৬ রাজ্য, ১৯ জেলা, ৮৩ লক্ষ মানুষের উপকারে ২৩,৪৩৭ কোটি বরাদ্দ করল রেল

Published:

Indian Railways

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ৫ রাজ্যের ভোট মিটতেই আরও বড় চমক দিল কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, ভারতীয় রেলের (Indian Railways) তরফে এবার ৬ রাজ্যের জন্য ২৩,৪৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হল। সরকার মঙ্গলবার রেল মন্ত্রকের প্রায় ২৩,৪৩৭ কোটি টাকার তিনটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন তালিকায় কোন কোন ৬ রাজ্য রয়েছে? তাহলে বিশদে জানয়ে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

২৩,৪৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রেল

সূত্রের খবর, এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে নাগদা-মথুরা, গুন্টাকাল-ওয়াড়ি এবং বুড়ওয়াল-সীতাপুর সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। সরকারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, রেললাইনগুলির বর্ধিত ধারণক্ষমতা যান চলাচলকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে, যার ফলে ভারতীয় রেল পরিষেবার পরিচালনগত দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

সবথেকে বড় কথা, এই মাল্টি-লাইন প্রকল্পগুলি পরিচালনাকে সুশৃঙ্খল করবে এবং যানজট কমাবে। এই প্রসঙ্গে বড় তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, এই রেল বিভাগগুলি অত্যন্ত ব্যস্ত রেলপথের অংশ এবং নতুন লাইনগুলি প্রধান শহর ও নগরগুলির মধ্যে চলাচলকে আরও নির্বিঘ্ন করবে। সরকার জানিয়েছে যে, বহুমুখী সংযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এর মাধ্যমে মানুষ, পণ্য ও পরিষেবার নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পগুলো ‘গতি শক্তি’-র অধীনে প্রণয়ন করা হয়েছে।

তালিকায় কোন কোন রাজ্য?

মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার ১৯টি জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পগুলি ভারতীয় রেল নেটওয়ার্কে প্রায় ৯০১ কিলোমিটার যোগ করবে, যার ফলে ৪,১৬১টি গ্রামের প্রায় ৮৩ লক্ষ মানুষ উন্নত রেল সংযোগ পাবে। এই প্রকল্পগুলি মহাকালেশ্বর মন্দির, রণথম্বোর জাতীয় উদ্যান, কুনো জাতীয় উদ্যান, কেওলাদেও জাতীয় উদ্যান, মথুরা, বৃন্দাবন এবং নৈমিষারণ্যের মতো প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি করবে।

আরও পড়ুনঃ ভারতকে নিয়ে দুই বড় সিদ্ধান্ত নেপালের প্রধানমন্ত্রীর, নিজের দেশে বিরোধিতা বালেন শাহর

এই রেলপথগুলো পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার মাধ্যমে কয়লা, খাদ্যশস্য, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ইস্পাত, লৌহ আকরিক, কন্টেইনার এবং সারের মতো পণ্য পরিবহন করা হয়। ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বার্ষিক অতিরিক্ত ৬০ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।