মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র - Mahamrityunjaya Mantra in Bengali Lyrics, Word-by-Word Meaning, PDF
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র (Mahamrityunjaya Mantra in Bengali) হলো ঋগ্বেদ ও যজুর্বেদে বর্ণিত পরমেশ্বর ভগবান শিবের পরম অমোঘ, রোগভয়নাশক ও দীর্ঘায়ু প্রদানকারী মহামন্ত্র। এই মন্ত্রে ত্রিনেত্রধারী শিবের বন্দনা করে বলা হয়েছে-শসা যেমন পাকা হলে তার বৃন্তের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়, ঠিক তেমনই হে প্রভু আমাদের সংসার ও মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করে অমরত্বের দিকে নিয়ে চলুন। প্রাতঃকালে ভক্তিভরে রুদ্রাক্ষের মালায় এই মন্ত্র জপ করলে ভক্তের শারীরিক ব্যাধি, অকালমৃত্যুর ভয় ও মোহের বন্ধন কেটে যায়।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ (Mahamrityunjaya Mantra Lyrics in Bengali)
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র হলো ঋগ্বেদের সপ্তম মণ্ডলের (৭.৫৯.১২) পরম অমোঘ শ্লোক। নিচে মন্ত্রটির দেবনাগরী সংস্কৃত ও স্পষ্ট বাংলা লিপি প্রদান করা হলো:
"আমরা সেই সুগন্ধি ও পুষ্টিবর্ধনকারী ত্রিনেত্রধারী পরমেশ্বর শিবের আরাধনা করি। পাকা শসা যেমন অত্যন্ত সহজে নিজের বৃন্তের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে ঝরে পড়ে, ঠিক তেমনই হে প্রভু! আপনি আমাদের এই নশ্বর সংসার ও মৃত্যুর চরম বন্ধন থেকে মুক্ত করুন, কিন্তু পরম মোক্ষ ও অমরাবতীর পথ থেকে যেন কখনো বিচ্যুত না করেন।"
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের উৎপত্তি ও পৌরাণিক ইতিহাস | History & Origin
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র সনাতন ধর্মগ্রন্থের সবচেয়ে সিদ্ধ ও প্রাচীন মন্ত্রসমূহের অন্যতম। এর ইতিহাস ও তাৎপর্য অপরিসীম-
ঋষি মার্কণ্ডেয় ও পরম শিব কৃপা: পৌরাণিক কথা অনুসারে, মহর্ষি মৃকাণ্ডুর পুত্র মার্কণ্ডেয়ের আয়ু মাত্র ১৬ বছর নির্দিষ্ট ছিল। যমরাজ যখন ষোড়শ বর্ষে তাঁর প্রাণ হরণ করতে আসেন, তখন শিশু মার্কণ্ডেয় শিবলিঙ্গ জড়িয়ে ধরে এই মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে শুরু করেন। ভগবান শিব স্বয়ং আবির্ভূত হয়ে যমরাজকে নিরস্ত করেন এবং মার্কণ্ডেয়কে 'চিরঞ্জীবী' (অমর) বর দান করেন।
শুক্রাচার্য ও মহর্ষি দধীচি: দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যও মহাদেবের নিকট কঠোর তপস্যা করে এই মহামৃত্যুঞ্জয় সঞ্জীবনী বিদ্যা লাভ করেছিলেন, যার প্রভাবে মৃত জীবন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতো।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপের সঠিক নিয়ম ও সময় | Rules & Procedure
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র একটি পরম তেজস্বী মন্ত্র। এটি জপ করার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা একান্ত আবশ্যক-
শুভ সময়: প্রাতঃকালে ব্রহ্ম মুহূর্তে (সূর্যোদয়ের দেড় ঘণ্টা আগে) অথবা সকালের পূজার সময় এই মন্ত্র জপ পরম ফলপ্রসূ।
আসন ও দিক: সর্বদা পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে কুশের আসন বা পরিষ্কার লাল/সাদা কম্বলের আসনে বসবেন।
