জনগণরমন-র মতোই সমান মর্যাদা পেল বন্দেমাতরম, অসম্মান করলেই জেল-জরিমানা

Published:

Vande Mataram is same status as national anthem

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: জাতীয় সংগীত জনগণমন এর মতোই মর্যাদা পাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দেমাতরম (Vande Mataram)। এ কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ক্যাবিনেট বৈঠকে বন্দেমাতরমকে জাতীয় সংগীতের সমান মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাবে মিলল অনুমোদন। জানা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এবার বন্দেমাতরম জাতীয় সংগীতের সমকক্ষ সমস্ত রকম সুরক্ষা পেতে চলেছে। এমনকি এই গানের অবমাননা করলে তা জাতীয় সম্মানের অবমাননা হিসেবে ধরা হবে। হতে পারে কঠোর শাস্তিও।

বিজেপি নেতার তৎপরতায় বিরাট মর্যাদা পাচ্ছে বন্দেমাতরম

সাম্প্রতিক কিছু বছর আগেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গান বন্দেমাতরম নিয়ে বিশেষ আরজি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। তাঁর একেবারে স্পষ্ট আবেদন ছিল, দেশের প্রত্যেক স্কুল, কলেজ অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত জনগণমন ও বন্দেমাতরম উভয় গান গাওয়া হয়। ভারতের ইতিহাসের প্রতীক বন্দেমাতরম। কোনও নাগরিক যদি প্রকাশ্য এই গানের প্রতি অসম্মান করেন কিংবা অগ্রহণযোগ্য আচরণ করেন তবে সেটা সমাজবিরোধী কাজ হিসেবে ধরতে হবে।

বিজেপি নেতা তথা আইনজীবীর এমন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রর কাছে হলফনামা চেয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। পরবর্তীতে কথামতো কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জমা দেওয়া হলফনামায় জানিয়ে দিয়েছিল, “জনগণমন ও বন্দেমাতরম দুটিই জাতীয় স্তরের গান। তবে জাতীয় সংগীত হিসেবে বিবেচিত জনগণমন এর অসম্মান কিংবা এই গানের প্রতি অবিচার করলে এটি যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়, বন্দেমাতরমের ক্ষেত্রে তেমন কোনও শর্ত নেই।”।জাতীয় সংগীতের মতোই বন্দেমাতরম যাতে সমান মর্যাদা পায় সেই প্রস্তাব করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। অবশেষে সেই প্রস্তাবে মিলল অনুমোদন।

অবশ্যই পড়ুন: বাংলায় শুরু হবে ৯৮,৪৯৯ কোটির রেল প্রকল্পের কাজ! বিরাট পরিকল্পনা

গানের অবমাননা করলে হতে পারে জেল এবং জরিমানা

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বন্দেমাতরম পাস হয়ে যাওয়ায় এবার থেকে এটি জাতীয় সংগীতের মর্যাদা পাবে। অর্থাৎ প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে যদি কেউ এই গান গাওয়ার সময় তা প্রতিহত কিংবা এই গানের প্রতি অসম্মান প্রকাশ করেন সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির জেল অথবা জরিমানা কিংবা দুটোই হতে পারে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কেউ যদি একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করেন সেক্ষেত্রে আরও 1 বছরের জেল হবে তাঁর।