সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন হঠাৎ করেই স্থগিতের ঘোষণা করেছেন (CJP Protest)। তাঁর আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে হতবাক বিরোধীরা। যদিও আবার তিনি তাঁর সমর্থকদের উৎসবের মরশুমে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর এবং ঘরে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? অভ্যন্তরীণ নাকি রাজনৈতিক কোনও কারণ?
কেন আন্দোলন থামানোর ঘোষণা করলেন অভিজিৎ দীপকে?
আসলে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নেহা বোরা এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এই আন্দোলন নিয়ে সম্প্রতি কিছু প্রশ্ন তোলেন এবং বাংলাদেশ আন্দোলনের উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন। যার ফলে সিজেপি নেতৃত্বদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে তাদের আন্দোলনের ওপর কোনও ষড়যন্ত্রের তকমা সেঁটে দেওয়া হতে পারে। এমনকি সাধারণ মানুষের মনে আন্দোলন নিয়ে সংশয় এড়াতেই আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কাকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। এমনকি তাঁদের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়িয়েছে আদালত। তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব জেল থেকে মুক্ত করানোর জন্য আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে সিজেপির তরফ থেকে। এমনকি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এর আগে জানিয়েছিল যে তাঁদের মুক্তি দিলে তাঁরা যে আবার আইন লঙ্ঘন করবে না এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। সেই দিক থেকে বিচার করেই আদালতের পরবর্তী শুনানির আগে আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অভিজিৎ।
আরও পড়ুন: হিন্দু পরিচয় দিয়ে প্রেমের ফাঁদ যুবকের, বরানগরে বহুতল থেকে ঝাঁপ তরুণীর, বাড়ছে রহস্য
অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এই আন্দোলনের প্রত্যাশিত জনসমর্থন না পাওয়ার কারণকেও সবচেয়ে বড় ফ্যাক্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে। ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও হাতেগোনা হাজার কয়েক মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। আবার অন্যদিকে ১৬ অক্টোবর কর্মসূচিতে সমর্থকদের চেয়ে বিরোধীদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়েছিল। তাই সব মিলিয়ে উৎসবের মরশুমে পরিবারকে সময় দেওয়ার কথা বলা হলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই হয়তো আন্দোলন স্থগিত করেছে ককরোচরা।










