শিব স্তুতি (Shiv Stuti - Vedasara Shiva Stotram in Bengali) হলো জগতগুরু শ্রী আদি শঙ্করাচার্য রচিত দেবাধিদেব মহাদেব পরমেশ্বর শিবের এক পরম অলৌকিক ও বেদসার স্তোত্র। এই স্তুতিতে শিবকে পশুপতি, পাপনাশন, মহেশ্বর, নীলকণ্ঠ ও ত্রিভুবনের পরমাত্মা হিসেবে বন্দনা করা হয়েছে। প্রতিদিন শিবের সামনে এই ৮টি শ্লোক ভক্তিভরে পাঠ করলে সাধকের সমস্ত পাপ বিনাশ হয় এবং পরম সুখ, শান্তি ও মোক্ষ লাভ হয়।
আদি শঙ্করাচার্য রচিত পরম সিদ্ধ বেদসার শিব স্তুতির ৮টি শ্লোক নিচে তুলে ধরা হলো:
| পশূনাং পতিং পাপনাশং পরেশং গজেন্দ্রস্য কৃত্তিং বসানং বরেণ্যম্ । জটাজূটমধ্যে স্ফুরদ্গাঙ্গবারিং মহাদেবমেকং স্মরামি স্মরারিম্ ॥ ১ ॥ |
| মহেশং সুরেশং সুরারাতিনাশং বিভুং বিশ্বনাথং বিভূত্যঙ্গভূষম্ । বিরূপাক্ষমিন্দ্বর্কবহ্নিত্রিনেত্রং সদানন্দমীডে প্রভুং পঞ্চবক্ত্রম্ ॥ ২ ॥ |
| গিরীশং গণেশং গলে নীলবর্ণং গবেন্দ্রাধিরূঢং গুণাতীতরূপম্ । ভবং ভাস্বরং ভস্মনা ভূষিতাঙ্গং ভবানীকলত্রং ভজে পঞ্চবক্ত্রম্ ॥ ৩ ॥ |
| শিবাকান্ত শম্ভো শশাঙ্কার্ধমৌলে মহেশান শূলিন্ জটাজূটধারিন্ । ত্বমেকো জগদ্ব্যাপকো বিশ্বরূপঃ প্রসীদ প্রসীদ প্রভো পূর্ণরূপ ॥ ৪ ॥ |
| পরমাত্মানমেকং জগদ্বীজমাদ্যং নিরীহং নিরাকারমোর্ঙ্কারবেদ্যম্ । যতো জায়তে পাল্যতে যেন বিশ্বং তমীশং ভজে লীয়তে যত্র বিশ্বম্ ॥ ৫ ॥ |
| ন ভূমির্ন চাপো ন বহ্নির্ন বায়ু- র্ন চাকাশমাস্তে ন তন্দ্রা ন নিদ্রা । ন গ্রীষ্মো ন শীতং ন দেশো ন বেশো ন যস্যাস্তি মূর্তিস্ত্রিমেূর্তিং তমীডে ॥ ৬ ॥ |
| অজং শাশ্বতং কারণং কারণানাং শিবং কেবলং ভাসকং ভাসকানাম্ । তুরীয়ং তমঃপারমাদ্যন্তহীনং প্রপদ্যে পরং পাবনং দ্বৈতহীনম্ ॥ ৭ ॥ |
| নমস্তে নমস্তে বিভো বিশ্বমূর্তে নমস্তে নমস্তে চিদানন্দমূর্তে । নমস্তে নমস্তে তপোযোগগম্য নমস্তে নমস্তে শ্রুতিজ্ঞানগম্য ॥ ৮ ॥ |
॥ ॐ নমঃ শিবায় ॥ হর হর মহাদেব 🙏
শিব স্তুতির প্রতিটি শ্লোকের সহজ বাংলা অনুবাদ নিচে বিস্তারিত ছক আকারে দেওয়া হলো:
| পশূনাং পতিং পাপনাশং পরেশং গজেন্দ্রস্য কৃত্তিং বসানং বরেণ্যম্ । জটাজূটমধ্যে স্ফুরদ্গাঙ্গবারিং মহাদেবমেকং স্মরামি স্মরারিম্ ॥ ১ ॥ |
যিনি সমস্ত জীবের অধিপতি পশুপতি, পাপনাশকারী, পরমেশ্বর, হস্তীচর্ম পরিহিত এবং বরণীয়। যাঁর জটাজালের মধ্যে পবিত্র গঙ্গার ধারা প্রস্ফুটিত এবং যিনি কামদেবের বিনাশকারী, সেই এক ও অদ্বিতীয় মহাদেবকে আমি স্মরণ করি। |
