শিব আরতি (Shiva Aarti - Om Jai Shiv Omkara in Bengali) হলো দেবাধিদেব মহাদেব পরমেশ্বর শিবের বন্দনায় নিবেদিত পরম জনপ্রিয় ও সিদ্ধ এক অমোঘ আরতি স্তোত্র। এই আরতিতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও সদাশিবের একত্ব, শিবের পঞ্চানন রূপ, বৃষভ বাহন, ডমরু-ত্রিশূল ও ওঙ্কার ধ্বনির মহিমা প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিদিন প্রাতে বা সন্ধ্যাকালে ভক্তিভরে এই আরতি গাহন করলে ভক্তের সংসার থেকে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর হয়ে সুখ, শান্তি ও ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
ভগবান শিবের পরম প্রিয় "ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা" আরতির সম্পূর্ণ পাঠ নিচে প্রদান করা হলো:
| ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা, স্বামী জয় শিব ওঙ্কারা । ব্রহ্মা, বিষ্ণু, সদাশিব, অর্দ্ধাঙ্গী ধারা ॥ ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা... ॥১॥ |
| একানন চতুরানন পঞ্চানন রাজে । হংসাসন গরূড়াসন বৃষবাহন সাজে ॥ ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা... ॥২॥ |
| দো ভুজ চার চতুর্ভুজ দসবাহু অতি সোহে । ত্রিগুণ রূপ নিরখতে ত্রিভুবন জন মোহে ॥ ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা... ॥৩॥ |
| অক্ষমালা বনমালা মুণ্ডমালা ধারী । চন্দন মৃগমদ সো হৈ ত্ৰিপুৰাৰী ॥ ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা... ॥৪॥ |
| শ্বেতাম্বর পীতাম্বর বাঘম্বর অঙ্গে । সনকাদিক গরূড়াদিক ভূতাদিক সঙ্গে ॥ ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা... ॥৫॥ |
| কর কে মধ্য কমণ্ডলু চক্র ত্রিশূলধারী । সুখকারী দুখহারী জগপালন কারী ॥ ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা... ॥৬॥ |
| ব্রহ্মা বিষ্ণু সদাশিব জানত অবিবেকা । প্রণবাক্ষর মধ্যে যে তীনোং একা ॥ ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা... ॥৭॥ |
| ত্রিগুণস্বামী জী কী আরতি জো কোই নর গাবে । কহত শিবানন্দ স্বামী সুখ সম্পতি পাবে ॥ ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা... ॥৮॥ |
॥ ॐ নমঃ শিবায় ॥ হর হর মহাদেব 🙏
শিব আরতির প্রতিটি পদের সহজ বাংলা অর্থ নিচে বিস্তারিত ছক আকারে দেওয়া হলো:
| ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা, স্বামী জয় শিব ওঙ্কারা । ব্রহ্মা, বিষ্ণু, সদাশিব, অর্দ্ধাঙ্গী ধারা ॥ |
ওঙ্কার স্বরূপ ভগবান শিবের জয় হোক! হে স্বামী পরমেশ্বর শিব, আপনার জয় হোক! আপনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং সদাশিবের সমন্বিত রূপ এবং দেবী পার্বতী আপনার বাম অঙ্গে অর্দ্ধাঙ্গিনী হিসেবে বিরাজ করছেন। |
| একানন চতুরানন পঞ্চানন রাজে । হংসাসন গরূড়াসন বৃষবাহন সাজে ॥ |
ব্রহ্মার একানন ও চতুরানন রূপ এবং শিবের পরম পঞ্চানন (পাঁচ মুখ) রূপ শোভা পাচ্ছে। ব্রহ্মা হংসাসনে, বিষ্ণু গরুড়াসনে এবং ভগবান শিব পরম বৃষভ (ষাঁড়)-এর বাহনে বিরাজমান। |
| দো ভুজ চার চতুর্ভুজ দসবাহু অতি সোহে । ত্রিগুণ রূপ নিরখতে ত্রিভুবন জন মোহে ॥ |
দুই হাত, চার হাত (চতুর্ভুজ) এবং দশ হাত (দসবাহু) রূপ অত্যন্ত শোভা বর্ধন করে। সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিন গুণের প্রকাশ রূপ দেখে ত্রিভুবনের সমস্ত প্রাণী মোহিত হয়। |
