সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সরকার (Government of West Bengal) বদল হয়েছে, তাও গদি ছাড়তে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের অবসান হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বাংলায়। এদিকে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৫শে বৈশাখ অর্থাৎ ৯ মে, ২০২৬-এ হতে পারে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ। যদিও চেয়ার আঁকড়ে বসে আছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। গদি না ছাড়লে কী হবে? কীভাবে নতুন সরকারের গঠন হবে? এখন এরকম নানা প্রশ্ন জাগছে। যদিও এরই মাঝে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ বাংলায় এসে পৌঁছাল। আর তারই সঙ্গে বাংলায় নয়া সরকার গঠনের পথ অনেকটাই পথ পরিষ্কার হয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলার রাজ্যপালকে বিশেষ নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্যপাল হলেন আর. এন. রবি। সি. ভি. আনন্দ বসুর স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি ১২ই মার্চ, ২০২৬-এ শপথ গ্রহণ করেন। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রাজ্যপালের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন কোনো রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। যাইহোক, এখন আর এন রবির কাছেই নির্বাচন কমিশনের তরফে নোটিফিকেশন এসে পৌঁছেছে। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার নতুন বিধানসভা গঠনের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালকে।
নির্বাচন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করেছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নতুন বিধানসভা গঠনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নতুন বিধানসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ বাংলায় এবার নতুন সরকার গঠন শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্রাক্তন সরকারের অভিযোগ, বিজেপি এবং কমিশন মিলে ভোট লুট করেছে। যদিও এই অভিযোগ নস্যাৎ করে কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ভোটদান থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পাহাড়, নদী, জঙ্গলের মেলবন্ধন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শেষ গ্রামে, যাবেন নাকি?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গদি না ছাড়লে কী হবে?
নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান বা নির্বাচনে হেরে যান, তবে তাঁর পদে বহাল থাকা সাংবিধানিকভাবে বৈধ থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে, রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারেন অথবা তাঁকে বিধানসভায় তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলে, রাজ্যপাল তাঁকে আস্থা ভোটের জন্য বলতে পারেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে, তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা যেতে পারে। বিধানসভায় অনাস্থা প্রস্তাবও আনা যেতে পারে। যদি এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তাহলে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন।










