বাঁধ প্রকল্প ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল অরুণাচল, পুলিশের উপর হামলা, ভাঙচুর বিধায়কের বাড়িতেও

Published:

Arunachal Pradesh

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চিনের বাড়াবাড়ির কারণে বেশ কয়েক মাস ধরেই শিরোনামে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh) । ভারতের এই অংশে প্রস্তাবিত এক বাঁধ প্রকল্পকে ঘিরে শুরু হল বিক্ষোভ। অরুণাচলের সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ (Arunachal Pradesh Protest) ঘিরে ক্রমশ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠায় ভাঙচুর, লুটপাট এবং বিভিন্ন জায়গায় অগ্নি সংযোগের অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের অফিস এবং একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই বিধায়কের বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুরেরও।

বিক্ষোভে উত্তাল অরুণাচল প্রদেশ

গোটা ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে 11,200 মেগাওয়াটের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট ঘিরে। গত শুক্রবার এই প্রকল্পের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় 12 ঘন্টার বনধের ডাক দিয়েছিল বিভিন্ন সংগঠন। পরবর্তীতে বনধ শেষ হয়ে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জানা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়েন তাঁরা। যে ঘটনায় অন্তত 40 জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন বলেই সূত্রের খবর।

ANI এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের তরফে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হলে আন্দোলনকারীদের অনেকেই তাতে আহত হয়েছেন। এদিকে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করেও ভাংচুর চালিয়েছে আন্দোলনকারীরা। অন্তত পুলিশের 9টি গাড়ি এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, অরুণাচলের দুই বিধায়ক এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাড়িতেও ভাঙচুর এবং লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে সকলের। কিন্তু তার আড়ালে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্ট করা এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়।” একই সাথে এদিন সিয়াং প্রকল্প নিয়ে যাঁদের আপত্তি রয়েছে তাঁদের সাথে খুব শীঘ্রই আলোচনায় বসার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত এক বাঁধ প্রকল্প নিয়ে উত্তাল অরুণাচল!

 

আরও পড়ুন: ২০২৭ থেকে WhatsApp ও Telegram ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিয়ম!

উল্লেখ্য, অরুণাচল প্রদেশের প্রস্তাবিত এই বাঁধ প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছিল অনেক আগে থেকেই। তাঁদের বেশিরভাগেরই আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অরুণাচল প্রদেশের একাধিক গ্রাম, কৃষি, জীবন, জীবিকা এমনকি জমিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে অরুণাচল সরকারের বক্তব্য, সিয়াং নদীর জল, বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলা থেকে শুরু করে দেশের জল ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রস্তাবিত প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

google button