| মহেশং সুরেশং সুরারাতিনাশং বিভুং বিশ্বনাথং বিভূত্যঙ্গভূষম্ । বিরূপাক্ষমিন্দ্বর্কবহ্নিত্রিনেত্রং সদানন্দমীডে প্রভুং পঞ্চবক্ত্রম্ ॥ ২ ॥ |
যিনি মহেশ্বর, দেবগণের ঈশ্বর, অসুর সংহারকারী, সর্বব্যাপী বিশ্বনাথ এবং যাঁর অঙ্গ ভস্মালঙ্কারে ভূষিত। সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নি যাঁর ত্রিনেত্রে বিরাজমান, সেই সদানন্দ পঞ্চমুখ প্রভু শিবের আমি স্তুতি করি। |
| গিরীশং গণেশং গলে নীলবর্ণং গবেন্দ্রাধিরূঢং গুণাতীতরূপম্ । ভবং ভাস্বরং ভস্মনা ভূষিতাঙ্গং ভবানীকলত্রং ভজে পঞ্চবক্ত্রম্ ॥ ৩ ॥ |
যিনি পর্বতরাজ নিবাসী গিরিশ, গণসমূহের পতি, যাঁর কণ্ঠ নীলবর্ণ, যিনি শ্রেষ্ঠ বৃষভ (ষাঁড়)-এর ওপর আরোহণ করেন এবং যিনি ত্রিগুণের অতীত। যিনি স্বয়ং প্রকাশিত, দেবী ভবানীর পতি পঞ্চমুখ শিবকে আমি ভজনা করি। |
| শিবাকান্ত শম্ভো শশাঙ্কার্ধমৌলে মহেশান শূলিন্ জটাজূটধারিন্ । ত্বমেকো জগদ্ব্যাপকো বিশ্বরূপঃ প্রসীদ প্রসীদ প্রভো পূর্ণরূপ ॥ ৪ ॥ |
হে শিবাপ্রিয় শম্ভু! হে চন্দ্রকলাধারী! হে ত্রিশূলধারী মহেশান! আপনি একাই সমগ্র জগতে ব্যাপ্ত ও বিশ্বরূপ। হে পূর্ণরূপ প্রভু, আমার ওপর সন্তুষ্ট হোন, প্রসন্ন হোন। |
| পরমাত্মানমেকং জগদ্বীজমাদ্যং নিরীহং নিরাকারমোর্ঙ্কারবেদ্যম্ । যতো জায়তে পাল্যতে যেন বিশ্বং তমীশং ভজে লীয়তে যত্র বিশ্বম্ ॥ ৫ ॥ |
যিনি এক ও অদ্বিতীয় পরমাত্মা, জগতের আদি বীজ, নিরাকার, নিষ্কাম ও ওঙ্কার দ্বারা অনুভবযোগ্য। যাঁর থেকে বিশ্বের সৃষ্টি হয়, যাঁর দ্বারা পালিত হয় এবং যাঁর মধ্যে বিশ্ব লীন হয়, সেই ঈশ্বরকে আমি ভজনা করি। |
| ন ভূমির্ন চাপো ন বহ্নির্ন বায়ু- র্ন চাকাশমাস্তে ন তন্দ্রা ন নিদ্রা । ন গ্রীষ্মো ন শীতং ন দেশো ন বেশো ন যস্যাস্তি মূর্তিস্ত্রিমেূর্তিং তমীডে ॥ ৬ ॥ |
যাঁর মধ্যে না আছে ভূমি, না জল, না অগ্নি, না বায়ু, না আকাশ, না তন্দ্রা, না নিদ্রা, না গ্রীষ্ম, না শীত, না নির্দিষ্ট দেশ বা বেশ। যাঁর কোনো এক একক মূর্তিও নেই, সেই ত্রিদেব রূপি মহেশ্বরকে স্তুতি করি। |
| অজং শাশ্বতং কারণং কারণানাং শিবং কেবলং ভাসকং ভাসকানাম্ । তুরীয়ং তমঃপারমাদ্যন্তহীনং প্রপদ্যে পরং পাবনং দ্বৈতহীনম্ ॥ ৭ ॥ |
যিনি অজন্মা, শাশ্বত, সকল কারণের মূল কারণ, পরম শিব, সকল আলোর আলোকময় প্রদীপ, অনাদি-অনন্ত এবং দ্বৈতভাবহীন পরম পবিত্র শক্তি—তাক আমি স্মরণ ও আত্মসমর্পণ করি। |