| অক্ষমালা বনমালা মুণ্ডমালা ধারী । চন্দন মৃগমদ সো হৈ ত্ৰিপুৰাৰী ॥ |
যিনি রুদ্রাক্ষের অক্ষমালা, বনমালা এবং মুণ্ডমালা গলায় ধারণ করে আছেন। যাঁর গায়ে সুগন্ধি শ্বেত চন্দন ও কস্তুরী (মৃগমদ) অনুলিপ্ত এবং যিনি দানব ত্রিপুরাসুরকে বিনাশ করেছিলেন। |
| শ্বেতাম্বর পীতাম্বর বাঘম্বর অঙ্গে । সনকাদিক গরূড়াদিক ভূতাদিক সঙ্গে ॥ |
যাঁর অঙ্গ শ্বেত বস্ত্র, পীত বস্ত্র এবং বাঘের ছাল (বাঘম্বর)-এ সুশোভিত। যাঁর সঙ্গে সনকাদিক মুনিগণ, গরুড়াদিক দেবগণ এবং প্রমথ ও ভূতগণ সর্বদা বিরাজ করে। |
| কর কে মধ্য কমণ্ডলু চক্র ত্রিশূলধারী । সুখকারী দুখহারী জগপালন কারী ॥ |
যাঁর হাতে কমণ্ডলু, সুদর্শন চক্র ও প্রলয়ঙ্কর ত্রিশূল বিরাজমান। যিনি সর্বজীবকে সুখ প্রদান করেন, দুশ্চিন্তা ও দুঃখ হরণ করেন এবং সমস্ত জগতের পালনকর্তা। |
| ব্রহ্মা বিষ্ণু সদাশিব জানত অবিবেকা । প্রণবাক্ষর মধ্যে যে তীনোং একা ॥ |
অবিবেকী মানুষ ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবকে পৃথক ভাবে দেখে, কিন্তু পরম পবিত্র ওঙ্কার প্রণবাক্ষর (ওঁ)-এর মধ্যে এই তিন দেবতাই অভিন্ন ও এক। |
| ত্রিগুণস্বামী জী কী আরতি জো কোই নর গাবে । কহত শিবানন্দ স্বামী সুখ সম্পতি পাবে ॥ |
যিনি সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ—এই তিন গুণের স্বামী, তাঁর এই পবিত্র আরতি যে মানুষ ভক্তিভরে গাহন করে, স্বামী শিবানন্দ বলেন, সে অনন্ত সুখ, শান্তি ও ধন-সম্পদ প্রাপ্ত হয়। |
সনাতন হিন্দু সংস্কৃতিতে আরতি হলো ইষ্টদেবতার পরম প্রীতি লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধুর্যপূর্ণ উপায়। শিব আরতির কিছু বিশেষ মাহাত্ম্য—
শিব আরতি করার সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা ফলপ্রসূ—
নিয়মিত ভক্তিভরে শিব আরতি গাহন করলে জীবনে অশেষ সুফল অর্জিত হয়—
যদি আপনি শিব আরতির বাংলা লিরিক্স ও শ্লোকার্থের পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড করতে চান, তবে নিচের বোতামে ক্লিক করুন।
শ্রীরাম ভক্ত সংকটমোচন হনুমানজির শক্তি, ভক্তি, হনুমান চালিশা ও মন্ত্রসমূহ।
দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার মন্ত্র, মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র ও চণ্ডী পাঠের মাহাত্ম্য।
ধন, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা, মন্ত্র ও আরতি।
সিদ্ধিদাতা ও বিঘ্নহর্তা গণপতির আরাধনা, গণেশ স্তোত্র ও সিদ্ধিমন্ত্র।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী, কৃষ্ণাষ্টকম ও মধুর স্মারকাবলী।
মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামের রামরক্ষা স্তোত্র, রামচন্দ্র আরতি ও জীবনকথা।
কালীপুজো, আদ্যাস্তোত্র, শ্যামাসঙ্গীত ও মা কালীর সিদ্ধ বীজমন্ত্রাবলী।
বিষ্ণু সহস্রনাম, সত্যনারায়ণ ব্রতকথা ও শ্রী হরির সহস্র অবতার কথা।
বিদ্যা, জ্ঞান ও চারুকলার দেবী মা সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলি ও স্তোত্র।
শনিদেবের সাড়ে সাতি প্রতিকার, শনি চালিশা ও শনি স্তোত্রাবলী।
আদিত্য হৃদয় স্তোত্র, সূর্য অর্ঘ্য দান বিধি ও গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ।
শিরডির সাই বাবার কাকড় আরতি, মন্ত্র ও শ্রদ্ধা-সবুরি বাণী।
রথযাত্রা, পুরীর জগন্নাথ ধাম, জগন্নাথাষ্টকম ও মহাপ্রসাদ মাহাত্ম্য।
রবি থেকে কেতু-৯টি গ্রহের বীজমন্ত্র, নবগ্রহ পীড়াহর স্তোত্র ও প্রতিকার।