দাঙ্গা থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ থানার ওসি সহ ৫, থমথমে পরিস্থিতি বসিরহাটে

Published:

Basirhat Violence

সৌভিক মুখার্জী, ন্যাজাট: ফল প্রকাশিত হয়েছে গত পরশুদিন। সেখানে গো হারা হেরেছে রাজ্যের ১৫ বছরের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (West Bengal Election 2026)। তবে ভোট পরবর্তী হিংসায় এখন উত্তপ্ত গোটা রাজ্য। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গ, সব জায়গাতেই চলছে একের পরে হামলা। এবার উত্তর ২৪ পরগনার ‘শাহজাহানের গড়’-এ ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বসিরহাটের ন্যাজাটে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন থানার ওসি (Basirhat Violence)। এমনকি আরও চার পুলিশ কর্মী জখম। এ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

ন্যাজাটে গুলিবিদ্ধ থানার ওসি

সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটে ন্যাজাট থানার অন্তর্গত সারবেরিয়া-আগড়হাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বামনঘেরি এলাকায়। সেখানে এমনিতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ছিল। বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে চলছিল দফায় দফায় সংঘর্ষ। তবে এলাকায় টহল দিতে ন্যাজাট থানার ওসি এবং পুলিশের দল পৌছলে দাঙ্গাকারীরা হঠাৎ করে তাদের উপর গুলি চালায়। এমনকি দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি এবং গুলির লড়াই চলতে থাকে। আর সেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়েই গুলিবিদ্ধ হন থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েত। অভিযোগের তীর উঠছে তৃণমূল আশ্রিত গুণ্ডাদের দিকেই।

সূত্রের খবর, তাঁর হাতে গুলি লেগেছে। এছাড়াও রাজবাড়ী ফাঁড়ির কর্মী ভাস্বত গোস্বামী এবং একজন মহিলা পুলিশ কনস্টেবল সহ দু’জন সিআরপিএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সব মিলিয়ে পাঁচজন এই হামলায় আহত। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলকাতার এক নামিদামি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে এই ঘটনার পর ওই এলাকায় আরও বিপুল পরিমাণ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে রাতের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও সকালেও গা থমথমে অবস্থা।

আরও পড়ুন: নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকার গঠনের রাস্তা সাফ! রাজ্যপালকে নোটিশ কমিশনের

না বললেই নয়, এই এলাকা ‘শেখ শাহজাহানের গড়’ বলে পরিচিত। একাধিক দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়ে তাঁর। আর এখানে প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চলছে হামলা, মারধরের ঘটনা। নিউটাউন এলাকায় এক বিজয় মিছিল চলাকালীন তৃণমূল কর্মীদের মারধরের কবলে পড়ে বিজেপি কর্মী মধু মন্ডলের প্রাণ যায়। এমনকি বীরভূমের নানুরে বিজেপি কর্মীদের হাতে নিহত হন তৃণমূলের কর্মী আবির শেখ।