অভিষেকের শান্তিনিকেতনে আর কড়া পাহারা নেই, পাততাড়ি গোটাচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীরা

Published:

Kolkata Police

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যে জেলায় জেলায় সাফল্য পেয়েছে পদ্ম শিবির (BJP)। দুই তৃতীয়াংশর বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। মুহূর্তের মধ্যে গুড়িয়ে দেওয়া হল তৃণমূলের ১৫ বছরের সরকারকে। যার ফলে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই অবস্থায় অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বাড়ির সামনে থেকে সরে গেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)।

নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করা হল

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছিল। আসলে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা করা হয়েছিল তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার ধীরে ধীরে সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হল। রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এর সামনে অতিরিক্ত যে সমস্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল, আজ তাঁদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। এমনকি পুলিশের যে কিয়স্ক ছিল তাও খালি করে দেওয়া হয়েছে।

মিলবে শুধু জেড প্লাস ক্যাটাগরির সুরক্ষা

সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরেও কমানো হয়েছে নিরাপত্তা। কালীঘাট রোড, ক্যামাক স্ট্রিটে সুরক্ষাতে কাটছাঁট করা হয়েছে। বাড়ির সামনে রাস্তার ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল, মঙ্গলবারই কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এর আগে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, সেই নিরাপত্তা এবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আর তাই আজ সকাল থেকেই সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধুমাত্র জেড প্লাস ক্যাটাগরির সুরক্ষা পাবেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: তৃণমূল পার্টি অফিসে মিলল অসংখ্য রেশন কার্ড, বর্ধমানে চরম চাঞ্চল্য

সুরক্ষা নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই গতকাল, মঙ্গলবার, বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তিনি লোক ভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন না। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনকে ‘ভিলেন’ বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা। তাঁর দাবি, কমিশনের সাহায্যে ১০০-র বেশি আসন লুট করা হয়েছে। মমতার দাবি, কমিশনের বিরুদ্ধে তিনি রাস্তায় নামবেন। রাস্তাতেই থাকবেন এবং ঘুরে দাঁড়াবেন। মমতার এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা।