অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর কি সন্তান বাবা-মায়ের কাছে ভরণপোষণের (Maintenance) জন্য দাবি করতে পারেন? – এই নিয়ে সম্প্রতি একটি মামলায় উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর পারিবারিক আদালতের (Sultanpur Family Court) মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিচারক নিশা সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশে জানান যে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। সুলতানপুর ফ্যামিলি কোর্ট প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের ভরণপোষণের বিষয়ে বাবার আপত্তিকে খারিজ করে দিয়েছে। তবে আদালতের তরফে এ-ও বলা হয়েছে যে, ভরণপোষণ পেতে হলে পুত্রকে অবশ্যই আদালতের কাছে আইন দ্বারা নির্ধারিত কারণগুলোর ভিত্তিতে প্রমাণ করতে হবে যে, সে নিজের ভরণপোষণ করতে অক্ষম।
পুত্রের ভরণপোষণে অস্বীকৃতি বাবার
অ্যাডভোকেট প্রদীপ সিং জানিয়েছেন যে, মামলাটি আমেঠি জেলার মুসাফিরখানার বাসিন্দা নাসরিন এবং মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা জয়নুল হকের পরিবারকে নিয়ে। দুজনের মধ্যে পারিবারিক বিবাদের জেরে ২০০৬ সালে একটি মামলা হয়। পরে তারা পুনরায় বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তাদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে আমান রাজা ২০২৫ সালে তার বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ চেয়ে পারিবারিক আদালতে একটি আবেদন করেন।
বাবা জয়নুল হক আবেদনটির বিরোধিতা করে বলেন যে, ২০০৬ সালের পারিবারিক মীমাংসা অনুযায়ী, ছেলে এক বছর মায়ের সঙ্গে থাকার পর তার বাবার কাস্টডিতে চলে যাবে। মীমাংসাপত্রে এও বলা হয়েছিল যে, ছেলে তার বাবার কাছে ভরণপোষণ দাবি করতে পারবে না। জয়নুল আরও জানান যে, তিনি আগেও ছেলের খরচ বহন করতেন এবং এখন শিক্ষিত হয়ে ছেলে একটি অনলাইন ফর্ম ফিল-আপের দোকান চালায়। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত বাবার আপত্তি খারিজ করে আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। যদিও আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, আবেদন গ্রহণ করার অর্থ এই নয় যে ভরণপোষণের দাবি মঞ্জুর করা হবেই। এর জন্য পুত্রকে তার অক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: দাবি DA এবং বেতন বৃদ্ধি, কলকাতা সহ একাধিক কলেজে আন্দোলন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের
জানিয়ে রাখি, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৪৪ ধারা স্ত্রীকে তার পিতামাতা ও সন্তানদের কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার দেয়। এই বিধানটি পুরোনো সিআরপিসি-এর ১২৫ ধারার একটি নতুন সংস্করণ। এই আইনের দুটি শর্ত রয়েছে। প্রথমটি হল, যদি কোনো নাবালিকা সন্তান (বৈধ বা অবৈধ যাই হোক না কেন) নিজের ভরণপোষণ করতে অক্ষম হয়, তাহলে বাবাকে তার ভরণপোষণ করতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হল, যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান (বিবাহিতা কন্যাসন্তান ছাড়া) শারীরিক বা মানসিক অস্বাভাবিকতা, আঘাত বা অক্ষমতার কারণে জীবিকা নির্বাহ করতে অক্ষম হন, তাহলে তারও বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে নতুন আইনটি থেকে “নাবালিকা” শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন তাই প্রাপ্তবয়স্ক বেকার সন্তান বা অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরাও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। ফলে নিপীড়িত সন্তানের অনুরোধে আদালত ভরণপোষণের আদেশ দিতে পারে।










