১০০ বছর পর জেলায় দেখা গেল বাঘ, বনদপ্তরের ক্যামেরার ট্র্যাপে পড়ল ধরা

Published:

Tiger spotted in Beed district

অনন্যা সরকার, মহারাষ্ট্র: প্রায় ১০০ বছর পর মহারাষ্ট্রের বিড জেলায় পাওয়া গেল বাঘের (Tiger) দেখা। বন দফতরের এক কর্তা সোমবার জানিয়েছেন যে, বাঘটি ইয়াভাতমালের টিপেশ্বর ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারি থেকে এসে আরও কয়েকটি জেলা অতিক্রম করে এই জেলায় পৌঁছেছে। প্রায় চার বছর বয়সী পুরুষ বাঘটির ওজন ২০০ কিলোগ্রামের বেশি বলে জানা গেছে। ২০ আগস্ট আস্টি তহসিলের অন্তর্গত ব্রহ্মগাঁওয়ের জঙ্গলে একটি ট্র্যাপ ক্যামেরায় বাঘটির গতিবিধি ধরা পড়ে, যা বিড জেলায় বাঘের উপস্থিতির প্রথম ফটোগ্রাফিক প্রমাণ।

বিড জেলায় ১০০ বছর পর পাওয়া গেল বাঘের সন্ধান

আস্টির রেঞ্জ ফরেস্ট অফিসার অমল মুন্ডে জানিয়েছেন যে, ১৯১০ ও ১৯২০-এর দশকের পর আস্টি ও পাটোদার বনাঞ্চলে প্রথমবার বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেল। মহারাষ্ট্রের এই জেলায় বাঘের শেষ ঐতিহাসিক উল্লেখ পাওয়া যায় ১৯২০ সালের ‘বিড ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার’-এ। বন কর্মকর্তারা বাঘটিকে আপাতত ‘রামলিং’ বলে সম্বোধন করছেন, যদিও এখনও তাকে কোনো আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়নি। 

ফরেস্ট অফিসারের মতে, ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘটি ‘টি-২২’ নামে পরিচিত একটি বাঘিনীর শাবক, যেটি ২০২৩ সালে টিপেশ্বর অভয়ারণ্য ছেড়ে বেরিয়ে আসে। এটি তেলেঙ্গানার কাওয়াল টাইগার রিজার্ভের দিকে যাওয়ার আগে আদিলাবাদ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে এগোয় এবং পরবর্তীতে নান্দেদে প্রবেশ করে। এরপর বাঘটি পাইনগঙ্গা নদী ধরে লাতুর জেলার আহমেদপুরের দিকে অগ্রসর হয় ও সেখান থেকে ধারাশিবে পৌঁছায়। ওই অঞ্চলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাঘটির উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে, বিড জেলায় ১৬ সেন্টিমিটার দীর্ঘ একটি পায়ের ছাপ আবিষ্কার করা হয়, যা ধারাশিবে পাওয়া ছাপের সাথে তুলনা করে কর্তৃপক্ষ সেসময় নিশ্চিত করে যে ছাপ দুটি একই প্রাণীর।

আরও পড়ুন: তৈরি হবে বাণিজ্যিক প্লাজা, পাকিস্তানে ২০০ বছরের পুরনো হিন্দু মন্দির সিল করল প্রশাসন

প্রসঙ্গত, ব্রহ্মগাঁওয়ে দেখতে পাওয়ার পর, বাঘটি সোলাপুর জেলার বারশির কাছে কারি এলাকার দিকে চলে গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। বন দফতর জানাচ্ছে, এটি বর্তমানে পাটোদা তহশিলের কাছে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থান করছে এবং বিডের কাছে বালাঘাট পাহাড় তার বাসস্থান হয়ে উঠেছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, বাঘটি এখনও কাউকে আক্রমণ করেনি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রামবাসী ও পশুপালকদের বন ও পার্বত্য এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফরেস্ট অফিসার অমল মুন্ডে জানান যে, জল বা খাদ্যের অভাবে বাঘটি এদিকে আসেনি, বরং তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে এ দুটিরই প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও বাঘটি লোকালয়ের এত কাছে এসেছে।

google button