হ্যাঁ, ভোলেনাথের ভক্তিতে কোনো বৈষম্য নেই। শ্রদ্ধা থাকলে সকলেই পাঠ করতে পারেন।
প্র. পাঠের জন্য উপযুক্ত সময় কোনটা?
উ. সকালবেলা স্নান সেরে অথবা সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর সময় এটি আবৃত্তি করা বেশি ভালো।
প্র. প্রতিমা বা শিবলিঙ্গ না থাকলেও কি পাঠ সম্ভব?
উ. হ্যাঁ, মনে মনে মহাদেবকে স্মরণ করে যেকোনো শান্ত স্থানে বসে স্মরণ করা যায়।

অন্যান্য দেব-দেবী দর্শন

হনুমান

হনুমান

24 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা দুর্গা

মা দুর্গা

28 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা লক্ষ্মী

মা লক্ষ্মী

20 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
গণেশ

গণেশ

25 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী কৃষ্ণ

শ্রী কৃষ্ণ

30 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী রাম

শ্রী রাম

18 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা কালী

মা কালী

22 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী বিষ্ণু

শ্রী বিষ্ণু

19 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা সরস্বতী

মা সরস্বতী

15 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শনি দেব

শনি দেব

21 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সূর্য দেব

সূর্য দেব

14 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সাই বাবা

সাই বাবা

16 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
জগন্নাথ

জগন্নাথ

17 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
নবগ্রহ

নবগ্রহ

26 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন