‘আপনাদের ঋণ শোধ করব’ তৃণমূলের উপর আক্রমণ নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের বহু হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করে অবশেষে নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে শুধু নন্দীগ্রাম (Nandigram) নয় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রীতিমত বিপুল ভোটে হারিয়েছেন ভবানীপুর (Bhowanipore) থেকেও। রাজ্য জুড়ে এখন শুধু বিজেপির জয়জয়কার। এমতাবস্থায় একদিকে যখন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বিজয় সভা থেকে কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি কড়া ভাষায় বিঁধলেন ঘাসফুল শিবিরকে।

কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ শুভেন্দুর

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পরেই বিভিন্ন জায়গা থেকে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুরের খবর প্রকাশ্যে আসছে। শুধু তাই নয় দুই পক্ষের গোষ্ঠীর মধ্যে মারপিটের খবর মিলছে তাই এবার এই নিয়ে সরব হলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ, বুধবার সকালে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি বিধায়ক বিজেপি কর্মীদের তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের রাজনীতি না করার আবেদন জানিয়ে বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব। তবে আমার আবেদন, শান্তি বজায় রাখুন। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, মানুষ তাকে কামড়ায় না। তাই আইন কেউ হাতে নেবেন না।”

নন্দীগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে বার্তা

বিজয় মিছিল নিয়ে নন্দীগ্রামের কর্মী-সমর্থকদের বিশেষ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী, তিনি বলেন, “৯ তারিখের পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে শান্তিতে বিজয় মিছিল করবেন। এখন দু’-তিনটে দিন বিজয়মিছিল করবেন না।” এছাড়াও শুভেন্দু বলেন, “আমি আমার কাজে সর্বদা একনিষ্ঠ থাকি সেই কারণে দুটো বিধানসভায় দল আমার উপর ভরসা করেছিল। আমি সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেছি। এ বার উন্নয়নের সময়। নন্দীগ্রামে নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, আইটিআই কলেজ হবে। আর যারা গুন্ডা, তাদের দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন।”

আরও পড়ুন: বারাসতের ‘সিরাজ উদ্যান’ এখন ‘শিবাজি উদ্যান’, বিজেপি এসেই বদলে দিল নাম

নন্দীগ্রামে এদিন শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘অত্যাচারিণী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “২০১১ সালের পরিবর্তনেও আমি ছিলাম, আর এবারের আসল পরিবর্তনেও আমিই রয়েছি। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কর্মীদের মুক্তি ও আইনি বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। ধৈর্য এবং সহ্য, এই দুই মন্ত্র নিয়ে আমি চলছি। আগামীর বিজেপি সরকার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী প্রতিটি মামলা খুলবে। আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা আমাদের সঙ্কল্পপত্র পূরণ করব। দুটি কেন্দ্রেই আমি জিতেছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি আসন ছাড়তে হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।”