প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনে (West Bengal Election 2026) বঙ্গ রাজনীতিতে চমকপ্রদ রান করল বিজেপি। ২০০-র বেশি আসন লাভ করে মুহূর্তের মধ্যে মমতা সরকারের গদি উল্টে দিল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। জেলায় জেলায় উড়ছে গেরুয়া ঝড়। বাংলার জনগণ প্রমাণ করে দিল যে আর প্রত্যাবর্তন নয় এবার দরকার পরিবর্তন। আর সেই কথা মাথায় নিয়েই খেজুরি (Khejuri) বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জিতলেন সুব্রত পাইক (Subrata Paik)। হতদরিদ্র চাষি থেকে হয়ে উঠলেন বিধানসভার নয়া মুখ।
বিপুল ভোটে জয়ী সুব্রত
পূর্ব মেদিনীপুরে খেজুরি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩২,৬৬৬ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের প্রার্থী তথা ব্যবসায়ী রবীনচন্দ্র মণ্ডলকে হারিয়ে এবার বিধায়ক হলেন বিজেপি প্রার্থী তথা পেশায় চাষি সুব্রত পাইক। জয়ের আনন্দে তুমুল উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী। ২০২৩ সালে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে তৃণমূলের হেভিওয়েট তথা প্রাক্তন বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডলকে হারিয়ে জেলা পরিষদ সদস্য হয়েছিলেন, আর এবার পুনরায় সেই জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিনি বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হলেন। যদিও তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল লালের মাধ্যমে।
বহু কষ্ট চালাতেন সংসার
সূত্রের খবর, সুব্রত পাইকের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁর একটি মাটির বাড়ি ছিল কিন্তু পরে সেটি ভেঙে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে স্ত্রী এবং ছেলেকে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ি থাকেন। পান এবং শান চাষ করেই যা অর্থ পাওয়া যায় তাই দিয়েই সংসার চলে তাঁদের। পারিবারিক সূত্রের খবর, সুব্রত পাইকের ছোট একটা জমি রয়েছে সেখানে পানের বরজ করেছেন। আর আগেই বাড়ির ৪৫ ডেসিমেল একটি চাষের জমি কিনেছিলেন, সেখানে ধান চাষ করেন। একমাত্র ছেলে সৌরভ বিএড পাশ। কিন্তু রাজ্যে কাজ না পাওয়ায় সংসারে হাল ধরতে বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে একটি সংস্থায় কাজ করেন। কিন্তু বাবা বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ার খবর শুনে খেজুরি ফিরে এসেছিলেন।
আদর্শ অটুট রাখার শপথ সুব্রতর
স্থানীয় বিজেপি সূত্রের খবর, খেজুরির বিজেপি প্রার্থী হিসাবে সুব্রত পাইকের নাম যখন ঘোষণা করা হয় তখন তিনি একদমই বিশ্বাস করতে পারেননি। বিজেপির এক সাংসদের ফোন পেয়ে কোনওরকমে জমির কাজ ফেলে দৌঁড়ে গিয়েছিলেন বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে। অবশেষে সেই তিনি এ বার প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। সুব্রতবাবু এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘‘কোনওদিনই ভাবিনি যে, মোদীজি আমাকে প্রার্থী করবেন। আমার পরিস্থিতি সকলেরই জানা। তবু এখন বিজেপির আদর্শ অটুট রাখার ব্যাপারে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।”
আরও পড়ুন: “জোর করে হাতে পায়ে ধরে তৃণমূলে এনেছিলেন মমতা” চাঞ্চল্যকর দাবি কবীর সুমনের
প্রসঙ্গত, বঙ্গ রাজনীতিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তৃণমূল কিংবা বিজেপি-র জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে অনেকেই কোটিপতি। কিন্তু তাঁদের ঠিক বিপরীতে অবস্থান করছেন এই সুব্রত পাইক। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের থেকে উঠে আসা খেজুরির এই পদ্ম বিধায়কের এই সংগ্রাম সত্যিই প্রশংসনীয়।










