অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতীয় জলসীমায় প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু বিষধর সামুদ্রিক সাপের (Sea Snakes) উপর গবেষণা চালিয়ে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন এই বাংলারই ছেলে অন্বেষণ পাত্র। এই গবেষণায় জানা গেছে, একই নামে পরিচিত সামুদ্রিক সাপের মধ্যে একাধিক ভিন্ন প্রজাতি লুকিয়ে থাকতে পারে। জিনগত বিশ্লেষণ করে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বর্তমানে গবেষণায় ভারতে পাওয়া তথ্যের সাথে বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক সাপ-সংক্রান্ত জিন ব্যাংকের তথ্যের তুলনা করা হচ্ছে।
জিন বিশ্লেষণ করে আবিষ্কৃত হল নতুন সামুদ্রিক সাপের প্রজাতি
পাঁচটি সামুদ্রিক সাপের প্রজাতির জিনগত বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, হাইড্রোফিস কার্টাস বা শর্ট সি স্নেকের (Hydrophis curtus) ক্ষেত্রে ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের সাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জিনগত পার্থক্য রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জিনগোষ্ঠীর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণের সময় হাইড্রোফিস সিস্টোসাস (Hydrophis schistosus)-র ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য স্বতন্ত্র জিনগত দলের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: দুইয়ের বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া চলবে না! কড়া নিয়ম আনছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার
একইভাবে, হাইড্রোফিস সায়ানোসিঙ্কটাসের (Hydrophis cyanocinctus) ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া গোষ্ঠী এবং ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইরানের গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। হাইড্রোফিস সেরুলেসেন্স (Hydrophis caerulescens)-এর ক্ষেত্রে দুটি জিনগত গোষ্ঠী শনাক্ত করা হয়েছে, যার একটি ইন্দোনেশিয়ার সাথে এবং অন্যটি পশ্চিমবঙ্গ ও থাইল্যান্ডের সাথে সম্পর্কিত। অন্বেষণ জানিয়েছেন, যদিও জিনগত পার্থক্য পাওয়া গেছে, তবুও নতুন প্রজাতির নাম ঘোষণা করার সময় এখনও আসেনি।
মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এবং সীমিত জিন প্রবাহের ফলে এমন পার্থক্য বা ভিন্নতা তৈরি হতে পারে। আরও নমুনা সংগ্রহ এবং গবেষণার পরেই প্রজাতির প্রকৃত শ্রেণিবিভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এর একটি ব্যতিক্রম মিলেছে। সম্প্রতি দিঘায় দেখা গেছে হাইড্রোফিস প্লাটুরাস বা ইয়েলো বেলিড সি স্নেক (Yellow-bellied sea snake) প্রজাতিটির সাপকে। ভারতের এই সাপগুলোর সাথে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইরানের সাপগুলোর জিনগত বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল পাওয়া গেছে। গবেষকরা মনে করছেন যে, সমুদ্রস্রোতে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ার কারণেই হয়তো এই সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আরশোলা, ছারপোকা কমিউনিস্টদের তৈরি’, CPM-কে নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
সম্প্রতি দিঘায় ইয়েলো বেলিড সি স্নেক দেখতে পাওয়ার পর ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঢেউয়ের সাথে ভেসে আসা এই অত্যন্ত বিষধর সাপটি রাজ্য প্রশাসনের কপালেও চিন্তায় ভাঁজ ফেলেছে। গবেষকরা পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার ১৫টি মৎস্যবন্দরে একটি সমীক্ষা চালিয়ে ২,৩০১ জন জেলের সাথে কথা বলেছেন। তাঁরা ২০১২ সাল থেকে সামুদ্রিক সাপের কামড়ে ১৬৬টি ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ৫৫.৪ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে ৪১ শতাংশ বেঁচে গেলেও ২.৪ শতাংশ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন।
এই গবেষণা থেকে নির্দিষ্ট অঞ্চলের সামুদ্রিক সাপের বিষ এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভেনমের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন এই জিন-সংক্রান্ত তথ্যগুলি সামুদ্রিক সাপের বিবর্তন, বিস্তার ও প্রজাতির শনাক্তকরণ এবং সেইসাথে ভবিষ্যতে অ্যান্টিভেনম সংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।










