২ কোটি পড়ুয়াকে ট্যাব দেওয়ার ঘোষণা রাজ্য সরকারের, কীভাবে আবেদন?

Published:

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের যুব সম্প্রদায়কে ডিজিটাল বিপ্লবে শামিল করতে বড় উদ্যোগ সরকারের। ২ কোটি যুবক-যুবতীকে বিনামূল্যে ট্যাব (Free Tab Scheme) দেওয়ার ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আজ এ কথা ঘোষণা করেছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে মোট ২৩৭৪.৬০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। এমনকি ইতিমধ্যেই নির্বাচিত সংস্থাগুলিকে ট্যাবের অর্ডার দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। কিন্তু কারা পাবেন এই ট্যাব? কীভাবেই বা করতে হবে আবেদন?

রাজ্যের ২ কোটি যুবক-যুবতীকে ট্যাব দেওয়ার ঘোষণা

জানিয়ে রাখি, এই ট্যাব বিতরণের ঘোষণা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এদিন তিনি জানান, “যুব সম্প্রদায়কে জানানো যাচ্ছে, আমাদের সরকার রাজ্যের ২ কোটি যুবক-যুবতীকে ট্যাব উপহার দেবে। ৫০ লাখ যুবক-যুবতী ইতিমধ্যেই এই সুবিধা পেয়েছে। পাশাপাশি আমরা ২৫ লাখ অর্ডার দিয়েছি। স্নাতক স্তরের চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়ারা পাবে ট্যাব। সে সরকারি কলেজে পড়ুক, কিংবা বেসরকারি কলেজ, পলিটেকনিক, ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, প্রত্যেক পড়ুয়া এই ট্যাবের সুবিধা পাবে।”

উত্তরপ্রদেশের যুবকদের প্রযুক্তি এবং আত্মনির্ভরশীলতার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করাই এখন রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ ২০২১-র ১৯ আগস্ট বিধানসভা থেকেই এই প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই সমস্ত শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা, যাঁরা ব্যয়বহুল গ্যাজেট কেনার সামর্থ্য রাখে না। বর্তমানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্মার্টফোন বা ট্যাব অত্যাবশ্যকীয় গ্যাজেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য সহজে যাতে অনলাইনে প্রস্তুতি নিতে পারে যুবরা, সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প।


তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে অবশ্যই কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।

  • প্রথমত, শিক্ষার্থীকে অবশ্যই উত্তরপ্রদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, কারিগরি বা বৃত্তিমূলক, চিকিৎসা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা অন্যান্য যে কোনও বিভাগে পাঠরত হতে হবে।
  • শিক্ষার্থীদের নিজের আধার কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণপত্র, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল আইডি, বয়সের প্রমাণপত্র এবং আয়ের শংসাপত্র জমা দেওয়া লাগে।
  • পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হয় ২ লক্ষ টাকার মধ্যে।

আরও পড়ুন: ছ’মাস ধরে নিখোঁজ মেয়ে, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অপেক্ষায় অসহায় বাবা

তবে এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীদের সাইবার ক্যাফেতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। উক্ত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তথ্য সরাসরি ডিজিশক্তি পোর্টালে আপলোড করে যাচাই করেই এই সুবিধা দিয়ে থাকে।