“জোর করে হাতে পায়ে ধরে তৃণমূলে এনেছিলেন মমতা” চাঞ্চল্যকর দাবি কবীর সুমনের

Published:

Kabir Suman

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রত্যাবর্তন নয় পরিবর্তন ডেকে আনল বাংলার মানুষ। মমতার প্রতি আস্থা হারিয়ে এবার মোদি অমিত শাহের দেখানো পথে হাঁটবার ইচ্ছে প্রকাশ করল গোটা বাংলা। তাইতো জোড়াফুলের ১৫ বছরের শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দুই শতাংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতা দখল করল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। খুশিতে আত্মহারা সকলে। এদিকে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই সম্পূর্ণ পালটি খেলেন সঙ্গীত শিল্পী কবীর সুমন (Kabir Suman)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নাকি তাঁকে জোর করে তৃণমূলে নিয়ে এসেছেন। আর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমত শোরগোল পড়ে গেল রাজনৈতিক শিবিরে।

জোর করে তৃণমূলে নিয়ে আসেন মমতা!

বঙ্গের গেরুয়া ঝড়ে যখন তৃণমূলের সৈনিকরা কুপোকাত, তখন তৃণমূলকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ওই দলেরই সদস্য কবীর সুমন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সঙ্গীত শিল্পী জানান, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।” এখানেই শেষ নয় তিনি তৃণমূলের বাকি সদস্যদের ভাবমূর্তি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন।

তৃণমূলের কাজে খুশি নন সুমন

কবীর সুমনের (Kabir Suman) স্পষ্ট অভিযোগ, “আমি মনে করি, তৃণমূল সরকারের একাধিক ভুল হয়েছে, যেটা মানুষ ভালো চোখে নেয়নি। অন্যতম হল চাকরি, অসংখ্য মানুষ রাতারাতি বেকার হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে মমতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কী সব ঠিক কাজ করেছেন? উত্তর না, তিনি পারেননি। আমি এবার তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও অ্যাটিটিউডে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন সবুজসাথী, বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এসব কাজের পর হয়ত একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।”

মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে কী বললেন সুমন?

মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েও সরব হয়েছেন কবীর সুমন। তিনি জানান, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ বা রাজনীতি নিয়ে কোনওকিছুই খবর রাখি না। আমি ফেসবুকে মন্তব্য করি, কারণ আমি চাই তৃণমূল জিতুক। সিপিএম বা তৃণমূল আমলে মেয়েদের নিরাপত্তা কিন্তু সুনিশ্চিত ছিল। আমি আশা করব, নতুন সরকার যেন সেই ট্রাডিশন বজায় রাখবে।” এছাড়াও সাক্ষাৎকারে সুমন জানিয়েছেন, “ আগামী নির্বাচনগুলোতে আমি তৃণমূলকেই ভোট দেব। তবে সেরকম কোনও কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। তাঁদের জন্য গান বাঁধব। তাঁদের পাশে থাকব। রবীন্দ্রজয়ন্তীতে একটা অনুষ্ঠান আছে। কিন্তু আমার নিজের গানের অনুষ্ঠান মনে হয় আর হবে না।”

আরও পড়ুন: নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকার গঠনের রাস্তা সাফ! রাজ্যপালকে নোটিশ কমিশনের

নতুন সরকার বিজেপিকেও একাধিক শুভেচ্ছা জানিয়ে কবীর সুমন বলেছেন, “আমি তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাঁরা দরিদ্রের, পরিবেশের, পশু-পাখির পাশে থাকুন। সবুজের পাশে থাকুন, জলের পাশে থাকুন। এটুকুই বলতে চাই, আমি শুধু গান গাই না, আমার সঙ্গে চারজন বাজান, অনুষ্ঠান পেলে তাঁদের কিছু রোজগার হয়।” তাঁর এই সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যেভাবে সাক্ষাৎকারে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির গুণগান করলেন তাতেই একাংশের প্রশ্ন, তবে কি এবার সরাসরি নিজেকে বাম সমর্থক বলে ঘোষণা করলেন কবীর সুমন? অধরা জবাব।