সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে চরম হতাশার শিকার হচ্ছেন ভারতীয় কৃষকরা। সম্প্রতি পেঁয়াজের বাজারে পাইকারি দাম (Onion Market) অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ার কারণে এক কৃষক ৫০ পয়সা প্রতি কেজি দরে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) বীড জেলার এই ঘটনায় দেখা গিয়েছে, ৬০০ কেজির বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করে ওই কৃষক পেয়েছেন মাত্র ৩০১ টাকা। এমনকি জমি থেকে সেই পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে যাওয়ার গাড়ি ভাড়া এবং কুলি খরচ মেটাতেই উল্টে তাঁকে ১০৮২ টাকা খরচ করতে হয়েছে।
৫০ পয়সা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি
রিপোর্ট অনুযায়ী, কৃষক সন্তোষ শিনগারে জানিয়েছেন যে, এবার তাঁর জমিতে পেঁয়াজের ফলন খুবই ভালো হয়েছিল। ভালো দাম পাওয়ার আশায় তিনি প্রথমবারের মতো ক্ষেতের সেরা মানের ৬০২ কেজি পেঁয়াজ ১২টি বস্তায় ভরে সোলাপুরের বড় পাইকারি বাজারে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজ পৌঁছনোর পর তাঁর মাথায় একেবারে আকাশ ভেঙে পড়ে। বাজারে তখন পেঁয়াজের পাইকারি দাম চলে মাত্র ৫০ পয়সা প্রতি কেজি। যার ফলে তাঁর ৬০২ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে মোট আয় হয় ৩০১ টাকা।
আসলে ফসল বিক্রির পর যখন হিসেব-নিকাশ করা হয় তখন দেখা যায় যে, লাভের বদলে তাঁর ঘাড়ে আরও বড় অঙ্কের দেনা চেপেছে। পেঁয়াজের বস্তা বাজারে নিয়ে যাওয়ার গাড়ি ভাড়া এবং বস্তা নামানোর কুলি খরচ বাবদ তাঁর মোট ১৩৮৩ টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু পেঁয়াজ বিক্রি থেকে আসে মাত্র ৩০১ টাকা। তারপর গাড়ি চালক এবং কুলিদের বকেয়া মেটাতে সন্তোষ শিনগারকে নিজের পকেট থেকে আরও ১০৮২ টাকা নগদ দিতে হয়। অর্থাৎ, ফসল ফলিয়ে লাভ তো দূর, বরং উল্টা পকেট থেকেই টাকা খুইয়ে তাঁকে বাড়ি আসতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: আবেদনের সময় এই ভুল করলেই মিলবে না আয়ুষ্মান ভারত কার্ড! আগেভাগে জানুন
আবেগপ্রবণ হয়ে ওই কৃষক বলেন, “আমি আশা করেছিলাম যে এই পেঁয়াজ বিক্রি করে আমি এবার ট্রাক্টরের মাসিক কিস্তি শোধ করব। কিন্তু এখন ট্রাক্টরের কিস্তি তো দূর, উল্টে আরও দেনায় আমার পকেট ফাঁকা হয়ে গেল।” এমনকি তিনি আরও জানিয়েছেন, “এখনও প্রায় ১০ টন পেঁয়াজ তোলা অবস্থায় রয়েছে। বাজারের এই ভয়াবহ মন্দার জেরে সেই পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে যাব নাকি পচিয়ে ফেলব, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছি না।”










