মহিলাদের ‘গৃহবধূ’ বললে ছোট করা হয়, তাঁদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার! বলল সুপ্রিম কোর্ট

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাড়ির পরিচালিকাকে শুধুমাত্র গৃহবধূ বলে ছোট করা যাবে না। এমনটা বললে, তাঁদের অবদানকে খাটো করা হয়। ঘরের বাইরেও তাঁরা সমাজ গঠনের কাজ করেন। তাঁরাই আসল নেশান মেকার। বৃহস্পতিবার, এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Of India) বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। মূলত পথদুর্ঘটনায়মৃত এক মহিলার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার এক মামলায় রায় দিতে গিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

গৃহবধূ বা হাউস ওয়াইফদের ন্যূনতম বেতন 30 হাজার টাকা!

বৃহস্পতিবার, পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক মহিলার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মামলায় রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মহিলাদের শুধুমাত্র গৃহবধূ বলা হলে তাদের অবদানকে ছোট করা হয়। এদিন ভারতীয় মোটর ভেহিকেল অ্যাক্টের অধীনে গৃহবধুর দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুতে নিম্ন আদালতের তরফে মৃতার পরিবারের জন্য যে ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছিল তা যথেষ্ট নয় বলেই জানায় সুপ্রিম কোর্ট।

এর আগে সাধারণত এমন মামলায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গৃহবধূ বা হোমমেকারদের কাল্পনিক আয় অদক্ষ শ্রমিক কিংবা আধা দক্ষ শ্রমিকের মজুরির হিসেব অনুযায়ী ধার্য করা হতো। যা মাসে 8 হাজার টাকা থেকে 15 হাজার টাকার মধ্যে। এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোলের ডিভিশন বেঞ্চ একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, মহিলাদের ঘরোয়া কাজ সাধারণত প্রথাগত অর্থনীতিতে দেখা না গেলেও তা সরাসরি উন্নয়নে বড় অবদান রাখে।

অবশ্যই পড়ুন: ভারতের সাথে আলোচনায় বসে সমস্যা মেটানোর ইঙ্গিত, হঠাৎ পাল্টি নেপালের!

ঠিক সেই কারণেই, পথ দুর্ঘটনা বা সড়ক দুর্ঘটনায় কোনও গৃহবধুর মৃত্যু হলে একজন অদক্ষ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এমন ভাবে বিষয়টি বিবেচনা করলে হবে না। বরং গোটা সংসারের অভিভাবককে হারানোর যে ক্ষতি সেই ক্ষতি হিসেবেই দেখতে হবে গোটা বিষয়টিকে। একই সাথে এদিন আদালতেও জানিয়েছে, এবার থেকে পথ দুর্ঘটনায় কোনও গৃহবধুর মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাসে 30 হাজার টাকা দিতে হবে। আদালত মনে করে, একজন গৃহবধূ শুধুমাত্র বাড়ির কাজ করা থেকে শুরু করে সন্তান লালন পালন করেন তাই নয়, বরং একটা সুস্থ সমাজ গড়ে তোলেন। তাই বাড়ির মহিলাদের নেশন বিল্ডার হিসেবেই দেখা উচিত।