পেয়েছিলেন ‘মহাবীর চক্র’ সম্মান, প্রয়াত কার্গিল যুদ্ধের নায়ক ‘লাদাখের সিংহ’ সোনম ওয়াংচুক

Published:

Sonam Wangchuk

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল ভারতীয় সেনাবাহিনী। প্রয়াত ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের (Kargil War) কিংবদন্তি নায়ক তথা লাদাখের সিংহ হিসেবে পরিচিত অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। শুক্রবার তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সেনার অন্দর তথা গোটা লাদাখজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে। কার্গিল যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান মহাবীর চক্রে ভূষিত হয়েছিলেন ভারতমাতার এই বীর সন্তান।

কার্গিল যুদ্ধের রোমহর্ষক লড়াই

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের ৩০ মে কার্গিল যুদ্ধের অপারেশন বিজয় তখন তুঙ্গে। সেই সময় বাতালিক সেক্টরে লাদাক স্কাউটসের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর সোনম ওয়াংচুক। ১৮ হাজার ফুট উচ্চতার এক দুর্গম হিমবাহ অঞ্চলে শত্রুসেনার অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। নিয়ন্ত্রণ রেখার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই পাকিস্তানী অনুপ্রবেশকারীদের গুলির মুখে পড়েন তাঁরা। এমনকি সেই গুলিতে প্রাণ হারান তাঁর এক সহযোদ্ধা। সেই সংকটময় মুহূর্তে নিজের জীবন তুচ্ছ করে মাত্র ৪০ জন জওয়ানকে নিয়ে ১৩৬ জন শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সোনম। আর পাহাড়ের খাড়া ঢালে দাঁড়িয়ে প্রবল লড়াই চালিয়ে খতম করেছিলেন শত্রুপক্ষের বহু সেনাকে। এমনকি রিজ লাইনও দখল করে নেন তিনি। তাঁর সেই অসামান্য বীরত্বের ফলে বাতালিক সেক্টরে ভারত বিরাট জয় হাসিল করতে পেরেছিল।

অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সোনম ওয়াংচুক অসাধারণ প্রতিভার জেরে ১৯৯৯ সালে মহাবীর চক্রে ভূষিত হন। এমনকি দুর্গম পাহাড়ে লড়াইয়ের জন্য সহযোদ্ধাদের কাছে তিনি লাদাখের সিংহ নামেই পরিচিত। দেশের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কর্নেল সোনম ওয়াংচুক শুধুমাত্র যে একজন সাহসী সৈনিক ছিলেন এমনটা নয়। বরং তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। সেনাবাহিনীর জন্য তিনি সাহসিকতা, ঐক্য আর সেবার অনন্য উদাহরণ রেখে গেলেন। তাঁর মৃত্যুতে স্কাউটস থেকে শুরু করে গোটা দেশবাসী শোকাহত।

আরও পড়ুন: ‘মায়ের ভোগে ৪% DA?’ আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা

কর্নেল সোনম ওয়াংচুকের প্রয়াণে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সামাজিক মাধ্যমে রাজনাথ তাঁকে লাদাখের গর্বিত সন্তান হিসেবে অভিহিত করে লেখেন, তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের চেতনার মূল প্রতিফলন, দৃঢ় অবিচল আর দেশের সেবায় গভীরভাবে নিবেদিত। কার্গিল যুদ্ধের সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েও তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস তাঁর সহযোদ্ধাদের কাছে অনুপ্রাণিত করেছিল। আর তিনিই ছিলেন ভারতের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক। তাঁর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

google button