বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত আগস্টে ধুমধাম করে মক্কা চুক্তিতে সই করেছিল তুরস্ক, পাকিস্তান (Pakistan) এবং সৌদি আরব। চুক্তির শর্ত ছিল, ইসলামিক জোট বা মক্কা চুক্তিতে থাকা দেশগুলির কোনও একটি দেশের উপর যদি তৃতীয় পক্ষ হামলা চালায় সেক্ষেত্রে সেই হামলাকে বাকি বন্ধু দেশগুলিও নিজেদের উপর হওয়া হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে এবং তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তবে বিগত দিনগুলিতে বারবার সৌদি আরবে হুথিরা হামলা চালালেও ইসলামিক ন্যাটোর নিষ্ক্রিয়তা দেখেছে গোটা বিশ্ব। এমতাবস্থায়, এবার সৌদি আরব ভুলে পাকিস্তানকে নিশানা করলো ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা (Houthis)। সরাসরি পাক ভূখণ্ডে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিল তারা!
এবার পাকিস্তানে হামলা চালাবে হুথিরা?
সৌদি আরবের সাথে সংঘাতের মাঝেই হুথিদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে মক্কা চুক্তি বা ইসলামিক ন্যাটো। ঠিক সে কারণেই এবার সৌদি আরবের মক্কা চুক্তির দুই শরিক পাকিস্তান এবং তুরস্ককে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুথি নেতা আল-বুখাইতি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সৌদি আরবের সাথে যুদ্ধে কোনও দ্বিতীয় পক্ষ যেন হস্তক্ষেপ না করে। পাকিস্তান বা তুরস্ক যদি এই যুদ্ধে নাক গলায় তবে তাদের উপর সরাসরি হামলা চালানো হবে।
হুথি বিদ্রোহীরা একেবারে হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছে, ইয়েমেন এখনও পর্যন্ত আত্মরক্ষামূলক নীতিতে চলছে। তবে সৌদি আরবের সাথে সংঘাতে যদি ইসলামাবাদ বা আঙ্কারা যুক্ত হয় এবং আঘাত হানে তবে ছেড়ে কথা বলবে না ইয়েমেন। এই দেশে কোনও রকম বিদেশী শক্তির বাড়াবাড়ি মেনে নেওয়া হবে না। এক কথায় বলাই যায়, সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে যদি পাকিস্তান বা তুরস্ক হুথিদের পথে বাধা হয় বা তাদের উপর হামলা চালাতে যায় সেক্ষেত্রে তারাও সর্বশক্তি দিয়ে ইসলামাবাদ এবং আঙ্কারার ভূখণ্ডে আঘাত হানবে।
Yemen’s Houthi movement has reportedly warned that if Pakistan or Türkiye attacks Yemen, it could target Islamabad and Istanbul. The message also reportedly threatens to restrict Pakistani commercial vessels from passing through the Bab el-Mandeb Strait.#pakistan pic.twitter.com/u1BLvuawmS
— @Sanatana Dharma 🙏🙏 (@dhananjaykaturi) September 20, 2026
আরও পড়ুন: রাশিয়ার উপর ১০০০ ড্রোন দিয়ে ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ চালাল ইউক্রেন
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই সৌদির উপর ক্রমাগত হামলা চালানো শুরু করে হুথি বিদ্রোহীরা। এদিকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তা পূরণ করতে পিছিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে তারা হুথিদের সাথে সংঘাতে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা করছে না। এমতাবস্থায় বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ কার্যত খুলে যাওয়ায়, সেটা বুঝেই সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল ইসলামাবাদ, আর তাতেই সবটা বুমেরাং হয়ে নিজেদের দিকে ঘুরে গেল।










