ভারতের পাশেই মিলল ১১ হাজার ক্যারেটের বিরাট চুনির হদিশ, দাম কত জানেন?

Published:

Myanmar Ruby Discovery

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারে যখন সেনা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর লড়াইয়ে আকাশ-পাতাল কাঁপছে, ঠিক তখনই মাটির বুক চিরে উঠে আসলো এক আশ্চর্য রত্ন (Myanmar Ruby Discovery)। হ্যাঁ, দেশের বিখ্যাত মোগোক অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিশাল আকারের রুবি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবলমাত্র আকারের কারণে নয়, বরং এর গুণগত মানের জন্য এর দাম কয়েকশো কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

১১ হাজার ক্যারেটের বিশাল ভাণ্ডার

খননকারী দল জানাচ্ছে যে, উদ্ধার হওয়া ওই রুবিটির ওজন আনুমানিক ২.১ কেজি। আর পরিমাপের হিসেবে দেখতে গেলে এটি ১১ হাজার ক্যারেটের থেকেও বেশি। মিয়ানমারের ইতিহাসে এটি এতদিন পর্যন্ত পাওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম চুনি। এর আগে ১৯৯৬ সালে ২১,৪৫০ ক্যারেটের একটি বিশাল পাথর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু নতুন এই রুবির স্বচ্ছতা আর উজ্জ্বল্য আগের সমস্ত রেকর্ডকে একেবারে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

সিবিএস নিউসের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই রুবির রং অনেকটা বেগুনি লাল, যাতে হালকা হলদেটে আভা রয়েছে। আর পাথরটি এখনও কাটা বা পালিশ করা হয়নি। কিন্তু এর স্বাভাবিক উজ্জ্বল্য এবং স্বচ্ছতা দেখে রত্ন বিশেষজ্ঞরা সত্যি মুগ্ধ। তাঁদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল প্রকৃতির। আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা আকাশছোঁয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিকেলের পর কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ঝেঁপে বৃষ্টি, আবহাওয়ার খবর

বলে রাখি, মিয়ানমার বিশ্বের বৃহত্তম চুনি উৎপাদক দেশ। পৃথিবীর মোট চুনি চাহিদার আনুমানিক ৯০ শতাংশই এই দেশ মেটায়। আর এই বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হল মোগোক অঞ্চল। এপ্রিল মাসে মাঝামাঝি সময় যখন মিয়ানমারে নববর্ষের উৎসব কাটছিল, ঠিক তখনই এই খবরটি সামনে আসে। কিন্তু এই আবিষ্কারের পিছনে একটি অন্ধকার দিক রয়েছে। কারণ, মোগোক অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধের কবলে। ২০২৪ সালের শুরুতে এই এলাকাটি তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি দখল করে নিয়েছিল। আর পরবর্তী সময়ে চিনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও এলাকাটি পুনরায় সেনাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই সমস্ত রত্ন বিক্রির টাকা দেশের উন্নয়ন নয়, বরং যুদ্ধের অস্ত্র কিনতে আর সেনাদের শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।