সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ফের একবার হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি জানালেন, খুঁজে খুঁজে সকলকে ধরে তাঁদের দেশে পাঠাতে হবে। এমনিতেই আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশজুড়ে সীমান্ত জেলাগুলির পুলিশ সুপারদের (এসপি) একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করবেন। এদিনের বৈঠকে হাজির থাকবেন অমিত শাহও। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনাও হবে বলে খবর। তবে তার আগে অমিত শাহের কড়া বার্তা নতুন করে সকলকে চমকে দিয়েছে।
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা অমিত শাহের
বুধবার বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত করতে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যাত্রীদের পক্ষ হয়ে কথা বলেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু এবং বিমানবন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ বৈঠক করেন। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র সচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সচিব, সিআইএসএফ-এর মহাপরিচালক, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এএআই)-এর চেয়ারম্যান এবং উভয় মন্ত্রকের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ২০২৭ সালের মধ্যে সকল রাজ্য রাজধানীতে বিদেশী আঞ্চলিক নিবন্ধন অফিস (এফআরআরও) স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশী নাগরিকদের জন্য ভিসা, রেজিস্ট্রেশন এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে। এছাড়াও, এফআরআরও-সম্পর্কিত কাজের জন্য মানুষকে আর অন্য শহরের এফআরআরও অফিসে যেতে হবে না।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই অফিস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? দেশজুড়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এফআরআরও (FRRO)। এবার প্রতিটি রাজ্যে FRRO অফিস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ফলে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অমিত শাহ
আজকের হাইভোল্টেজ বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘বর্ডার ডিস্ট্রিক্ট এসপিস কনফারেন্স-২০২৬’-এ ভাষণ দেবেন। অনুষ্ঠানটি নয়াদিল্লির সুষমা স্বরাজ ভবনে দুপুর ২:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবস্থিত জেলাগুলির এসপি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এদিনের বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাসের বদল, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ কতটা এগিয়েছে- এই সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় নিয়ে রিপোর্ট নেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ মুশকিল আসান! অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টালে বড় বদল আনল নবান্ন, মিলবে আরও কিছু সুবিধা
এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা উন্নয়নের উপায় চিহ্নিত করার মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে সীমান্ত জেলাগুলোর জনসংখ্যা পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার উপর এর প্রভাব। কর্মকর্তারা নানা সূত্রে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করবেন এবং এমন প্রবণতাগুলো খতিয়ে দেখবেন, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সীমান্ত প্রশাসনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ধরনের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ ও তার মোকাবিলা করার উপায় নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হবে।