| নমস্তে নমস্তে বিভো বিশ্বমূর্তে নমস্তে নমস্তে চিদানন্দমূর্তে । নমস্তে নমস্তে তপোযোগগম্য নমস্তে নমস্তে শ্রুতিজ্ঞানগম্য ॥ ৮ ॥ |
হে সর্বব্যাপী বিশ্বমূর্তি! আপনাকে পুনঃ পুনঃ প্রণাম। হে চিদানন্দমূর্তি! আপনাকে প্রণাম। হে তপস্যা ও যোগের মাধ্যমে লভ্য এবং বেদজ্ঞানের দ্বারা প্রাপ্য পরমেশ্বর! আপনাকে বারংবার প্রণাম জানাই। |
জগতগুরু আদি শঙ্করাচার্য বিরচিত 'বেদসার শিবস্তোত্রম্' তথা শিব স্তুতি সনাতন সাহিত্যের এক পরম পবিত্র স্তোত্র। এর মাহাত্ম্য অপরিসীম—
শিব স্তুতি পাঠ করার সময় কিছু নিয়ম পালন করা অত্যন্ত শুভ—
নিয়মিত শিব স্তুতি পাঠে বহুবিধ শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুফল লাভ হয়—
যদি আপনি শিব স্তুতির বাংলা লিরিক্স ও শ্লোকার্থের পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড করতে চান, তবে নিচের বোতামে ক্লিক করুন।
শ্রীরাম ভক্ত সংকটমোচন হনুমানজির শক্তি, ভক্তি, হনুমান চালিশা ও মন্ত্রসমূহ।
দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার মন্ত্র, মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র ও চণ্ডী পাঠের মাহাত্ম্য।
ধন, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা, মন্ত্র ও আরতি।
সিদ্ধিদাতা ও বিঘ্নহর্তা গণপতির আরাধনা, গণেশ স্তোত্র ও সিদ্ধিমন্ত্র।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী, কৃষ্ণাষ্টকম ও মধুর স্মারকাবলী।
মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামের রামরক্ষা স্তোত্র, রামচন্দ্র আরতি ও জীবনকথা।
কালীপুজো, আদ্যাস্তোত্র, শ্যামাসঙ্গীত ও মা কালীর সিদ্ধ বীজমন্ত্রাবলী।
বিষ্ণু সহস্রনাম, সত্যনারায়ণ ব্রতকথা ও শ্রী হরির সহস্র অবতার কথা।
বিদ্যা, জ্ঞান ও চারুকলার দেবী মা সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলি ও স্তোত্র।
শনিদেবের সাড়ে সাতি প্রতিকার, শনি চালিশা ও শনি স্তোত্রাবলী।
আদিত্য হৃদয় স্তোত্র, সূর্য অর্ঘ্য দান বিধি ও গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ।
শিরডির সাই বাবার কাকড় আরতি, মন্ত্র ও শ্রদ্ধা-সবুরি বাণী।
রথযাত্রা, পুরীর জগন্নাথ ধাম, জগন্নাথাষ্টকম ও মহাপ্রসাদ মাহাত্ম্য।
রবি থেকে কেতু-৯টি গ্রহের বীজমন্ত্র, নবগ্রহ পীড়াহর স্তোত্র ও প্রতিকার।