সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (West Bengal SIR) বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) দেওয়া পরিসংখ্যানে অসংগতি। কমিশন জানিয়েছিল যে, সারা রাজ্যে মোট ১৬০৭ জন আবেদনকারীর নাম তালিকা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম একাই ১৭১৭টি আবেদনের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
পরিসংখ্যানে বিরাট ফারাক
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রেকর্ড অনুযায়ী, পুরো রাজ্যে ১৬০৭টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ৫ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ১৭১৭টি মামলার শুনানি করেছেন বলে রিপোর্ট। যার মধ্যে তিনি ১৭১৭ জন নাগরিকের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, যদি একটি ট্রাইবুনাল থেকেই ১৭১৭টি নাম ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে বাকি ১৮টি ট্রাইবুনালের রায়ে কত হাজার মানুষের নাম তালিকায় ফিরে আসার কথা ছিল? সেই তথ্য কমিশনের রেকর্ডে নেই।
কিন্তু হ্যাঁ, গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ট্রাইবুনাল থেকে হঠাৎ করে ইস্তফা দেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি একে তাঁর ব্যক্তিগত কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এই স্পর্শকাতর সময়ে তাঁর পদত্যাগ প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জটলা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেননি।
এদিকে ফারাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মোতাব শেখের মামলাটি এই ঘটনায় একটি বিরাট উদাহরণ তা বলা যায়। কারণ, ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপতি শিবজ্ঞানমের ট্রাইবুনালের শুনানি চলাকালীন দেখা যায় যে, মোতাব শেখের কাছে বৈধ পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত ডকুমেন্ট ছিল। তবে ট্রাইবুনাল স্পষ্ট জানায় যে, তদন্ত প্রক্রিয়ার সময় এই ডকুমেন্টগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। সেই সূত্রে তিনি পরে তালিকায় নাম ফিরে পান আর নির্বাচনে জয়ী হন।
আরও পড়ুন: শুভেন্দুর শপথে জনজোয়ার ব্রিগেডে, গভীর নিস্তব্ধতা মমতার কালীঘাটে
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে প্রথম দফার ভোটের আগে ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ২৭ এপ্রিল ট্রাইবুনাল যে নামগুলি মঞ্জুর করে দেবে, তাদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা হবে। কিন্তু কমিশন জানিয়েছিল, প্রথম দফায় ১৪৯ জন আর দ্বিতীয় দফায় ১৪৪৮ জনের নাম মঞ্জুর হয়েছে। তবে বাতিল হওয়া ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে বড় একটি অংশ আইনি লড়াইয়ের সুযোগ বা সময় পাননি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।










