বাংলার স্কুলগুলিতে পিছিয়ে যাবে গরমের ছুটি? বড় দাবি শিক্ষকদের

Published:

Summer Vacation

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পালা চুকতেই স্কুল পড়ুয়াদের পরীক্ষা নিয়ে চর্চা শুরু হল। আসলে এপ্রিলে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়নি, কারণ, স্কুলে তখন ঢুকে পড়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces)। এদিকে এখন পরীক্ষা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গরমের ছুটি (Summer Vacation)। ক্ষুব্ধ শিক্ষকমহল। চিন্তায় অভিভাবকদের একাংশ।

নির্বাচনের জেরে থমকে গিয়েছিল পরীক্ষা

ভোটের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বেশ কয়েক জায়গায় কিছু কিছু স্কুল খুলছে। কিন্তু স্কুল খুললেও ক্লাস ঠিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। হিসাবমতো এপ্রিলের পরীক্ষার পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি, শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্বের কারণে ছাত্র ছাত্রীদের ঠিকমতো ক্লাস কিছুতেই হচ্ছে না বলে অভিযোগ। পড়াশোনার গতি একদমই নিম্নমুখী, এদিকে অগস্টের প্রথম সপ্তাহেই দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন হওয়ার কথা। খুবই চাপে স্কুল শিক্ষক এবং অভিভাবকরা।

গরমের ছুটি পিছিয়ে আগে হবে পরীক্ষা?

বিগত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, রাজ্যের স্কুলগুলোতে মে মাসের শুরুতেই গরমের ছুটি ঘোষণা হয়ে যায়। এমনকি এবারেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিসিয়াল ছুটির তালিকাতে জানানো হয়েছে মে মাসে মাত্র ৬ দিনের ছুটি থাকবে। আগামী সোমবার, ১১ মে থেকে গরমের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক সংগঠনগুলি ছুটির বদলে পড়াশোনার উৎকর্ষকেই প্রাধান্য দিতে চাইছেন। তাঁদের মতে, প্রয়োজনে সেই ছুটি পিছিয়ে দিয়ে আগে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যাতে দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন পরীক্ষার উপর কোনো প্রভাব না পড়ে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

আসলে গত মাসে অর্থাৎ এপ্রিলে প্রতিটি স্কুলে প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের কারণে সেই সময়ে বেশ কয়েকটি স্কুলে ঢুকে পড়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ফলস্বরূপ পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি। যদিও পরীক্ষার জন্য শিক্ষকেরা বহু চেষ্টা করেও প্রশাসনকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেবার। অবশেষে এ বার সেই পরীক্ষা হবেই। ইতিমধ্যেই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কারণ এখন প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন না নিলে দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের জন্য কোনও ভাবেই চার মাস পঠনপাঠনের সময় পাবে না পড়ুয়ারা।

আরও পড়ুন: কিছুক্ষণেই মুড সুইং আবহাওয়ার, দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় তুমুল বৃষ্টির আশঙ্কা

কোটালপুর মধুসূদন হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক অবনী পাত্র জানিয়েছে , “অভিভাবকদের সঙ্গে পরীক্ষার বিষয়ে কথা বলেছি। পরীক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে গরমের ছুটি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এদিকে পড়ুয়াদের পড়াশোনায় একের পর এক ক্ষতি হওয়ায় ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদার। তিনি বলেন, “বহু স্কুলে প্রথম সামেটিভ পরীক্ষা হয়নি। এখনও কিছু স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। এর পর গরমের ছুটি। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হল।”