বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারত এবং আফগানিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই (India’s Friend Country)। এই প্রতিবেশী দেশের পাশে চিরকালই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত। তবে বর্তমান সময়ে সেই দেশের অবস্থা অত্যন্ত বিপদজনক। দারিদ্রতা এবং খাদ্য সংকটের সাথে লড়ছে আফগানিস্তানের মানুষজন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, আফগানিস্তানের বহু পরিবার বাঁচার জন্য তাদের সন্তানদের বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে প্রায় 47 লাখ মানুষ অনাহারে ভুগছেন। দিনের পর দিন তাঁদের খালি পেটে দিন গুজরান করতে হচ্ছে।
প্রবল খাদ্য সংকটে ভুগছেন আফগানরা
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানের ঘোর প্রদেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। প্রতিদিন সকাল হলেই শয়ে শয়ে মানুষ কাজের সন্ধানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। বিবিসির এক রিপোর্ট অনুযায়ী, 45 বছর বয়সী জুমা খান জানিয়েছেন, গত দেড় মাসে তিনি মাত্র তিন দিন কাজ পেয়েছেন। তাঁর কথায়, সন্তানরা টানা তিন দিন ধরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে রয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছ খাবার কেনার জন্য টাকা চাইতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে আরেক ভুক্তভোগী রাবানি নামক এক শ্রমিক জানিয়েছেন, তিনি যখন জানতে পেরেছিলেন তাঁর ছেলেমেয়েরা দুদিন ধরে না খেয়ে রয়েছে, তাঁর মনে হয়েছিল এসব শোনার পর আর বেঁচে থাকার কোনও মানে হয় না। অন্যদিকে খাজা আহমেদ নামক এক বৃদ্ধ জানিয়েছেন, তাঁকে কেউ কাজ দেয় না। কাজ না করতে পারায় পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুধার্ত রয়েছে। কোথাও পুরনো রুটি বিতরণ করার খবর পেলে আফগানিস্তানের মানুষজন লাইন দেয়।
অবশ্যই পড়ুন: বার্ধক্য ভাতা, ফ্রি চিকিৎসা সবই এক ছাদের তলায়! জন ভাগীদারি অভিযান রাজ্য সরকারের
জানা যাচ্ছে, আফগানিস্তানের গ্রামগুলির পরিস্থিতি আরও বেদনাদায়ক। এ নিয়ে আব্দুল রশিদ আজিম জানিয়েছেন, তিনি তাঁর 7 বছর বয়সী জমজ কন্যাদের বিক্রি করতে তৈরি। তবে বাচ্চাদের খাওয়ার না পাওয়ার প্রসঙ্গে মুখ খোলেনি তিনি। বিবিসির একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাঈদ আহমেদ নামক এক বাবা তাঁর 5 বছর বয়সী মেয়ে শাইকাকে আত্মীয়র কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। জানা যায়, ওই শিশুটির পরিশিষ্ট এবং লিভারের রোগ ছিল। সব মিলিয়ে বলাই যায়, তীব্র খাদ্য সংকট এবং দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারতের বন্ধু দেশ আফগানিস্তান।










