বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: জেনজি আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে নেপালে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার (India-Nepal Relations)। 35 বছরের বালেন শাহ নেপালের অন্যতম কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। আর বালেন দায়িত্বে আসা মাত্রই ভারতের সাথে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে নেপালের। একপ্রকার নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি শর্মার পথ অনুসরণ করে ভারত বিরোধীতায় নেমেছেন বালেন। প্রতিবেশী বন্ধু দেশটিকে নিয়ে দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় এবার নিজের দেশেই বিরোধিতার শিকার হচ্ছেন শাহ।
ভারতকে নিয়ে বালেন শাহর দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
কমবেশি সকলেই জানেন, নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি 2024 থেকে 2025 সাল পর্যন্ত ভারত বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। নেপালের মানচিত্রে লিপুলেখ-কালাপানিকে যুক্ত করা থেকে শুরু করে ভগবান রামের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এমনকি ভারতের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের অভিযোগ তুলেছিলেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে নেপালের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
এবার কার্যত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে হেটেই ভারতের সাথে খানিকটা বিরোধিতা বাড়িয়ে নিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ। বালেন ভারত প্রসঙ্গে যে দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার মধ্যে প্রথমটি হল ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বসানো। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে 100 নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্যের উপর বাধ্যতামূলক শুল্ক আরোপ করেছেন। পণ্যের উপর নির্ভর করে এই শুল্কের হার 5 শতাংশ থেকে 80 শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে।
বলাই বাহুল্য, ভারত এবং নেপাল সীমান্ত কয়েক দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে পরিচয় পেয়ে যাচ্ছে। এই সীমান্ত দিয়ে মানুষ এবং পণ্য উভয়ই অবাধে যাতায়াত করে। সীমান্তবর্তী এলাকা গুলিতে বসবাসকারী নেপালি নাগরিকরা ভারতীয় বাজার থেকে নিত্য প্রয়োজন জিনিস থেকে শুরু করে ওষুধপত্র, বাসন, ইলেকট্রনিক্স থেকে বিয়ের নানান সামগ্রী কিনতেন। এর সবচেয়ে বড় কারণ নেপালের চেয়ে ভারতের বাজারে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা ছিল। তবে নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সীমান্ত এলাকাগুলিতে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: পাহাড়, নদী, জঙ্গলের মেলবন্ধন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শেষ গ্রামে, যাবেন নাকি?
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী ভারত সংক্রান্ত যে দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার সাথে সম্পর্কিত। আসলে, গত পহেলা মে ভারতের তরফে ঘোষণা করা হয় 2026 কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা আগামী জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এটি উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিরিপথ ও সিকিমের নাথুলা গিরিপথের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হবে। উভয় পথ দিয়েই 500 জন করে মোট 10টি করে দল তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে।
তবে গত 3 মে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিপুলেখের যে অংশ দিয়ে পবিত্র যাত্রা হয় সেটিকে নেপালের ভূমি হিসেবে দাবি করেন। একই সাথে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, লিপুলেখ নেপালের অংশ। তাই ওই অংশ দিয়ে ভারতের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার পরিকল্পনা মেনে নেওয়া হবে না! নেপালের নয়া প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের পরই প্রতিবেশী দেশটিতে শাহের বিরুদ্ধে নেপালের বিভিন্ন অংশে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল!










