ভারতে দোষ চাপিয়ে লাভ নেই! ২২% কমছে সেচের জল, বড়সড় খাদ্য সংকটের মুখে পাকিস্তান

Published:

Crisis Pakistan

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চলতি বছর বড়সড় জল সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে পাকিস্তান সরকার (Pakistan)। পাক সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাকিস্তানের পাঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশে কৃষি কাজের জন্য সেচের জলের পরিমাণ 22 শতাংশ কমে যেতে পারে। যার ফলে পশ্চিমের দেশে গম উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তার উপর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বলে রাখা প্রয়োজন, জল সংকট (Water Crisis) বা খাদ্য সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হলেও এর জন্য ভারতকে দায়ী করতে পারবে না পাকিস্তান!

জল সংকটের মুখোমুখি হতে চলেছে পাকিস্তান!

পাকিস্তানের সিন্ধু নদী ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ বা আইআরএসএ রবি মৌসুমে পাকিস্তানের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ পাঞ্জাব এবং সিন্ধুতে সেচের জল 22 শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এই মৌসুমে পাকিস্তানের ওই দুই প্রদেশে মূলত গম থেকে শুরু করে বার্লি, সরষে এবং ছোলার চাষ হয়ে থাকে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের রিপোর্ট বলছে, আইআরএসএ যে পূর্বাভাস দিয়েছে তা থেকে বোঝাই যাচ্ছে খুব শীঘ্রই পাকিস্তানের দুই গুরুত্বপূর্ণ কৃষি প্রধান রাজ্য পাঞ্জাব এবং সিন্ধুর ফসল উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ পাকিস্তানের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের অন্তত 80 শতাংশ কৃষিকাজ সিন্ধু অববাহিকার সেচ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। ফলে পশ্চিমের দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই নদী ব্যবস্থার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইআরএসএ-র তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাকিস্তানের দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বা প্রদেশ পাঞ্জাব এবং সিন্ধুতে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টিকেই পাকিস্তানের জল সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ অবশ্য বারবার পাকিস্তানে জল সংকটের কারণে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপকে দায়ী করেছেন। তবে বলে রাখা প্রয়োজন, সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি স্থগিত করে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারত পাকিস্থানে জল সরবরাহ পুরোপুরি আটকে দিয়েছে। বরং পাকিস্তানের সাথে এই বিশেষ চুক্তির অধীনে ভারত এখন আর বাধ্যবাধকতাগুলি পূরণ করছে না।

আরও পড়ুন: ‘যন্তর মন্তর পুনরুদ্ধার করব’ সৌরভদের তিহার জেলে পাঠানোর খবর পেতেই গর্জন রাহুলের

এবার আসা যাক আসল প্রসঙ্গে। আসলে ভারত সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি স্থগিত করে দেওয়ার জন্য পাকিস্তান জল সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে না। বরং ডনের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, নদীতে জলের প্রবাহ কমে যাওয়া, জলাধারে জল ধারণের পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকা এবং প্রধান অবকাঠামো প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ার কারণে পাকিস্তানে 2026-27 রবি মৌসুমে সেচের জলের 22 শতাংশ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাতে পশ্চিমের দেশে শুরু হতে পারে খাদ্য সংকট!

google button