আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রেনে বসে থাকতে কার ভালো লাগে? দিল্লি (Delhi) থেকে কলকাতা (Kolkata) যেতে সবচেয়ে দ্রুততম রাজধানী এক্সপ্রেসেরও সময় লাগে প্রায় ১৭ ঘণ্টা। কিন্তু ভবিষ্যতে এই যাত্রাপথের দূরত্ব অনেকটাই কমে যেতে চলেছে এই বুলেট ট্রেনের (Bullet Train) হাত ধরে। সামনে এসেছে দিল্লি-কলকাতা হাইস্পিড রেল করিডোরের দ্রুততম রুটের পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ১৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই যাত্রাপথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। ইতিমধ্যেই ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প মুম্বই-আমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডোরের কাজ চলছে। সেই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য হাইস্পিড রেলপথ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নতুন প্রস্তাবে কী বলা হচ্ছে?
প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে দিল্লি থেকে বারাণসী পর্যন্ত প্রায় ৮৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোর তৈরির কথা বলা হয়েছে। দিল্লির সরাই কালে খান থেকে শুরু হয়ে এই রেলপথ নয়ডা এবং প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছ দিয়ে এগোবে। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কমানোর উদ্দেশ্যে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ও আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়ের সমান্তরাল পথ অনুসরণ করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। সেই পথে মথুরা, আগ্রা, ইটাওয়া ও কনৌজের মতো শহর পেরিয়ে লখনউয়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে। লখনউ থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি শাখাপথ অযোধ্যার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করবে। অন্যদিকে, মূল লাইন রায়বেরেলি, প্রয়াগরাজ ও ভাদোহি হয়ে বারাণসীতে পৌঁছবে। এই অংশে যাত্রার মোট সময় লাগবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। ফলে উত্তর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে দ্রুত যাতায়াতের পাশাপাশি বিমানবন্দর ও ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে।
এর পরের পর্যায়ে বারাণসী থেকে পূর্ব ভারতের দিকে প্রায় ৭৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ বারাণসী-পটনা-হাওড়া করিডোরের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিহারে গঙ্গার দক্ষিণ তীরবর্তী অঞ্চল ধরে বক্সার, আরা, পটনা, গয়া ও নওয়াদার মতো শহরকে এই রেলপথের আওতায় আনা হবে। এরপর ঝাড়খণ্ডের কয়লা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ধানবাদ পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে এই ট্রেন। রাজ্যের আসানসোল, দুর্গাপুর ও বর্ধমানের মতো শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে শেষ পর্যন্ত হাওড়ায় পৌঁছবে। এই অংশের বারাণসী থেকে হাওড়া পৌঁছতে সময় লাগতে পারে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।
এই ধরনের করিডোর বাস্তবায়িত হলে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে যাবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা সফল হলে, এই পাঁচ রাজ্যের ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে। এই হাইস্পিড রেলপথের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, বড় শহরগুলির মধ্যে যাতায়াতের সময় কমিয়ে ব্যবসায়িক কাজ ও দৈনন্দিন ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করা।
আরও পড়ুন: তৈরি হবে বাণিজ্যিক প্লাজা, পাকিস্তানে ২০০ বছরের পুরনো হিন্দু মন্দির সিল করল প্রশাসন
ভারতে বুলেট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নতুন নয়। দেশের প্রথম হাইস্পিড রেল প্রকল্প মুম্বই-আমেদাবাদ করিডোরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার এবং ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। এই প্রকল্পের লক্ষ্য মুম্বই ও আমেদাবাদের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। পাশাপাশি, ২০২০ সালের ন্যাশনাল রেল প্ল্যানের নথিতেও দিল্লি-বারাণসী, বারাণসী-পটনা এবং পটনা-কলকাতা-সহ ভবিষ্যতের একাধিক হাইস্পিড রেল সংযোগের পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটেও নতুন হাইস্পিড রেল করিডোরের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এখন কবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় সেটাই দেখার বিষয়।










