‘নির্বাচনে কারচুপি হলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না’ বলেই দিল সুপ্রিম কোর্ট

Published:

Supreme court on election

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এবং বিতর্কের মাঝেই এবার সাংবিধানিক উপায়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা নিয়ে বড় মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দেশের শীর্ষ আদালত একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, সাধারণত কোর্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। তবে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে অবৈধ বা অসাংবিধানিক উপায়ে কলুষিত না হয়ে যায় সেটা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বক্তব্য, “আমাদের হাত বাঁধা নেই। নির্বাচনে কারচুপি হলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না।”

নির্বাচনে কারচুপি প্রসঙ্গে বড় মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

সম্প্রতি, অন্ধ্রপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দল যুবজন শ্রমিক রায়তু কংগ্রেস পার্টির নির্বাচন সংক্রান্ত এক মামলায় রায় দিতে গিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “মনোনয়ন পত্রের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য নির্দেশনা প্রয়োজন এমন আপাত দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য মামলাটি এই দল প্রমাণ করতে পেরেছে। তাই বেঞ্চ রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সীমা বাড়ানোর জন্য ওয়াইএসআরসিপি-র অনুরোধ বিবেচনা করার নির্দেশ দিচ্ছে।”

অন্ধ্রপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দলটির অভিযোগ ছিল, সহিংসতা এবং ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার কারণে তাদের প্রার্থীরা নিজেদের কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়াই করার জন্য মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। আদালত একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলটির অভিযোগ বিবেচনা করে খতিয়ে দেখতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। একই সাথে সুপ্রিম কোর্টের তরফে ওই রাজ্যের নির্বাচন কমিশনকে 21 অক্টোবর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না করে 23 অক্টোবর পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোর টেস্ট হলে ২৭৫ আসন পাবে বিজেপি! আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

লাইভ ল এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিচারপতি বাগচী ও মোহনার বেঞ্চ জানায়, ওয়াইএসআরসিপি মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য একটি আপাতদৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য মামলা উপস্থাপন করেছে। শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “মুক্ত এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হল সংবিধানের মূল কাঠামো। একই সাথে মনোনয়ন দাখিল এর একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাংবিধানিক আদালত সাংবিধানিক মূল্যবোধের রক্ষক।” সুপ্রিম কোর্টের ওই বেঞ্চের সংযোজন, “যখন কোনও প্রধান বিরোধী দল নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে প্রমাণ সহ আদালতের দ্বারস্থ হয় তখন অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোর্ট চুপ করে থাকতে পারে না। আমাদের হাত বাঁধা নেই! নির্বাচনে কারচুপি হলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না!”

google button