পরিবার জানতোই না নিট কী! অভাব অনটনের মধ্যেই বড় সাফল্য রিকশাচালকের ছেলের

Published:

NEET Success

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দারিদ্রতা যে কখনও স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তা আবারও প্রমাণ করল অসমের কোকরাঝাড় জেলার তরুণ বিজিত রায়। আর্থিক অনটনের মধ্য থেকেও কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জেরে ২০২৬ এর নিট-ইউজি পরীক্ষায় ৫০২ নম্বর (NEET Success) অর্জন করে চিকিৎসক হওয়ার রাস্তাকে আরও একধাপ সহজ করল এই যুবক। এমনকি সবথেকে বড় কথা, তাঁর বাবা-মা জানতোই না যে নিট কী।

নিটে বড় সাফল্য অসমের যুবকের

জানা গিয়েছে, বিজিতের বাড়ি অসমের কোকরাঝাড় জেলার বালাজান তিনিয়ালি এলাকায়। তাঁর বাবা গোবিন্দ রায় একজন রিকশাচালক। দিন আনা দিন খাওয়া অবস্থা তাঁদের। সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারকে। এমনকি তাঁর বাবা নিজে রিকশা চালানোর দিনমজুরের কাজ এবং কৃষিকাজ করেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনায় কোনও রকম আপস করতে চায়নি তাঁর পরিবার।

অভাব অনটন সত্ত্বেও বিজিত নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, এবং ছোট ছোট তাঁর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বেশি ছিল। নিজের লক্ষ্য থেকে কখনও সরে যায়নি সে। সেই পরিশ্রমের ফল মিলেছে এবারের নিট পরীক্ষায়। ৫০২ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছে এই যুবক। তাঁর এই সাফল্য শুধুমাত্র তাঁর পরিবার নয়, বরং গোটা এলাকায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: শ্লীলতাহানি করত শ্বশুর, গোপনাঙ্গে ব্লেড চালাল পুত্রবধূ! দেখুন ভিডিও

তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, এই সাফল্যের পিছনে বিজিতের বাবা-মা থাকলেও শুরুতে তারা নিট পরীক্ষার গুরুত্ব বা গোটা প্রক্রিয়া বিশেষভাবে জানত না। তবুও তাঁরা ছেলের স্বপ্নকে সমর্থন জানান, এবং নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই সমস্ত ধরনের সহযোগিতা করেন। পরিবারের এই নিঃস্বার্থ সমর্থনই আজ বিজিতের কাছে সবথেকে বড় শক্তি, এবং সে সাফল্যের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। ফলপ্রকাশের পর বিজিত সকল ছাত্র-ছাত্রীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেয়। তাঁর কথায়, “নিয়মিত পড়াশোনা করো, আর কঠোর পরিশ্রম করো। নিজের উপর বিশ্বাস রাখার চেষ্টা করো। সাফল্য অবশ্যই একদিন আসবে।”