জপমালা: কেবল **রুদ্রাক্ষের জপমালা** ব্যবহার করে জপ করা উচিত। জপের সময় মালা যেন নাভির নিচে না নামে এবং কনিষ্ঠা আঙুল স্পর্শ না করে।
জপ সংখ্যা: প্রতিদিন ১০৮ বার জপ করা উচিত। বিশেষ রোগ বা সংকট মুক্তির জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার বার জপ বা জপযজ্ঞের সংকল্প নেওয়া হয়।
মানসিক পবিত্রতা: জপ করার সময় উচ্চারণ স্পষ্ট হতে হবে। অশুদ্ধ উচ্চারণ এড়াতে ধীরে ধীরে স্পষ্ট ছন্দে জপ করা শ্রেয়।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের অশেষ উপকারিতা | Benefits of Chanting
শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করলে জীবনে অদ্ভুত অলৌকিক সুফল লাভ হয়-
অকালমৃত্যু ও দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা: এই মন্ত্র সাধককে অনাকাঙ্ক্ষিত অকালমৃত্যু, ভয়ানক সড়ক দুর্ঘটনা ও শঙ্কা থেকে রক্ষা করে।
রোগ ও ব্যাধি থেকে মুক্তি: দীর্ঘস্থায়ী বা জটিল শারীরিক রোগব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠে আরোগ্য লাভ করে।
মানসিক উদ্বেগ ও ডিপ্রেশন নাশ: মন্ত্রের স্পন্দনে মনের সমস্ত ভয়, দুশ্চিন্তা, নেতিবাচক চিন্তা দূর হয়ে আত্মবিশ্বাস ও তেজ বৃদ্ধি পায়।
শনি সাড়ে সাতি ও কালসর্প দোষ খণ্ডন: জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে, কোষ্ঠীতে শনি গ্রহের অশুভ দশা (সাড়ে সাতি/ঢাইয়া), রাহু-কেতু দোষ ও কালসর্প দোষ প্রশমিত করতে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র অমোঘ।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র PDF ডাউনলোড | Mahamrityunjaya Mantra PDF Download
যদি আপনি মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের বাংলা লিরিক্স, শব্দার্থ ও পুজো বিধির পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড করতে চান, তবে নিচের বোতামে ক্লিক করুন।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্র. মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের আসল রচয়িতা কে?
উ. বেদশাস্ত্রে বলা হয়েছে মহর্ষি বশিষ্ঠ এই ঋগ্বেদীয় মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র দ্রষ্টা। তবে পৌরাণিক ইতিহাস অনুযায়ী শিবভক্ত ঋষি মার্কণ্ডেয় যমরাজের হাত থেকে বাঁচতে এই অমোঘ মন্ত্র প্রকাশ করেছিলেন।
প্র. প্রতিদিন মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র কতবার জপ করা উচিত?
উ. প্রতিদিন অন্তত ১০৮ বার রুদ্রাক্ষের জপমালায় এই মন্ত্র জপ করা পরম কল্যাণকর। বিশেষ জটিল ব্যাধি বা সংকট মুক্তির জন্য ১ লক্ষ ২৫ হাজার বার জপ করার বিধান রয়েছে।
প্র. এই মন্ত্র জপ করার সময় রুদ্রাক্ষের মালা ব্যবহার কেন জরুরি?
উ. রুদ্রাক্ষ হলো ভগবান শিবের নয়নজলের পবিত্র দান। রুদ্রাক্ষের স্পর্শে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের স্পন্দন সাধকের নার্ভাস সিস্টেম ও মনে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করে।
প্র. গৃহস্থ সাধক কি ঘরে বসে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে পারেন?
উ. হ্যাঁ, যে কেউ শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে স্নান সেরে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে এই মন্ত্র জপ করতে পারেন। জপের সময় উচ্চারণ যেন স্পষ্ট ও ধীর-স্থির হয়।