বিরিয়ানিতে এসব কী! আসানসোলে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের অভিযানে ধরা পড়ল চঞ্চল্যকর দৃশ্য

Published:

Food safety drive at Asansol

অনন্যা সরকার, পশ্চিম বর্ধমান: খাদ্যের গুণমান ও সুরক্ষা (Food Safety) নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরই আসানসোল জুড়ে একাধিক খাবারের দোকানে পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছেন। আর সেই তল্লাশি থেকেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফাস্টফুডের দোকান থেকে বাসি মাংস, ক্ষতিকারক কৃত্রিম রঙ উদ্ধার হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন এরকম এমন খাবার খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, ক্রেতাদের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। অভিযান চলাকালীন বেশ কিছু সন্দেহজনক খাবার নষ্ট করে দেওয়া হয়। পাশপাশি, গুনমান পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

আসানসোলের খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার

আসানসোল শিল্পাঞ্চলে খাদ্য সুরক্ষা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা শুক্রবার শহরের প্রায় ১০টি ছোট-বড় রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে আচমকা হানা দেন। আসানসোল পৌরনিগম ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ প্রয়াসে খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক প্রসেনজিৎ বটব্যালের নেতৃত্বে ভগৎ সিং মোড় থেকে জুবিলি মোড় পর্যন্ত চলে এই তল্লাশি অভিযান।

অভিযানের সময় আধিকারিকরা বিভিন্ন দোকানের খাবারের গুণমান, খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন। তদন্তে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় খাবারের দোকানে চরম অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র উঠে এসেছে। দেখা যায় বেশ কিছু দোকানের প্রয়োজনীয় ফুড লাইসেন্স নেই। কিছু দোকান থেকে উদ্ধার হয়েছে কয়েক দিনের পুরনো রান্না করা মুরগির মাংস, অপরিষ্কার ফ্রিজে মেয়াদোত্তীর্ণ দই এবং বিরিয়ানি আলুতে ব্যবহার করা ক্ষতিকারক কৃত্রিম রঙ।

আরও পড়ুন: ঘাটালে “পুরুষ বিধবা”! ৫ বছর ধরে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন বৃদ্ধ, তদন্তে নামল প্রশাসন

মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অনুপযুক্ত ও অত্যন্ত ক্ষতিকারক এই সমস্ত খাবারগুলি বিলম্বে না করেই বাজেয়াপ্ত করে খাদ্য সুরক্ষার বিভাগের আধিকারিকরা। তারপর সেগুলিকে ডাস্টবিন ও নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, লাইসেন্স না থাকা ও নিয়ম লঙ্ঘনকারী রেস্তোরাঁর মালিকদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। সাফ বলে দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতে খাবারের গুণগত মান উন্নত না করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জনস্বার্থে আগামীদিনেও নিয়মিতভাবে এধরনের অভিযান চালানো হবে।

google button